মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আরও সচেতনতা দরকার: রাষ্ট্রপতি

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ মাদক ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আরও জনসচেতনতা সৃষ্টির বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিন।  তিনি বলেছেন, মাদক, মানব পাচার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আরও ব্যাপক জনসচেতনতা দরকার।  সচেতনতা, সুদৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এই অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

শুক্রবার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’ আয়োজিত ‘মানবাধিকার দিবস- ২০২১’ উপলক্ষে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনে এক আলোচনায় বঙ্গভবন থেকে যুক্ত হয়ে তিনি একথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মানবপাচার ও মাদকের ভয়াবহতা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।  মাদকের ছোবলে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে।  আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এ সব থেকে দূরে রাখতে হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব থেকে দূরে থাকার দিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা টিকটক, লাইকির লোভনীয় ফাঁদে পা দিয়ে মানব পাচারের শিকারে যেন পরিণত না হয় সেদিকে নজর দিতে হবে।  তারা যাতে কিশোর গ্যাং এর মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকে সে বিষয়ে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে।

দেশে নারী উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।  নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও সমান ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।

Manual2 Ad Code

রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লংঘনের শিকার উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, নিজের দেশে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার সুরক্ষা ও নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের জন্য সম্মিলিত উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

Manual1 Ad Code

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দেশের মানুষের মানবাধিকারের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি প্রধান সংস্থা হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই কমিশন জনগণের অধিকার সুরক্ষায় আরও দৃশ্যমান অবদান রাখবে।  জনসাধারণ যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে এবং মানবাধিকার কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কমিশনকে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সামগ্রিক কার্যক্রম আরও জোরদার করার ও আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি।

Manual3 Ad Code

মানবাধিকার সুরক্ষায় জাতীয় মানবাধিকার কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে অভিহিত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘নারী, শিশু, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, দলিত, হিজড়া, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও অন্যান্য ভুক্তভোগীদের মানবাধিকার সুরক্ষায় এ কমিশনকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন- স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহিদদের, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহিদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণকে, যাদের অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাসিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবীর, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী  এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ বক্তব্য রাখেন।

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code