

নওগাঁ প্রতিনিধি
নওগাঁর মান্দায় রাতের অন্ধকারে মৎস্যজীবী পরিবারের কয়েক শত নৌকা ভাংচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ ই এপ্রিল) রাতে উপজেলার বিল আন্দাসুরা বিলে অবস্থিত মৎস্যজীবীদের ৫ শতাধিক পরিবারের নৌকা, খলিশান (ভ্যাড়) ভাংচুরসহ মাছ ধরার জাল-দড়ি নষ্ট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই এলাকার প্রভাবশালী ব্যক্তি আলতাজ হোসেনের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার ভাঁরশো ইউপি আ.লীগের সভাপতি।
জানাগেছে, বিল আন্দাসুরার পাশের্^ চাকদহ, ভেড়ি দূর্গাপুর ও খাগড়া গ্রামের প্রায় ৫ শতাধিক পরিবারের প্রায় সাড়ে ৪ হাজার লোকজনের বসবাস। তাদের একমাত্র ভরসা এই বিল। এই বিলে মাছ আহরণ করে তারা জীবিকা নির্বাহ করে থাকেন। তাদের শেষ ভরসার প্রতিক নৌকা সেটিও ভেঙ্গে দিয়েছে প্রভাবশালী ব্যাক্তি আলতাজ ও তার বাহিনী।
স্থানীয় মৎস্যজীবী আব্দুল গাফফার, শফিউল ইসলাম, মোহাম্মদ আলী ও আব্দুস সালামসহ আরোও অনেকে জানান, দীর্ঘদিন থেকে প্রভাবশালী আলতাজ হোসেন তার বাহিনী নিয়ে আমাদের মাছ শিকারে বাধা দিয়ে আসছিলেন। বৃহস্পতিবার (১৬ ই এপ্রিল) সকালে আমরা মাছ আহরণের জন্য বিলে গেলে আমাদেরকে বিল থেকে উঠিয়ে দেয়। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার রাতেই তার বাহিনীর লোকজন দিয়ে রাতের অন্ধকারে আমাদের মৎস্য আহরণের নৌকা, খলিশান, জাল-দড়ি ভেঙ্গে-ছিড়ে নষ্ট করে দেয়।
তারা আরোও জানান, উপজেলার সব বিল উন্মুক্ত থাকলেও আন্দাসুরা বিল অন্য এলাকার (বিল উৎরাইল মৎস্য সমবায় সমিতির) ব্যানার ব্যবহার করে প্রভাবশালী আলতাজ হোসেন সরকারীভাবে লিজ নিচ্ছেন। এরপর মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে বিক্রি করে ফায়দা লুটছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের দাবী উপজেলার অন্যসব বিলের মত উন্মুক্ত করে মাছ আহরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হোক। অথবা বিল ধারের ৩টি গ্রামের আন্ধাশুরা মৎস্য সমবায় সমিতির সদস্যদের মাঝে বিল লিজ দিয়ে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করার জন্য দাবী জানান।
এব্যাপারে অভিযুক্ত আলতাজ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভাংচুরের ঘটনার সাথে আমি ও আমার লোকজন সম্পৃক্ত নয়। একটি মহল রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য আমার পিছনে উঠে পড়ে লেগেছে।