মায়ের প্রতি আবু হুরায়রা রা.-এর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা যেমন ছিল

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual7 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: তার পরিবারে একমাত্র মা ছিল আপনজন। মায়ের প্রতি তার ভক্তি, ভালোবাসা ও টান ছিল অন্যরকম।

আবু হুরায়রা রা.-এর মা অনেক পরে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মায়ের ইসলাম গ্রহণ না করার বিষয়টি নিয়ে অস্থির ছিলেন তিনি। ইসলামের দিকে আহ্বান করার কারণে মায়ের কাছে অনেক বকাঝকা শুনতে হয়েছিল তাকে।

Manual7 Ad Code

এ বিষয়ে আবু কাসীর রহ. থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেছেন, আমি আমার মাকে ইসলামের প্রতি আহ্বান জানাতাম। তখন তিনি মুশরিকা ছিলেন। একদিন আমি তাকে ইসলাম কবুলের জন্য আহ্বান জানালাম। তখন তিনি রাসুল সা. সম্পর্কে আমাকে এমন কথা শোনালেন যা আমার কাছে খুবই অপ্রীয় ছিল। আমি কাঁদতে কাঁদতে রাসূল সা.-এর কাছে এলাম।

আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আমি আমার মাকে ইসলামের দাওয়াত দিয়ে আসছিলাম আর তিনি অস্বীকার করে আসছিলেন। এরপর আমি তাকে আজ দাওয়াত দেওয়ায় তিনি আমাকে আপনার সম্পর্কে এমন কথা শোনালেন তা আমি পছন্দ করি না। সুতরাং আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন তিনি যেন আবু হুরায়রার মাকে হেদায়েত দান করেন।

তখন রাসূল সা. বললেন, হে আল্লাহ! আবু হুরায়রার মাকে হেদায়েত দান কর। নবীজি সা.-এর দোয়ার কারণে আমি খুশি মনে বেরিয়ে এলাম।

যখন আমি আমাদের ঘরের দরজায় পৌঁছলাম, তখন তা বন্ধ দেখতে পেলাম। আমার মা আমার পায়ের আওয়াজ শুনতে পেলাম। তিনি বললেন, আবু হুরায়রা একটু দাঁড়াও।

আবু হুরায়রা বলেন, তখন আমি পানির কলকল শব্দ শুনছিলাম। তিনি বললেন, এরপর আমার মা গোসল করলেন এবং গায়ে চাদর পরলেন আর তড়িঘড়ি করে দোপাট্টা ও ওড়না জড়িয়ে নিলেন। এরপর ঘরের দরজা খুলে দিলেন।

এরপর বললেন, হে আবু হুরায়রা! আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে আল্লাহ ব্যতীত কোনো ইলাহ নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মদ সা. তার বান্দা ও রাসুল।

আবু হুরায়রা বলেন, তখন আমি রাসূল সা. খেদমতে রওনা হলাম। এরপর তার কাছে গেলাম এবং আমি তখন আনন্দে কাঁদছিলাম।

আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! সুসংবাদ গ্রহণ করুন। আল্লাহপাক আপনার দোয়া কবুল করেছেন। আবু হুরায়রার মাকে হিদায়াত দান করেছেন। তখন তিনি আল্লাহর শুকর আদায় করলেন ও তার প্রশংসা করলেন এবং ভালো ভালো কথা বললেন।

এরপর আমি বললাম, ইয়া রাসুলুল্লাহ! আপনি আল্লাহর কাছে দোয়া করুন, তিনি যেন আমাকে এবং আমার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় করেন এবং তাদের ভালোবাসা আমাদের অন্তরের বদ্ধমূল করে দেন।

এরপর রাসূল সা. বললেন, হে আল্লাহ! তোমার এই বান্দাকে এবং তার মাকে মুমিন বান্দাদের কাছে প্রিয় ভাজন করে দাও এবং তাদের কাছেও মোমিন বান্দাদের প্রিয় করে দাও। তিনি বলেন, এরপর এমন কোনো মোমিন বান্দা সৃষ্টি হয়নি, যে আমার কথা শুনেছে অথবা আমাকে দেখেছে অথচ আমাকে ভালোবাসেনি। (মুসলিম : ৬১৭১)।

মায়ের প্রতি আবু হুরায়রা রা.-এর শ্রদ্ধা ভক্তি ছিল অনন্য। তিনি সর্বদা জ্ঞানচর্চায় মগ্ন থাকতেন। আসহাবে সুফফায় পড়ে থাকতেন। এজন্য ক্ষুৎপিপাসা ছিল তার নিত্য সঙ্গী। প্রচণ্ড ক্ষুধার মধ্যেও তিনি মায়ের কথা ভুলে যাননি।

একদিন তিনি মসজিদের দিকে রওয়ানা হলেন। দেখলেন কিছু সাহাবী জটলা বেঁধে আছে। তিনি এগিয়ে গেলেন। তারা দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, আবু হুরায়রা কি জন্য এখানে এলে? তিনি বললেন, ক্ষুধায় আর টিকতে পারছি না। বের হলাম দেখি কি হয়! তারা বলল, ও আল্লাহ! আমরাও তো ক্ষুধার কারণে এখানে সমবেত হয়েছি। তখন সবাই মিলে হাজির হলো রাসূল সা,-এর দুয়ারে।

নবীজি সা. ঘর থেকে বেরিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলেন, এ মুহূর্তে তোমরা এখানে? তারা বলল, ইয়া রাসুলুল্লাহ! এই হলো আমাদের হালাত। তখন রাসূল সা. খেজুরের থালা হাতে নিয়ে সবার হাতে দুটি করে তুলে দেন। আর বলেন, খেজুর দুটো খেয়ে পানি পান করো। আজ আর সারাদিন তোমাদের ক্ষুধা লাগবে না।

Manual2 Ad Code

আবু হুরায়রা রা. হাত পেতে দুটো খেজুর নিলেন। কিন্তু খেলেন মাত্র একটি। অপরটি রেখে দিলেন। রাসূল সা. এমনিতেই আবু হুরায়ারাকে অনেক মহব্বত করতেন। বিষয়টি দেখে তিনি দেখে বললেন, আবু হুরায়রা কি করছ? তিনি বললেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ! বাড়িতে মা আছেন। এটা তাকে দেব।

Manual7 Ad Code

রাসূল সা.বললেন, না, না। দুটোই তুমি খাও। তোমাকে আমি আরো দুটো দিচ্ছি, তোমার মাকে নিয়ে দেবে। (তবাকাতে ইবনে সাদ ৪/৩২৮, তারীখে ইবনে আসাকির ৫৮/৪৪০)।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code