মা ও সহকর্মীদের কিছু কথা..

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual1 Ad Code

প্রয়াত চিত্রনায়ক সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিলেন। দীর্ঘ তদন্তের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এমনটাই জানিয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে তাকে হত্যার যে অভিযোগ করা হয়েছিল, এর কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সোমবার বেলা সাড়ে ১১টায় রাজধানীর ধানমন্ডিতে পিবিআই সদর দফতরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান সংস্থাটির প্রধান বনজ কুমার মজুমদার।

জানানো হয়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কারণে পারিবারিক কলহ আর স্ত্রী সামিরার কারণে মা নিলুফা চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরীকে ছেড়ে দূরে থাকার মানসিক যন্ত্রণায় ভুগেই অভিমানী সালমান শাহ আত্মহত্যার পথ বেছে নেন বলে তাদের মনে হয়েছে। এই তদন্ত নিয়ে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সেই সময় তার সহকর্মীদের অনেকে। তাদের কথাই তুলে ধরা হয়েছে এই লেখায়—

এই প্রতিবেদন মনগড়া : নীলা চৌধুরী

 

Manual4 Ad Code

প্রতিবেদনে যে সাক্ষীর কথা বলা হয়েছে সেগুলো সাজানো। বিপ্লব যে বলছে ইমনের (সালমান শাহ) বন্ধু। কিন্তু সে তো ইমনের বন্ধু ছিল না, সৌমিক ছিল সামিরার পুরনো প্রেমিক। আমার সন্তানের সঙ্গে তার তো কোনো বিরোধ ছিল না। এ সবকিছুই সাজানো নাটক, আমি মানি না, মানবো না। পিবিআই-এর তদন্তে আলামত বিশ্নেষণ করা হয়নি। রাজসাক্ষীর সঙ্গে কথা বলা হয়নি। এ তদন্ত প্রশ্নবিদ্ধ। পৃথিবীতে একমাত্র সালমান শাহ এমন একজন তারকা, তার জন্য ৪৬ ভক্ত আত্মাহুতি দিয়েছেন। সামিরাকে (সালমানের সাবেক স্ত্রী) ডিভোর্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার এক রাতের মধ্যেই ইমনকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

সালমান ও আমাকে নিয়ে গুজব ছড়াতে সবাই আনন্দ পেত : শাবনূর

সালমান শাহ’র সঙ্গে আমার সম্পর্ক নিয়ে পারিবারিক কলহ ছিল। এমন কথা কেন বলা হচ্ছে, তা আমি জানি না। সেটার আমি বিরোধিতা করছি। সালমান শুধুই আমার নায়ক, সহশিল্পী ও বন্ধু ছিল। একজন মৃত মানুষকে নিয়ে এত বছর পর এত বিশ্রী কথা বলার মানসিকতা কীভাবে সবার হয়, সেটাও আমি বুঝি না। ওর স্ত্রীর সঙ্গেও আমার একটা ভালো সম্পর্ক ছিল। এত বছর পর এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে জড়িয়ে নোংরা উক্তি করার ব্যাপারটি মোটেও ভালো লাগছে না। সালমান ও আমাকে নিয়ে গুজব ছড়াতে সবাই আনন্দ পেত। আমাকে নিয়ে যদি সমস্যা হতো, এত বছরে এতগুলো তদন্ত হলো, কখনো আমাকে নিয়ে কিছু বলা হয়নি। সালমান আর আমি অনেকগুলো ছবিতে কাজ করেছি। সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক হওয়াটা খুবই স্বাভাবিক। সালমান আর আমার মন-মানসিকতা মোটেও ও রকম ছিল না।

Manual1 Ad Code

সালমানের মৃতদেহে আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন দেখিনি : মৌসুমী

পিবিআইয়ের দেওয়া বক্তব্য শুনেছি। এটা কি সত্যি ছিল! পিবিআই তদন্ত করে তারপর রিপোর্ট দিয়েছে। আমি তাদের তদন্তকে সম্মান জানাই। তবে পাশাপাশি এটাও মানতে পারছি না, সালমান আত্মহত্যা করেছে। সালমানের মৃতদেহ যারা দেখেছেন, তারাও বিশ্বাস করেননি সালমান আত্মহত্যা করেছে। আপনি যদি কাউকে গুলি করে মারেন তাহলে তার দেহে গুলির দাগ থাকবে। কেউ গলায় দড়ি দিয়ে মরলে অবশ্যই গলায় দাগ থাকবে, চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যাওয়া কিংবা শিরাগুলোতে চিহ্ন থাকবে। সালমানের মৃতদেহে আত্মহত্যার কোনো চিহ্ন দেখিনি।

২৪ বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ নিয়ে আমাকে ঘুরতে হয়েছে : ডন

অবশেষে কলিজার বন্ধুকে হত্যার মিথ্যা অভিযোগ থেকে মুক্ত হলাম। আমি সবসময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ছিলাম। ২৪ বছর বুকের ভেতর বন্ধু হত্যার মিথ্যা অপবাদ নিয়ে আমাকে ঘুরতে হয়েছে। আমার যে ক্ষতি হয়েছে তার পূরণ কিছুতেই হবে না। সত্য কোনোদিন মিথ্যা হয় না। মিথ্যাকেও কোনোদিন জোর করে সত্যি বানানো যায় না। দেশের মানুষ জানত সালমান আমাকে কতটা ভালোবাসত। সালমানের মৃত্যুর পর আমার যে কতটা ক্ষতি হয়েছে, তা কেবল আমিই জানি। এটা আর কেউ উপলব্ধি করতে পারবে না।

শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি কখনো ওঠেনি : সোহানুর রহমান সোহান

এতদিন যে কাজটি কেউই পারেনি। সেটি পিবিআই করেছে। তারা যে সাক্ষাত্কারগুলো নিয়ে তদন্ত দিয়েছে তাতে সবকিছু ঠিক রয়েছে। তবুও আমার কাছে কিছুটা খটকা লেগেছে। যে চিরকুটটা তার পকেট থেকে পাওয়া গেছে সেটি এতদিন কেন পাওয়া যায়নি। আর শাবনূরের সঙ্গে বিয়ের বিষয়টি কখনো ওঠেনি। এটা যারা বলছেন সেটি বানোয়াট। তাদের মধ্যে বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। অনেকগুলো সিনেমায় তারা অভিনয় করেছে। সেই জায়গা থেকে বন্ধুত্ব সম্পর্কটা খুবই স্বাভাবিক। আর সালমান যে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে, সেটি আমি কখনো শুনিনি।

পাঁচটি কারণ হলো—

চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে তার অতিরিক্ত অন্তরঙ্গতা

স্ত্রী সামিরার সঙ্গে দাম্পত্য কলহ

বেশি আবেগপ্রবণ হওয়ার কারণে একাধিকবার আত্মহত্যার চেষ্টা

Manual6 Ad Code

মায়ের প্রতি অসীম ভালোবাসা, যা জটিল সম্পর্কের বেড়াজাল তৈরি করে অভিমানে রূপ নেয়

সন্তান না হওয়ায় দাম্পত্য জীবনে অপূর্ণতা

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code