

মিরসরাই (চট্টগ্রাম) :
মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চল (বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরে) তিন ফসলি ৭০০ একর কৃষি জমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়ার প্রতিবাদে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে জমির মালিক ও কৃষকসহ স্থানীয় এলাকাবাসী। উপজেলার ১১নং মঘাদিয়া, ১৩নং মায়ানী ও ১৬নং সাহেরখালী ইউনিয়নে প্রায় ১ হাজার মানুষের উপস্থিতিতে মঙ্গলবার (৩০ জুন) সকাল ১১টায় কাজিতালুক এলাকায় (সিপির দক্ষিণ পাশে) এই মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ কর্মসূচী পালন করা হয়। মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এসময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম, মিরসরাই থানা ওসি মজিবুর রহমান, স্থানীয় মঘাদিয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসাইন মাষ্টার উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন ভুক্তভোগী কৃষি জমির মালিক নুর হোসেন, রহিম উল্লাহ, আবু ছালেক মাষ্টার, হুদা মিয়া, মাইনুল আহসান রোকন, রবিউল হোসেন, আকলিমা আক্তার, মরিয়ম আক্তার সহ প্রমুখ।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ শিল্পাঞ্চল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর স্থাপনের এলাকার প্রায় ৩০ হাজার একর অকৃষি জমি এই অঞ্চলের মানুষ দিয়ে থাকে। গত বছরের ৩ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সে মিরসরাইয়ে সাংসদ ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন দক্ষিণ মঘাদিয়া কাজী তালুক গ্রামের ৬৫০ একর কৃষি জমি বেজা কর্তৃপক্ষের অধিগ্রহণের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে প্রধানমন্ত্রী তৎক্ষনাৎ ঘোষণা দেন, কোন প্রকার আবাদী জমি বা কৃষি জমি নতুন করে অধিগ্রহণ করা হবে না। কিন্তু গত কিছুদিন আগে দক্ষিণ মঘাদিয়া মৌজার ৭০০ একর তিন ফসলী জমি অধিগ্রহণের নোটিশ জারি করা হয়। এতে করে কৃষি জমির চাষাবাদের উপার্জনের উপর নির্ভরশীল প্রায় ১০ হাজার মানুষের বেঁচে থাকার অবলম্বন হারানো ভয়ে ভীত হয়ে উঠে।
বক্তারা আরো বলেন, কৃষিনির্ভর এলাকার এসব জমি কৃষকদের একমাত্র উপার্জনের উৎস। উপজেলার অন্যান্য এলাকার চেয়ে এই তিন ইউনিয়নের কৃষি জমিতে ধানসহ অন্যান্য ফসল বেশি উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতি বছর এই কৃষি জমিতে দুই থেকে তিন বার ফসল আবাদ করে এলাকার কৃষকরা
জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এই জমি অধিগ্রহণ করা হলে কৃষকরা না খেয়ে মরবে। তাই কৃষকদের জমি অধিগ্রহণ না করার জোর দাবি জানান বক্তারা।
এ ব্যাপারে মিরসরাই সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাশেদুল ইসলাম জানান, জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে করা হয় সেখানে ভূমি অফিসের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশের বার্তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পৌঁছে দেবো।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, ‘কৃষকদের মানববন্ধনের বিষয়ে জেনেছি। আমরা বিষয়টি যথাযথ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলে সেই অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহন করবো।