কেমন আছেন মিলানের বাংলাদেশীরা

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

বাংলাদেশের অগুনতি মানুষ একটু ভালো থাকা আর একটু ভালো রোজগারের আশায় বিদেশ–বিভুঁইয়ে পাড়ি জমান। তেমনই কয়েকজন বাংলাদেশি জানালেন তারা কেমন আছেন ইতালির ফ্যাশন রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর মিলানে। তাঁদের অধিকাংশই বৈধভাবে ইতালি গেছেন। আর একটি অংশ ঝুঁকি নিয়ে অবৈধ উপায়ে বহু দেশ, বহু পথ ঘুরে সেখানে পৌঁছেছেন। তবে দুই ধরনের প্রবাসীরাই ভালো আছেন।

Manual3 Ad Code

জানা যায়, যাঁরা বৈধ উপায়ে ১০-২০ বছর আগে গেছেন, তাঁদের অধিকাংশই হোটেল-বার-রেস্তোরাঁয় ভালো বেতনে কাজ করেন। কেউ কেউ এত দিনে নিজস্ব ব্যবসা-বাণিজ্য গড়ে তুলেছেন এবং গাড়ি হাঁকিয়ে চলেন। আর যাঁরা অবৈধ পথে গেছেন, তাঁরা জুতসই কাজ না পেয়ে হকারি করছেন। তাতেও দেশে নিয়মিত টাকা পাঠাতে পারেন।

ইতালির ফ্যাশন রাজধানী ও দ্বিতীয় বৃহত্তম জনবহুল শহর মিলানের প্রবাসীদের সঙ্গে আলাপ কালে এমনটা জানা গেছে।

Manual1 Ad Code

মিলানের গারিবলডি, কায়াচ্ছো, কালোফারনি, ক্রেসপি, ডোমোসহ কয়েকটি এলাকায় প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ইতালি সরকার যেমন বাংলাদেশিদের সহযোগিতা করে, তেমনি দেশটির জনগণও বেশ সহনশীল আচরণ করে। এমনকি যাঁরা অবৈধ পথে সেখানে গেছেন, তাঁদেরও পুলিশ ধরপাকড় করে না।

Manual5 Ad Code

তবে বৈধ কাগজপত্র তথা ভিসা না পেয়ে বাংলাদেশের অনেকেই ভারত, পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইরান, তুরস্ক, গ্রিস প্রভৃতি দেশ হয়ে মিলানসহ ইতালির বিভিন্ন শহরে গিয়ে পৌঁছান। এভাবে অবৈধ উপায়ে বিদেেশ যাওয়ার চেষ্টা করলে যেকোনো দেশেই ধরা পড়ার আশঙ্কা থাকে এবং অচেনা-অজানা পথে নানা বিপদ হতে পারে।

মিলানপ্রবাসীদের বেশির ভাগই গেছেন মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে। এর মধ্যে দেলোয়ার, কামাল, মজনু, আলমগীর, মামুন, সজীব, রমজান প্রমুখ প্রবাসী জানান, মিলান যেতে ব্যক্তিভেদে তাঁদের খরচ পড়েছে সাড়ে আট থেকে ১১ লাখ টাকা। জমানো টাকার পাশাপাশি ধারদেনা ও জমি বিক্রি করে তাঁরা মিলান গেছেন বলে জানান।

অবৈধভাবে যাওয়া কবির, রফিক, মজিদ ও রিপন এই চারজনও একই সুরে কথা বলেন। তাঁরা জানান, বিভিন্ন নাইট ক্লাবের সামনে ফুল, ডিসকো চশমা, বাঁশি ইত্যাদি বিক্রি করে মাসে বাংলাদেশের ৪০ থেকে ৭০ হাজার টাকার মতো আয় করেন। মেসে থাকা ও খাওয়া বাবদ খরচ হয় ২০-৩০ হাজার টাকা। তবে ইতালিয়ান ভাষা জানলে ও প্রশিক্ষণ থাকলে এক থেকে দুই লাখ টাকার সমান রোজগার করা যায়।

মিলানের মেয়রের কার্যালয়ের পররাষ্ট্র বিভাগের তিন কর্মকর্তা জিয়ান কারলা বোরেত্তি, আরনেস্তো রদ্রিগুয়েজ ও সিলভিয়া লা ফারলা আলোচনাকালে জানান, সার্বিকভাবে বাংলাদেশিদের নিয়ে তাঁরা মোটামুটি সন্তুষ্ট হলেও অবৈধভাবে যাওয়া লোকদের ব্যাপারে অসন্তুষ্ট।

কারলা বোরেত্তি বলেন, ইতালিতে এখনো অর্থনৈতিক সংকট চলছে। তাই কাজের সুযোগ কম। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়লে বাংলাদেশিরা আবার সুযোগ পেতে পারেন। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশিদের ইতালির ভাষা ও সংস্কৃতি শেখার আহ্বান জানান।
১৯৯৯ সাল থেকে সৈয়দ জামান সম্রাট ইতালিপ্রবাসী। তিনি বলেন, যাঁরা ইতালির ভাষা শিখেছেন, তাঁরা ভালো বেতনে কাজ পাচ্ছেন।

Manual5 Ad Code

ব্যবসায়ী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, দ্বিতীয় প্রজন্মের বাংলাদেশিদের কেউ কেউ ইতালিতে মূলধারায় চাকরি পান। ইতালি অভিবাসীদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করেন, প্রয়োজনে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।

আরেক প্রবাসী ব্যবসায়ী তোফায়েল আহমেদ খান তপু বলেন, বাংলাদেশিরা এখন দ্রুত ইতালির ভাষা শিখছেন, যাতে ভালো কাজ পাওয়া যায়।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code