

মেহেরপুর :
ভাষা সৈনিক নাজির হোসেন বিশ্বাস (৮৩) বয়সে মারা গেছেন।
আজ শনিবার (১৮ জানুয়ারী) বেলা ১ টা ১০ মিনিটের সময় তার নিজ বাড়ি সদর উপজেলার পিরোজপুর গ্রামে ইন্তিকাল করেন তিন।( ইন্না লিল্লাহি,,, ,, রাজিউন)।
নাজির বিশ্বাসের স্ত্রী ৪ পুত্র ও ৩ কন্যাসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রয়েছে।
ভাষা সৈনিক নজির হোসেন বিশ্বাস বেশ কিছুদিন যাবৎ বার্ধক্যজনিত কারনের নানা রোগে ভুগছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে সম্প্রতি তাকে মেহেরপুর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করা হয়। চিকিৎসার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে বাড়িতে নিয়ে আসেন পরিবারের লোকজন।
আজ দুপুরের দিকে তিনি আবারো অসুস্থ্য হয়ে পড়েন। পরিবারের লোকজন তাকে হাসপাতালে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এসময় তিনি মারা যান।
উল্লেখ্য মেহেরপুর জেলার দুই জন ভাষা সৈনিকের অন্যতম পিরোজপুর গ্রামের নাজির হোসেন বিশ্বাস আর নেই। অপর জন হলেন শহরের ইসমাইল হোসেন।
ভাষা সৈনিক নাজির হোসেন ১৯৫৩ সালের ২১ ফেব্রুয়ারী পালন করতে গিয়ে পুলিশের হাতে আটক হয়ে নির্যাতনের স্বীকার হন। এসময় তিনি কারাবরণ ১৯৫৫ সালে মেহেরপুর উচ্ছ ইংরেজি মডেল স্কুলের ছাত্ররা একুশে ফেব্রুয়ারী পালন করতে ক্লাস থেকে বেরিয়ে রাস্ট্র ভাষা বাংলার দাবীতে মিছিল নিয়ে শহরে বের শিক্ষকরা শত বাধা ও ভয়ভীতি দেখিয়েও একুশে ফেব্রুয়ারী উদযাপন বন্ধ করতে পারেননি। শিক্ষকদের আদেশ অমান্য করে একুশে ফেব্রুয়ারী রাস্ট্রভাষা বাংলার দাবীতে নাজির হোসেন বিশ্বাসসহ সামসুল আলা, গোলাম কবির, আবুল কাশেম, আঙ্গুর, কদম রসুল ও ইসমাইল হোসেনসহ ছাত্ররা মিছিল করে। এ অপরাধে উল্লেখিত ছাত্রদের রাতেই আটক করা হয়। পরে বিদ্যালয় থেকে তাদের বাসটিকেট দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। সে সময় নাজির হোসেন ছিলেন অষ্টম শ্রেনীর ছাত্র।
ভাষা সৈনিক নাজির হোসেনের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সরকারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন দোদুল, মেহেরপুর-২ ( গাংনী ) আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সাহিদুজ্জামান খোকন, জেলা প্রশাসক আতাউল গনি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম রসুলসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ শোক জানিয়েছেন।