

ডেস্ক রিপোর্ট
সোশাল মিডিয়ায় দেশ বিরোধী পোস্ট ঘিরে মঙ্গলবার রাতে মার মার পরিস্থিতি উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সদর বারাসতে । জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পাল্টা লাঠিচার্জ করে পুলিশ ৷ কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয় । জনতার ছোড়া ইটের আঘাতে র্যাফের এক জওয়ান-সহ বেশ কয়েকজন পুলিশকর্মী জখম হয়েছেন বলে খবর । পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে । ঘটনায় কয়েকজনকে গ্রেফতার । তদন্ত শুরু করেছে বারাসত থানার পুলিশ ।
পহেলগাম-কাণ্ডের বদলা নিতে অপারেশন সিঁদুর অভিযান শুরু করেছে ভারত সরকার । এই নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় ছড়াছড়ি ভারত-বিরোধী পোস্টের ! কেউ ভারতীয় সেনাবাহিনীর সাফল্যকে খাটো করে পোস্ট করছে সমাজমাধ্যমে । আবার কেউ দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়ে ‘মিম’ বানিয়ে পোস্ট করছে । প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় একটি কুরুচিকর পোস্ট করার অভিযোগ উঠল বারাসত টালিখোলা এলাকার বাসিন্দা নাজিম হোসেন ও তাঁর ছেলের বিরুদ্ধে । সেই পোস্টে পাকিস্তানের ‘জয়গান’ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ বাসিন্দাদের একাংশের । আর তাতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন তাঁরা ।
অভিযুক্ত বাবা-ছেলেকে গ্রেফতারের দাবিতে মঙ্গলবার রাতে পথে নামেন ক্ষুদ্ধ জনতা । শুরু হয় বারাসত-ব্যারাকপুর রোডে অবরোধ । চলে বিক্ষোভ-স্লোগানও । অবরোধের জেরে থমকে যায় গুরুত্বপূর্ণ এই রোডের যান চলাচল । খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে বারাসত থানার পুলিশ । তবে, সংখ্যায় কম থাকায় কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীদের কথার কোনও গুরুত্বই দেয়নি অবরোধকারীরা । এরপর র্যাফ ও কমব্যাট ফোর্স-সহ পুলিশের বিশালবাহিনী নিয়ে এসে ঘটনাস্থলে হাজির হন বারাসতের এসডিপিও অজিঙ্কা বিদ্যাগর অনন্ত ।
প্রথমে বুঝিয়ে অবরোধ তোলার চেষ্টা করেন তিনি । কিন্তু, তাতে কাজ না হওয়ায় শেষে জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ব্যাপক লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ । এতেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি । রাস্তার ওপারে গলির ভিতর থেকে পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি ইট ছুড়তে শুরু করে জনতার একাংশ । ইটের আঘাতে রক্তাক্ত হন র্যাফের এক জওয়ান । জখম হয়েছেন আরও কয়েকজন । এরপরেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটায় পুলিশ । গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশ-জনতা খণ্ডযুদ্ধে রীতিমতো পরিস্থিতি তপ্ত ছিল টালিখোলা এলাকা ৷ পরিস্থিতি শান্ত রাখতে এলাকায় মোতায়েন করা হয় পুলিশবাহিনী । ডেস্ক জেবি