যুদ্ধ নয়, শান্তি ও ভালবাসা চায় পূর্ব ইউক্রেনের মানুষ

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual4 Ad Code

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

Manual7 Ad Code

ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করছেন পূর্ব ইউক্রেনে রুশ বিচ্ছিন্নতাবাদী-নিয়ন্ত্রিত এলাকার বাসিন্দা ৬৫ বছরের লারিসা। পাশাপাশি গত আট বছর ধরে সংঘাত এবং যে কোনো মুহূর্তে রাশিয়ার আগ্রাসনের হুমকি মাথায় নিয়েই সাহসের সঙ্গে হাসিমুখে বাস করে যাচ্ছেন তিনি। পূর্ব ইউক্রেনের নভোত্রয়েত্স্ক ক্রসিং পয়েন্টে লম্বা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃদ্ধার সঙ্গে কথা হয় বিবিসির। এই রেখার দুই পাড়ের যুদ্ধ এরই মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে অন্তত ৩ হাজার বেসামরিক নাগরিক।

প্রচণ্ড ঠান্ডার মধ্যে উজ্বল নীল রঙের জ্যাকেট, গোলাপী জাম্পার এবং ম্যাচ করা উলের টুপি পরা লারিসা নিজের নামের শেষ অংশ বলতে রাজি নন। অনুমতিপত্র হাতে ধৈর্যসহকারে ইউক্রেন সরকার নিয়ন্ত্রিত অংশ থেকে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অংশে যেতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন তিনি। এখানে কী কী করতে হবে সবই তার নখদর্পণে। কারণ, প্রতি ছয় মাস পর পর তিনি এ কাজ করছেন। লারিসা বলেন, ‘আমাকে সেন্ট্রাল ইউক্রেনের দনিপরোতে একটি হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য যেতে হয়। এখন আমি দোনেত্স্কে আমার বাড়িতে ফিরছি।’

Manual1 Ad Code

নভোত্রয়েত্স্ক ক্রসিং পয়েন্টে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেক জন ৬৪ বছরের সিরহি। দারুণ সাজপোশাকে থাকা সিরহি বলেন, ‘চেকপয়েন্ট পার হওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে। আগে কোনো সমস্যা ছিল না। এখন যুদ্ধ বা এটাকে কী বলা যায় সেটার কারণে, সঙ্গে যোগ হয়েছে কোভিড, সব কিছু খুবই খারাপ হয়ে গেছে।’ বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত এলাকায় থাকা বয়স্কদের সরকার থেকে দেওয়া অবসর ভাতা নিতে সরকার নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যেতেই হয়। তবে সিরহি ভাতা নিতে নয়, বরং অন্য অনেকের মতো ঘুরতে এবং প্রিয়জনের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আমি উদ্বিগ্ন। এই যুদ্ধ নিয়ে আমি বিরক্ত, তাদের যুদ্ধ, রাজনীতিবিদদের যুদ্ধ। তারাই এটা করছে। জনগণের শান্তি প্রয়োজন।’ মুখ মাস্কে ঢাকা হলেও তার চোখে পানি ছলছল করছিল। সিরহিও দোনেত্স্কে তার বাড়িতে ফিরছিলেন।

বিপরীত দিক থেকে লাঠিতে ভর দিয়ে কাঁপা কাঁপা পায়ে হেঁটে আসছিলেন ৮১ বছরের সভেত্লানা। কংক্রিটের একটি ব্লকে বসার সময় তিনি প্রায় পড়ে যাচ্ছিলেন। তার স্বামী লিওনিড দৌড়ে এসে তাকে ধরেন। তিনি কোনোরকমে স্বামীকে ধরে পড়ে যাওয়া ঠেকান। অথচ, তাদের যাত্রা মাত্র শুরু হয়েছে। সভেত্লানা বলেন, ‘গত দুই মাসে এই প্রথম আমরা যাচ্ছি। আমরা আমাদের সন্তানদের দেখতে পারছি না। আমার নাতির জন্ম হয়েছে, কিন্তু এখনো আমরা তাকে দেখিনি। এখন আমরা তাকে দেখতে পাবো।’

Manual2 Ad Code

সশস্ত্র সেনা, ব্যারিয়ার, পরিচয়পত্র পরীক্ষা, নভোত্রয়েত্স্ক ক্রসিং পয়েন্ট যেন সত্যিকারের স্থায়ী কোনো সীমান্ত। সেখান থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরেই যুদ্ধক্ষেত্রে শোনা যাচ্ছিল গোলা বিস্ফোরণের শব্দ। চেক পয়েন্টের ডেপুটি কমান্ডার ক্যাপ্টেন ইন্না কিশচুক বলেন, ‘রাতে গোলার শব্দ আরও বেড়ে যায়। প্রয়োজনে আশ্রয় নিতে আমাদের একটি শেল্টার আছে। আমাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে এবং আমরা জানি কী করতে হবে।’

Manual4 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code