যে কারণে নতুন পাকিস্তানের হাইকমিশনার সায়েদাকে ঢাকার প্রত্যাখান

লেখক:
প্রকাশ: ৮ years ago

Manual5 Ad Code

Manual8 Ad Code

 

ডেস্ক রিপোর্ট : ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রাফিউজ্জামান সিদ্দিকীর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত বছর ফেব্রুয়ারি মাসে। তার জায়গায় ঢাকায় দেশটির নতুন হাইকমিশনার হিসেবে কূটনীতিক সাকলাইন সায়েদাকে নিয়োগ দেয় পাকিস্তান সরকার। গতবছর মার্চ মাসেই এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ইসলামাবাদ। নিয়ম অনুযায়ী পূববর্তী হাই কমিশনারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন হাইকশিনার হিসেবে সাকলাইন সায়েদাকে মনোনীত করে তার নিয়োগপ্রস্তাব (এগ্রিমো) অনুমোদনের জন্য বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে বাংলাদেশের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় চলতি বছরের মার্চ মাস থেকে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হাইকমিশনারের পদটি ফাঁকা রয়েছে।

বিষয়টি নিয়ে দুই দেশের কূটনৈতিক পর্যায়ে একাধিক চিঠি আদানপ্রদানের পর সাকলাইন সায়েদার পরিবর্তে নতুন কাউকে নিয়োগের প্রস্তাব দিয়ে বার্তা পাঠায় ঢাকা। কিন্তু সাম্প্রতিকসময়ে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক শীতল হওয়ায় সাকলাইন সায়েদাকে গ্রহণে ঢাকার অস্বীকৃতি সহজভাবে নিতে পারিনি ইসলামাবাদ। তাই নতুন কাউকে বাংলাদেশে পাকিস্তানি হাইকমিশনার পদে নিয়োগ দানে বিরত রয়েছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ফলে ঢাকায় পাকিস্তান হাই কমিশনে রাষ্ট্রদূতের পদশূন্য হওয়ার ১১ মাস পেরিয়ে গেলেও এই জটিলতার অবসান হয়নি। তৃতীয় বারের মতো আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করায় এই জটিলতা আরও দীর্ঘায়িত ও দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও শীতল হয়ে উঠতে পারে বলে মন্তব্য করে সম্প্রতি পাকিস্তানের একাধিক সংবাদমাধ্যমে খবর ছাপা হয়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ঢাকার নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার আগে সাকলাইন সায়েদা সরকারি ডেলিগেশনে বাংলাদেশ সফর করেন। ওআইসি সম্মেলনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র সচিব তাহমিনা জাঞ্জুয়ার নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলের সদস্য ছিলেন মন্ত্রণালয় মহাপরিচালক (কারস অ্যান্ড ইকো) সাকলাইন সায়েদা। ঢাকায় তার সফর এবং কিছু বিষয়ে তার ব্যক্তিগত রিজার্ভেশনের বিষয়টি কূটনৈতিক শিষ্টাচারবহির্ভূত বলে মনে করে ঢাকা। যদিও এ নিয়ে ঢাকার তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে কেউ কিছু বলছেন না।

নতুন পাকিস্তানী হাইকমিশনার হিসেবে নির্বাচিত সাকলাইন সায়েদাকে প্রত্যাখানের কারণ হিসেবে দ্য ইকোনমিক টাইমস জানিয়েছে, ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের আগে সাকলাইন সায়েদাবাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক সময়ে নানারকম মিথ্যা প্রচারণা ও কূটনীতিবিরূদ্ধ কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। এমনকি ফেইসবুকের মতো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়েছে। যার কারণে তাকে গ্রহণে পুরোপুরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে বাংলাদেশ।

Manual5 Ad Code

নতুন পাকিস্তানি হাইকমিশনার গ্রহণে ঢাকার অস্বীকৃতির বিষয়ে পদেশটির অনলাইন ডেইলি টাইমস ও পাকিস্তান টুডে পৃথক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। যার ভাষ্য প্রায় অভিন্ন। সেখানে বলা হয়েছে- এ নিয়ে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের আরো অবনতি হয়েছে। ঢাকায় পাকিস্তানের নতুন হাইকমিশনার সাকলাইন সায়েদাকে মঙ্গলবার মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানানো এবং এ পদের জন্য অন্য কারও নাম চাওয়ার ফলে নতুন মাত্রায় নেমে গেছে এ সম্পর্ক।

Manual4 Ad Code

ডেইলি টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান দুটি দেশই সার্ক, ওআইসি, কমনওয়েলথ এবং জাতিসংঘের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদস্য হওয়া স্বত্ত্বেও বিগত বছরগুলোতে (২০১৫-১৬) নানাবিধ অভিযোগে ইসলামাবাদ ও ঢাকা দুই পক্ষই একে অপরের একাধিক কূটনীতিক বাতিল করেছে বলেও জানায় । এতে আরও বলা হয়, ১৯৭১ সালের যুদ্ধাপরাধের বিচার শুরুর পর থেকেই ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। ১৯৭৪ সালে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির পরে ওই বিচার স্থগিত ছিল।

Manual2 Ad Code

এদিকে রাষ্ট্রদূত গ্রহণে বাংলাদেশের অস্বীকৃতি প্রসঙ্গে ওয়াকিবহাল কূটনীতিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক আইন বা কনভেনশন মতে হোস্ট কান্ট্রি বা স্বাগতিক দেশের তরফে দূতকে গ্রহণ বা অসম্মতিতে কোনো ব্যাখ্যা জরুরি নয়। ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী স্বাগতিক দেশ আপত্তি জানালে নাম পরিবর্তনের বিধান রয়েছে। পাকিস্তান সরকার কূটনীতিক সৈয়দার বদলে নতুন কারও নাম প্রস্তাব করতে পারে। তাকে গ্রহণে ঢাকার সম্মতি পাওয়ার জন্য ১১ মাস অপেক্ষার কোনো প্রয়োজন ছিল না। ওই কূটনীতিককে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না সেই বার্তা ইসলামাবাদ অনেক আগেই পেয়েছে। কিন্তু তারা এতদিনেও নতুন কোনো নাম পাঠায়নি। এতের পাকিস্তানের কূটনৈতিক আন্তরিকতার ঘাটতির বিষয়টি প্রতীয়মান হয়ে ওঠেছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code