

ডেস্ক রিপোর্ট, ইউএসঃ রিয়াল মাদ্রিদের লা লিগা জয়ের উৎসবে মাতোয়ারা হতে শেষ দুই ম্যাচে প্রয়োজন ছিল দুটো পয়েন্টের। কোচ জিনেদিন জিদানের শিষ্যরা অত অপেক্ষার ধার ধারেননি, ভিয়ারিয়ালকে ২-১ গোলে হারিয়ে এক ম্যাচ হাতে রেখেই লিগ নিশ্চিত করেন সার্জিও রামোসরা। কোচিং ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় লিগ শিরোপা জিতে জিদান একে স্থান দিয়েছেন চ্যাম্পিয়ন্স লিগেরও ওপরে!
করোনাসৃষ্ট স্থবিরতার পর হারা তো দূরের কথা, ড্র করতেই যেন ভুলে গিয়েছিল রিয়াল। আগের নয় ম্যাচের নয়টিতেই জিতে লিগ শিরোপার দুই পয়েন্টের দূরত্বে এসে দাঁড়িয়েছিল দলটি। শেষ দুই ম্যাচে দুটো ড্র করলেই কাজ হয়ে যেত রামোসদের। তবে চলমান ফর্ম জানান দিচ্ছিল, শেষ ম্যাচে নয়, শিরোপার অপেক্ষা শেষ হচ্ছে আজই!
বৃহস্পতিবার রাতে ভিয়ারিয়ালের মুখোমুখি হওয়ার আগেই রিয়ালের আপত্কালীন মাঠ ভালদেবেবাসে হাজির ছিল লিগ শিরোপা। ম্যাচের ২৯ মিনিটে লক্ষ্যভেদ করে করিম বেনজেমা অপেক্ষা শেষের ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন। ৭৭ মিনিটে তার পেনাল্টি নিশ্চিতই করে ফেলে লিগ পুনরুদ্ধার। ২০ গোল করে আর আটটি করিয়ে যে যাত্রায় বেনজেমার নিজেরও অবদান ছিল অনেক, গোল করার দিক থেকে তার চেয়ে এগিয়ে ছিলেন কেবল লিওনেল মেসিই (২৩)! ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সফরকারী ফরোয়ার্ড ভিসেন্তে ইবোরা গোল অবশ্য করেছিলেন, তবে সেটা রিয়ালের জয়ের পথে কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি মোটেও।
মাদ্রিদ পরশু ড্র করলেও অবশ্য লিগ জিততো, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা যে হেরেই গিয়েছিল পুঁচকে ওসাসুনার কাছে। তবে তাতে শিরোপাজয় একটু ম্লান হতো বৈকি! সেটা হতে দেয়নি রিয়াল। তাই নিজেদের ম্যাচ শেষেই উল্লাসে মাতলেন রামোস, বেনজেমা, মার্সেলোরা।
দ্বিতীয়বার দায়িত্বে এসে লিগ জয়কে পাখির চোখ করা জিদানের দেহভাষ্যে তখন তৃপ্তির ছোঁয়া। এতটাই, যে টানা তিনবার জেতা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকেও এগিয়ে রাখলেন একে! বললেন, ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ চ্যাম্পিয়ন্স লিগই! তবে লা লিগা আমাকে বেশি আনন্দ দিচ্ছে কারণ এটা জেতা অসাধারণ! আমার কোচিং ক্যারিয়ারেরই অন্যতম সেরা দিন আজ।’
লকডাউন শেষে মাঠে ফেরার সময়ে রিয়ালের লিগ জেতার সমীকরণটা ছিল কঠিন। নিজেদের সব ম্যাচে তো জিততেই হতো, বার্সেলোনার পয়েন্ট খোয়ানোর দিকেও তাকিয়ে থাকতে হতো রামোসদের। টানা ১০ ম্যাচ জিতে নিজেদের কাজটা দারুণভাবেই পালন করেছে দলটি। অধিনায়ক রামোসের কণ্ঠে তাই তৃপ্তির রেশ, ‘লিগ আবারও শুরু হওয়ার পর প্রত্যেকটা ম্যাচেই জিততে চেয়েছি আমরা। এটা কঠিন ছিল, প্রত্যেকটা ম্যাচ জেতা সহজ নয় মোটেও! এটা সম্ভব হয়েছে কঠোর পরিশ্রমের ফলে, যেটা সবাই করেছে। লিগ শিরোপাটা তারই পুরস্কার।’
২০১৬-১৭ মৌসুমে শেষবার যখন লিগ জিতেছিল রিয়াল, ঐতিহ্য মেনে উৎসবের প্রথম কিস্তিটা হয়েছিল শতবর্ষী সিবেলেস ঝর্ণার সামনে। কিন্তু দুই বছর পর শিরোপা জয়ের দিনে রিয়ালকে উৎসবটা করতে হয় খালি গ্যালারির সামনে।
এমনকি সমর্থকদেরকে রাস্তায় নামতেও নিরুত্সাহিত করেছে মাদ্রিদ কর্তৃপক্ষ। একে অদ্ভুত মানলেও কোচ জিদান করোনাসৃষ্ট বাস্তবতাকে মেনেই নিলেন শেষতক। বললেন, ‘এর চেয়ে সিবেলেসে সমর্থকদের সঙ্গেই থাকতে চাইতাম আমরা, কিন্তু সেটা পারছি না! এটা সবার জন্যই অদ্ভুত। কিন্তু আমি নিশ্চিত ঘরে বসে সবাই এখন উল্লসিত।’