

সম্পাদকীয়: বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রমের অংশ হিসাবে গত বৃহস্পতিবার রাজধানীতে আরও ১০০টি নতুন বাস চালু করা হয়েছে। এগুলোর ৫০টি চলবে ২২ নম্বর রুটে এবং বাকি ৫০টি ২৬ নম্বর রুটে। গণপরিবহণ সংকট ও বিশৃঙ্খলায় জর্জরিত নগরবাসীকে এ কার্যক্রম কিছুটা হলেও স্বস্তি দেবে। উল্লেখ্য, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা ফেরাতে গত বছর ডিসেম্বরে প্রথমবারের মতো ৫০টি বাস দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্যক্রম শুরু করা হয়।
সেসময় জানা গিয়েছিল, এ কার্যক্রমের আওতায় ছয় কোম্পানির মাধ্যমে ছয় রঙের বাস দিয়ে সিটি সার্ভিস পরিচালনা করা হবে। কোম্পানিভিত্তিক বাস পরিচালনার এ কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া গেলে তা নগরীর গণপরিবহণে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা নিরসনে ভূমিকা রাখবে বলে আমাদের বিশ্বাস। তাই এ কার্যক্রমকে স্বাগত জানাই আমরা।
বর্তমানে রাজধানীর গণপরিবহণ খাতে বিরাজ করছে চরম বিশৃঙ্খলা। বস্তুত রাজধানীতে বাসের নামে যা চলছে তার সিংহভাগই মিনিবাস। এসব বাস রাস্তার মাঝখানে যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয়। এতে সৃষ্টি হয় যানজট। আইনকানুন, নিয়মনীতির কোনো তোয়াক্কা এরা করে না। যাত্রী ভাড়ার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য।
এসব বাসের বেশিরভাগেরই যথাযথ ফিটনেস নেই। রঙচটা, এবড়োথেবড়ো বডির এসব বাস নগরবাসীর জন্য দৃষ্টিকটুও বটে। জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর কালো ধোঁয়া নির্গত করে রাজধানীতে বায়ুদূষণ ঘটায় অনেক বাস। অভিযোগ আছে, এসব বাসের অধিকাংশ চালকেরই প্রকৃত লাইসেন্স নেই। এসব কারণে বর্তমানে রাজধানীতে সড়ক দুর্ঘটনাও বৃদ্ধি পেয়েছে। রাজধানীর সড়ক থেকে এসব বাস অপসারণ করা জরুরি হয়ে পড়েছে। সেক্ষেত্রে বিকল্প অপরিহার্য।