

সম্পাদকীয়: সম্প্রতি রাশিয়ার ইহুদি নেতারা ইউক্রেন যুদ্ধে তাঁদের অবস্থান কী হবে, তা নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। রাশিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের প্রধান রাব্বি বা যাজক বেরেল লাজার শান্তির আহ্বান জানিয়ে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ভূমিকা পালনের প্রস্তাব দিয়েছেন। গত মে মাসে তিনি রাশিয়ার বিজয় দিবসের কুচকাওয়াজেও অংশ নেন। অন্যদিকে মস্কোতে ইহুদিদের প্রধান রাব্বি পিনচাস গোল্ডস্মিথ সংঘাতের জন্য রাশিয়ার ভূমিকাকে ক্ষমা করা যায় না ঘোষণা দিয়ে দেশ ছেড়েছেন।
নিকট ইতিহাসের মধ্যে রাশিয়ার ইহুদিরা এখন সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। ইউক্রেনের সঙ্গে তাঁদের শক্তিশালী বন্ধন রয়েছে। মালদোভা ও বেলারুশের সঙ্গেও তাঁদের বন্ধন দৃঢ়। এর আগে এসব দেশের সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক যখন অবনতি হয়েছে, তখনই তাঁদের বড় মূল্য দিতে হয়েছে। অনেককে দেশ ছাড়তে হয়েছে। ইতিহাসের একই পুনরাবৃত্তির ভয় তাঁদের মধ্যে আবার দেখা দিয়েছে।
রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ ভূরাজনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটিয়েছে। জুলাই মাসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরায়েল সফর করেছেন। অন্যদিক রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তেহরানে ইরান ও তুরস্কের সরকারপ্রধানদের সঙ্গে দেখা করেছেন। এটা মোটেই কাকতালীয় ঘটনা নয়।
যদিও রাশিয়ায় বর্তমানে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ইহুদিবিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে না। কিন্তু এর মধ্যে এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যাতে করে রাশিয়ার ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে, গত মার্চ মাসে ইউক্রেনীয়দের পক্ষে কথা বলার জন্য ইহুদি সাংবাদিক আলেক্সি ভেনেডিকটভকে জরিমানা করা হয়েছে। কিছু দুর্বৃত্ত তাঁর বাড়ির গেট ভেঙে ফেলে এবং তীব্র ইহুদি ঘৃণার চিহ্ন হিসেবে সেখানে শুয়োরের মাথা রেখে আসে।
রাশিয়ায় অবস্থিত ইসরায়েলের ইহুদি এজেন্সি বন্ধ করার হুমকি দিয়েছে কেউ কেউ। এই সংস্থা ১৯২৯ সাল থেকে ইহুদিদের অভিবাসনের বিষয়টা দেখভাল করে আসছে। এমনকি ইউক্রেনে আগ্রাসনের বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ইহুদিবিদ্বেষী যুক্তি দাঁড় করিয়েছে রাশিয়া। মস্কোর পক্ষ থেকে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, তারা ইউক্রেনকে নাৎসিবাদের কবল থেকে মুক্ত করতে চায়। প্রমাণ হিসেবে তারা ইউক্রেনে আজভ ব্যাটালিয়নের দৃষ্টান্ত সামনে নিয়ে আসছে। নাৎসিবাদের সঙ্গে সম্পর্কিত ইউক্রেনের এই অতি ডানপন্থী বাহিনীটির নিয়ন্ত্রণে ছিল বন্দরনগর মারিউপোল। যদিও ইউক্রেনের সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে অতি ডানপন্থীরা বড় ব্যবধানে পরাজিত হয়। ভলোদিমির জেলেনস্কি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন, ধর্মপরিচয়ে তিনি একজন ইহুদি। গত মার্চ মাসে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ইতালির একটি টেলিভিশনে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, অ্যাডলফ হিটলারের ইহুদি বংশে জন্ম হয়েছিল। ইসরায়েলের নিষ্ঠুরতার পেছনেও কারণ রয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী ইয়ার লাপিদ বলেছেন, ইহুদিদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে নিচু মাত্রার বর্ণবাদের ঘটনাও ইহুদিবিদ্বেষ বলে বিবেচিত হবে।