

হাবিব রহমান : মদিনা মুনাওয়ারা….এক স্বর্গীয় নগরী। এ নগরীর পরতে পরতে জড়িয়ে আছে প্রিয় নবীজির স্মৃতি। এই নগরীর প্রাণকেন্দ্রে মসজিদে নববির সবুজ গম্বুজের নিচে শায়িত দো-জাহানের মহান নেতা মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (স.)। ইতিহাস-ঐতিহ্য, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যতা সবদিক থেকেই মুসলমানদের কাছে মসজিদে নববির গুরুত্ব অপরিসীম।
মসজিদে নববিতে হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর রওজা মোবারক এবং তাঁর জমানার মূল মিম্বরের মধ্যবর্তী স্থানকে নবীজি বেহেশতের বাগানসমূহের একটি বাগান বলেছেন। এটাই রিয়াজুল জান্নাত। এই জায়গায় সবুজ-সাদা রঙের কার্পেট বিছানো আছে। মসজিদের অন্য কার্পেটগুলো লাল রঙের। ভিন্ন রঙের কার্পেট দেখে বুঝতে অসুবিধা হয় না রিয়াজুল জান্নাতের সীমানা। এ স্থানে নামাজ পড়া অতি উত্তম।
নবীজি (স.) বলেছেন, ‘আমার ঘর (বর্তমান দাফনের স্থান) ও মিম্বরের মাঝের জায়গা জান্নাতের বাগানগুলোর একটি আর আমার মিম্বর আমার হাউজের উপর অবস্থিত। (বুখারি:১১৯৬, ১১২০; মুসলিম: ২৪৬৩
রিয়াজুল জান্নাত দোয়া কবুলের স্থান। যে কারণে জায়গাটি সবসময় লোকারণ্য হয়ে থাকে। মুসলিমরা সবসময় ক্ষমা প্রার্থনার জন্য এখানে দুই রাকাত নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেন।
রিয়াজুল জান্নাতের ভেতরে কয়েকটি স্তম্ভ রয়েছে, সেগুলোকে রহমতের স্তম্ভ বলে।
রিয়াজুল জান্নাতে অবস্থিত খুঁটিগুলো হলো-�১. উসতুওয়ানা আয়েশা বা আয়েশা (রা.)-এর খুঁটি।�২. উসতুওয়ানাতুল-উফুদ বা প্রতিনিধি দলের খুঁটি।�৩. উসতুওয়ানাতুত্তাওবা বা তওবার খুঁটি।�৪. উসতুওয়ানা মুখাল্লাকাহ বা সুগন্ধি জালানোর খুঁটি।�৫. উসতুওয়ানাতুস-সারির বা খাটের সঙ্গে লাগোয়া খুঁটি এবং উসতুওয়ানাতুল-হারছ বা মিহরাছ তথা পাহাদারদের খুঁটি।
পেনডামিকের পর আগের মত হুটহাট করে রিয়াজুল জান্নাতে প্রবেশ করা যায়না।এখন এ্যাপসের মাধ্যমে রেজিস্ট্রেশন করে সময় নিতে হয়।রেজিস্ট্রেশন হলে সময়ের কমপক্ষে একঘন্টা আগে লাইনে দাঁডাবেন ৩৭ নাম্বার গেটের সামনে।গ্রুপে গ্রুপে ভিতরে নিয়ে যাবে।নামাজ শেষে রাসুল(সাঃ) এর রওজা মোবারকে সালাম জানিয়ে বেরিয়ে আসবেন।
আল্লাহ আমাদের সামর্থবান সকলকে হজ্ব ,ওমরা ও নবিজীর রওজা মোবারক জিয়ারত করার সৌভাগ্য দান করুন।আমিন!!