বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের লক্ষ্য ছিল নেতৃত্বের শেষটায় মাশরাফী বিন মর্তুজাকে জয় উপহার দেওয়া। শুধু জয়ে নয়, লিটন দাস এবং তামিম ইকবাল উড়ন্ত ব্যাটিং করে রেকর্ড রাঙা জয়ের পথ রচনা করে দেন। শুধু ব্যাটিং তাণ্ডবে নয়, বোলিংয়েও রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে টাইগার বাহিনী। বৃষ্টি বিঘ্নিত তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১২৩ রানে হারিয়ে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়েকে ধবলধোলাইয়ের সঙ্গে কীর্তিমান মাশরাফীর তার নেতৃত্ব শেষ করলেন ৫০তম জয়ের কীর্তি গড়ে।
Manual1 Ad Code
শুক্রবার (০৬ মার্চ) সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ওয়ানডে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। এ ম্যাচ দিয়ে অধিনায়কত্বের ইতি টানেন মাশরাফী। তবে নেতৃত্ব দানের শেষ ম্যাচে টসে হারেন তিনি। অবশ্য টসে জিতলেও বাংলাদেশকে ব্যাটিংয়ে পাঠায় জিম্বাবুয়ে।
এর আগে দিনের শুরুতে দুই ওপেনার তামিম ইকবাল এবং লিটন দাসের অতিমানবীয় ব্যাটিংয়ে জিম্বাবুয়েকে রান পাহাড়ে চাপা দিল বাংলাদেশ। বৃষ্টির কারণে কমে ৪৩ ওভার হওয়া ইনিংসে ৩ উইকেটে ৩২২ রান তুললো টাইগাররা। তবে জিততে হলে তারচেয়ে ২০ রান বেশি করতে হবে জিম্বাবুয়েকে। অর্থাৎ ‘কার্টেল ওভারের ম্যাচ’ হওয়ায় শন উইলিয়ামসদের টার্গেট এখন ৩৪২ রান।
৩৪২ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরু চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। মাশরাফী বিন মর্তুজা ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দীনের তোপে ২ উইকেট হারিয়ে বসে তারা। ওপেনার টিনাশে কামুনহুকামউইকে (৪) সাজঘরে ফেরান অধিনায়ক হিসেবে শেষ ম্যাচ খেলতে নামা ‘ম্যাশ’। সাইফউদ্দীন তুলে নেন ব্রেন্ডন টেইলরকে (১৪)।
অবশ্য প্রতিরোধের চেষ্টা করেন ওপেনার রেগিস চাকাবা ও অধিনায়ক শন উইলিয়ামস। তবে তাদের এ জুটি ভাঙেন অভিষেক ওয়ানডে খেলতে নাম আফিফ হোসেন। উইলিয়ামস ফেরেন ব্যাক্তিগত ৩০ রানে। এরপর চাকাবাকে (৩৪) বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। ওয়েসলি মেধেভেরেকে (৪২) নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান সাইফউদ্দীন। রান আউট হয়ে ফেরেন উইকেটরক্ষক রিচমন্ড (০)।
শেষ দিকে সিকান্দার রাজার ৫০ বলে ৬১ রানের ইনিংস শুধু ব্যবধানই কমায়। তাকে তুলে নেন সাইফউদ্দীন। ডোনাল্ড ট্রিপানোকে ব্যক্তিগত ১৫ রানে বোল্ড করেন তাইজুল ইসলাম। আর চার্লটন শুমা শূন্যরানে বোল্ড হন সাইফউদ্দীনের বলে।
বাংলাদেশের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪টি উইকেট তুলে নেন সাইফ। দুই উইকেট পান তাইজুল। এছাড়া একটি করে উইকেট পান মাশরাফী, মিরাজ ও মোস্তাফিজ।