লাগাতার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেশের শিক্ষা অবস্থার বেহাল দশা

লেখক:
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual6 Ad Code

মাহফুজ আদনান :: একেরপর এক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাংলাদেশের শিক্ষা অবস্থা আজ হুমকির মুখে । চলমান রাজনৈতিক সহিংসতা অভিভাবকদের তথা ছাত্রছাত্রীদের ভাবিয়ে তুলছে ।

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশের সাদারণ শিক্ষার্থীরা দিশেহারা । একের পর এক রাজনৈতিক কর্মসূচি হরতাল-অবরোধ দেশের সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের শিক্ষা জীবনকে ধ্বংস করে তুলছে । শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে। বছরের শেষ সময় পরীক্ষা-মূল্যায়ন ও নতুন স্কুলে ভর্তি কার্যক্রম চলছে।

Manual6 Ad Code

অগ্নিসন্ত্রাস, বাস-ট্রেনে আগুন শিক্ষার্থীদের মনে বাড়তি সৃষ্টি করছে । এতে কোটি কোটি শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবনে নেমে এসেছে অশনি সংকেত ।

সংশ্লিষ্টদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, এমনিতেই করোনার কারণে দুই বছরের বেশি সময় স্কুলের বাইরে থাকতে হয়েছে প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীকে। বন্ধ ছিল সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অনলাইনে পাঠদান আর বাড়ির কাজ চললেও তা খুব কার্যকর হয়নি। এর মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা শিক্ষা ব্যবস্থাকে নাজুক অবস্থায় ঠেলে দিচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষাবিদ জানান, বাংলাদেশে এরকম রাজনৈতিক অস্থিরতা নতুন নয় । যে কোন দলের জন্য দেশের মেরুদন্ড শক্তীশালী করণের জন্য শিক্ষার্থীদের কথ চিনতা করে কর্মসূচি দেয়া উচিত ।

এ প্রসঙ্গে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বলেন, দেশর নানান উন্নয়নের মত শিক্ষা উন্নয়ন একটি অন্যতম একটি বিষয় । কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর এই ডিজিটাল সময়ে জালাও পোড়াও সংস্কুতি পরিহার করা উচিত ।

Manual6 Ad Code

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, হরতাল-অবরোধের মতো রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে চাকরির পরীক্ষা, শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন, ক্লাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষা দিতে পারছে না। হরতাল-অবরোধের মধ্যে শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। অভিভাবকরাও দুশ্চিন্তায় থাকেন। চলতি বছরের শেষদিকে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের শঙ্কা ছিল। প্রস্তুতি হিসেবে আগেভাগেই বই ছাপা ও বার্ষিক পরীক্ষা এগিয়ে এনেছে সরকার।

 

বছরের শেষ ও শুরুর সময় বার্ষিক পরীক্ষা, মূল্যায়ন, নতুন স্কুলে ভর্তি, বই উৎসবের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। চলমান টানা অবরোধ শিক্ষা ক্যালেন্ডারকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং সার্বিক শিক্ষা ব্যবস্থায় দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। অবরোধ ও হরতালে দেশের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়নি। ক্লাস চলেছে স্বাভাবিক নিয়মে। তবে উপস্থিতি কম। সূত্র জানায়, সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী চলতি মাসেই শেষ হবে বার্ষিক পরীক্ষা। এরপর শুরু হবে নতুন শ্রেণিতে ভর্তির কার্যক্রম। ফেব্রুয়ারি মাসে এসএসসি পরীক্ষায় বসবে ২০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী। রাজনৈতিক অস্থিরতা প্রভাব ফেলবে এই পরীক্ষার্থীদের ওপরও। এর মধ্যে হরতাল-অবরোধে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজের পরীক্ষাও পিছিয়ে গেছে।

Manual6 Ad Code

 

Manual4 Ad Code

তবে উচ্চমাধ্যমিককলেজ ও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখনো সেভাবে প্রভাব পড়েনি, কিন্তু শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমেছে। একাধিক পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় বিভিন্ন পরীক্ষা পিছিয়ে দিয়েছে। আর বেসরকারি অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ই হরতাল-অবরোধে অনলাইনে ক্লাস নিচ্ছে। ইতোমধ্যে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়েছে। সবার কাছে নতুন হওয়ায় অনেকে তা বুঝে উঠতে পারছেন না। স্কুলে স্কুলে মূল্যায়ন হচ্ছে। রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অবশ্যই তা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
পরিশেষে এটাই বলা যায়, বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংসের হাত থেকে মুক্ত করতে হলে এখনই বিকল্প রাজনৈতিক কর্মসুচি হাতে নেয়া সময়ের দাবি । আর কত জ্বালাও পোড়াও রাজনিতি ?

লেখক : মাহফুজ আদনান, সম্পাদক ও প্রকাশক, বাংলানিউজইউএসডটকম ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code