শান্তির পথে একসঙ্গে পথ চলার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

বিভাজনের পথ পরিহার করে, হাতে হাত রেখে শান্তির পথে একসঙ্গে চলার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। শনিবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এই শান্তি সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা শান্তি বজায় রাখতে অত্যন্ত আন্তরিক এবং যে কোন মূল্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা, বজায় রাখা ও জোরদার করতে অঙ্গীকারবদ্ধ।’

‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স-২০২১’ উদ্বোধনকালে রাষ্ট্রপতি একটি শান্তিপূর্ণ, ন্যায়-সঙ্গত, অধিকার-ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমৃদ্ধ জাতি গঠনে বাংলাদেশের ‘অক্লান্ত প্রচেষ্টার’ কথা তুলে ধরে বলেন, দেশের সংবিধানের সাথে সঙ্গতি রেখে, বাংলাদেশ বিশ্বাস করে যে, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় থাকাই জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সর্বোত্তম সুরক্ষা এবং ‘আমরা শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাতগুলোর সমাধান করতে এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখব।

বাংলাদেশ দুটি বড় ঐতিহাসিক ঘটনা- বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শত-বার্ষিকী এবং স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনের অংশ হিসেবে দুই দিনব্যাপী ‘ওয়ার্ল্ড পিস কনফারেন্স’ এর আয়োজন করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আয়োজিত এই শান্তি সম্মেলনে বিশ্বের ৫০টি দেশের প্রতিনিধি, লেখক, কবি, সঙ্গীত শিল্পী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ভার্চুয়ালি ও সশরীরে যোগ দেন।

বর্তমানে বিশ্ব প্রাণঘাতী কোভিড-১৯ মহামারি ও সংঘাতের মতো বহু চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছে উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘যতদিন পর্যন্ত আমরা একতাবদ্ধ হতে এবং পারস্পরিক শান্তি ও সম্প্রীতি নিশ্চিত করতে না পারব, ততদিন আমরা আমাদের সন্তান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য বিশ্ব নিশ্চিত করতে পারব না।

জাতি, বর্ণ ও ধর্মের ভিত্তিক সব ধরনের বৈষম্যের অবসান এবং সকলের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে আব্দুল হামিদ বলেন, একই বিশ্বের বাসিন্দা হিসেবে সকল মানুষেরই অভিন্ন দায়িত্ব রয়েছে এবং বিশ্বের সকল মানুষের জন্য একটি ন্যায্য আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা জরুরি।

Manual7 Ad Code

৫০ বছর আগে বাংলাদেশের জন্মের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই, শান্তির প্রবক্তা বঙ্গবন্ধু একটি সংবিধান প্রবর্তন করেন যা দেশের সকল নাগরিকের মৌলিক মানবাধিকারের নিশ্চয়তা দেয়, আন্তর্জাতিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সংহতির প্রচার নিশ্চিত করে।

Manual4 Ad Code

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সকলের সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও  প্রতি বৈরিতা নয়। শান্তি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে বিশ্ব শান্তি পরিষদ ১৯৭৩ সালে বঙ্গবন্ধুকে বিশ্ব শান্তির প্রতীক হিসেবে জুলিও-কুরি শান্তি পুরস্কার প্রদান করে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু এতে বিশ্ববন্ধুতে পরিণত হয়েছেন।

উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন শান্তি সম্মেলন আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। ছয় অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি-মুন, পূর্ব তিমুরের সাবেক প্রেসিডেন্ট নোবেল বিজয়ী হোসে রামোস-হোর্তা, রাজনীতিবিদ ও ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন, রেলওয়ে, বাণিজ্য ও শিল্প বিষয়ক সাবেক মন্ত্রী সুরেশ প্রভাকর প্রভু, মিশরের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও আরব লীগের সাবেক মহাসচিব আমর মুসা, ওয়ার্ল্ড ইসলামিক ইকোনমিক ফোরাম ফাউন্ডেশনের সাবেক চেয়ারম্যান এবং মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র, স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা বিষয়ক সাবেক ফেডারেল মন্ত্রী এবং জাতিসংঘ মহাসচিবের গণহত্যা প্রতিরোধ বিষয়ক বিশেষ উপদেষ্টা অ্যালিস ওয়াইরিমু এনদেরিতুও উদ্বোধনী অধিবেশনে ভার্চুয়ালি ও সশরীরে উপস্থিত থেকে বক্তৃতা করেন।

Manual5 Ad Code

এছাড়া, বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মাসুদ বিন মোমেন বক্তব্য রাখেন।

Manual5 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code