শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলাম

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual8 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: ইসলাম শান্তির ধর্ম। বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ইসলাম প্রথম মানবাধিকার নিশ্চিত করেছে। মানবাধিকার বলতে সেই অধিকারকে বোঝায় যা নিয়ে মানুষ জন্মায় এবং যা তাকে বিশিষ্টতা দেয় এবং যা হরণ করলে সে আর মনুষ্যত্ব নিয়ে টিকে থাকতে পারে না।

Manual1 Ad Code

রাসূলুল্লাহ (সা.)-এর নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠিত মদিনা রিপাবলিকে ৬২২ ইসায়ী সনে প্রণীত ৪৭টি শর্ত সংবলিত ‘মদিনা সনদ’ বা Charter of Madina ছিল পৃথিবীর ইতিহাসে প্রথম লিখিত সংবিধান। এ সনদে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সবার অধিকার ও মর্যাদার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

খ্রিষ্টান, ইহুদি, পৌত্তলিক ও ‘মুসলিম সমঅধিকার গঠিত মদিনার বহু ধর্মভিত্তিক সমাজে প্রণীত ওই সনদে উল্লেখ ছিল-‘মদিনায় ইহুদি, নাসারা (খ্রিষ্টান), পৌত্তলিক এবং মুসলিম সবাই এক দেশবাসী, সবারই নাগরিক অধিকার সমান।’ সমানাধিকারের ভিত্তিতে বিভিন্ন জাতি, ধর্ম ও বর্ণের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এমন উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত পৃথিবীর জন্য এটিই ছিল প্রথম।

Manual6 Ad Code

আল কুরআন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠার অনন্য গাইড বুক। ইসলাম শোষণ-বঞ্চনা দূর করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে চায়। এ বিষয়ে আল কুরআনের নির্দেশ হলো-দুষ্টকে দমন করে শিষ্টের লালন করতে হবে। অর্থাৎ সৎ ব্যক্তিদের পৃষ্ঠপোষকতা দান করতে হবে এবং অপরাধী ও অসৎ লোকদের অন্যায় ও অবিচারকে প্রতিহত করতে হবে।

শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসলাম নির্দেশিত মৌলিক ৪টি দায়িত্ব সম্পর্কে আল কুরআন ঘোষণা করেছে-‘যদি আমি তাদেরকে (বা মুসলমানদের) কোনো ভূখণ্ডে প্রতিষ্ঠা দান করি তাহলে তারা সালাত কায়েম করে, জাকাত আদায় করে, ন্যায়ের প্রতিষ্ঠা করে ও অন্যায়ের প্রতিরোধ করে। সব কর্মের পরিণাম আল্লাহর ইখতিয়ারে।’ (২২/সূরা আল হাজ : ৪১)।

Manual1 Ad Code

অর্থাৎ কুরআন নির্দেশিত দায়িত্বগুলো হলো-১. সচ্চরিত্র জাতি গঠনের জন্য নামাজ প্রতিষ্ঠিত করা (২৯/সূরা আনকাবুত-৪৫ দ্রষ্টব্য)। ২. ন্যায়বিচারপূর্ণ অর্থব্যবস্থা চালুর লক্ষে জাকাত আদায়ের রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা (৯/তাওবা-৬০)। ৩. জনকল্যাণমূলক সব কাজ চালু করা এবং ৪. অনিষ্টকর সব কাজ বন্ধ করা। আল্লাহপাক যে বিধান আল কুরআনের মাধ্যমে দিয়েছেন আল্লাহর দৃষ্টিতে তা প্রতিষ্ঠিত করার সংগ্রাম করাই একজন প্রকৃত শান্তিকামী মানুষের পরিচয়।

Manual3 Ad Code

ইসলামের মূল চাওয়া হচ্ছে, সব মানুষ আল্লাহর গোলাম হয়ে যাক, মানুষ যেন একে-অপরের গোলামি না করে। তাই তো আল্লাহ বলেন, ‘জেনে রেখ, তাঁরই কাজ সৃষ্টি করা ও আদেশ দান করা।’ (৭/সূরা আলাফ-৫৪)। আল্লাহর অনুগত বান্দার নেতৃত্ব ছাড়া অন্যের গোলামিতে বাধ্য হতে হয় বলেই ইসলামের লক্ষ্য সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা।

আর সৎ নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার মধ্যেই নিহিত আছে শান্তি। দক্ষতা ছাড়া সততা অকেজো এবং সততা ছাড়া দক্ষতা বিপজ্জনক। হাদিসে আছে, দেশ শাসনভার আল্লাহতায়ালার কাছ থেকে পবিত্র আমানত। এ আমানতের খিয়ানত হতে বিরত থাকলে শান্তি প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত সহজ।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code