

৯ দফা দাবি আদায়ে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে গণসংযোগ, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
শুক্রবার (২৬ জুলাই) জুমার নামাজের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদদের জন্য দোয়া শেষে শাবিপ্রবির একদল শিক্ষার্থী ৯ দফা দাবিতে গণসংযোগ করে। পরে বেলা ৩টার দিকে প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রধান ফটকের নাম শহীদ রুদ্র তোরণ ঘোষণা দেয়। পরে স্লোগান দিয়ে মিছিল নিয়ে সিলেটের বিভিন্ন জায়গায় গণসংযোগের জন্য ছড়িয়ে পড়ে।
রুদ্র সেন গত ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় পুলিশের ধাওয়ার পর আখালিয়া এলাকায় একটি খাল পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান।
বিশ্ববিদ্যালয় গেটে অবস্থানকালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়কারী আসাদুল্লাহ আল-গালিব বলেন, আমাদের সাংবিধানিক আন্দোলনে সরকার ইন্টারনেট বন্ধ করে দিয়ে ডিজিটাল ক্রাকডাউনের মাধ্যমে গোটা দেশে ধংসাত্মক নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আজকে এই আন্দোলন কোটা সংস্কারের আন্দোলন নয়, এই আন্দোলন নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার আন্দোলন।
তিনি বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত না প্রত্যেক শহীদের, প্রত্যেক আহতের হিসাব দেওয়া হচ্ছে, যতক্ষণ পর্যন্ত না আমাদের বিরুদ্ধে মামলা তুলে না নেওয়া হচ্ছে, আমাদের যাদেরকে গুম করা হয়েছে তাদেরকে ফিরিয়ে না দেওয়া হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে। আমাদের দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম চলবে।
এসময় তিনি নিরাপত্তা বাহিনী এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ছাত্রদের পাশে থাকার আহবান জানান। পাশাপাশি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার বা গুম হওয়ার সঙ্কা প্রকাশ করে দেশে চলমান গণহত্যা-নির্যাতনের ভয়াবহতা সর্বত্র তুলে ধরার আহবান জানান।
শিক্ষার্থীদের কর্মসূচি শুরুর আগেই বিশ্ববিদ্যালয় গেটের প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় পুলিশ। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের ভেতরে পুলিশ অবস্থান নিয়েছিল। প্রায় ৩০ মিনিট কর্মসূচি পালন শেষে শিক্ষার্থীরা ফিরে যান। এ সময় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
উল্লেখ্য, গত ১৮ জুলাই রাতে পুলিশের ধাওয়া থেকে পালিয়ে বাচতে সুরমা গেইট থেকে বাগবাড়ি যাওয়ার পথে ভেলা দিয়ে খাল পার হওয়ার সময় ভেলা ডুবে মারা যায় রুদ্র সেন। তার সাথে থাকা তিন সহপাঠী বেচে ফিরলেও সাতার না জানায় ফিরতে পারেনি রুদ্র।শহীদ রুদ্র শাবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দিনাজপুরের পাহাড়পুর এলাকার সুবীর সেনের একমাত্র ছেলে।