শিশুকে টিকা দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় অভিভাবক

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual4 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট, ইউএসঃ করোনা মহামারির কবলে পড়ে শিশুসন্তানকে সময়মতো টিকা দিতে না পারায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন অভিভাবকরা। বিশেষ করে হাম-রুবেলার মতো গুরুত্বপূর্ণ টিকাগুলো বন্ধ থাকার কারণে উদ্বিগ্ন তারা। এর ফলে বিভিন্ন রকমের সংক্রামক রোগের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে এখন ঘরে থাকছেন বেশির ভাগ মানুষ। এই অবরুদ্ধ সময়ের মধ্যেই পেরিয়ে যাচ্ছে অনেক শিশুর টিকা দেওয়ার নির্ধারিত সময়। টিকা না দিতে পারাটা যেমন উদ্বেগের তেমনি ছোট শিশুকে নিয়ে বাইরে ভিড়ের মধ্যে যাওয়াও উদ্বেগের।

 

এদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, করোনা ভাইরাস লকডাউনের কারণে বিশ্বব্যাপী এ বছর প্রায় ১১ কোটি ৭০ লাখ শিশু হামের টিকা থেকে বঞ্চিত হতে পারে। ফলে বিশ্বে হামে মৃত্যু বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। করোনার কারণে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২৪টি দেশে হাম ও রুবেলার টিকাদান কার্যক্রম দেরিতে পরিচালনার সিদ্ধান্ত হয়। এ ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা ছিল—যেসব দেশে হামের উপদ্রব নেই, সেসব দেশ করোনা মহামারির সময় এ ধরনের প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে পারে। কিন্তু বাংলাদেশের পাহাড়ি এলাকায় এ বছর হাম-রুবেলার প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে।

Manual6 Ad Code

 

Manual5 Ad Code

ইপিআইয়ের আওতায় সারাদেশে মা ও শিশুকে ১০টি সংক্রামক রোগের নিয়মিত টিকা দেওয়া হয়। সাপ্তাহিক ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন গড়ে ৬ থেকে ৭ হাজার কেন্দ্রে এ কর্মসূচি চলে। সিটি করপোরেশন, বিভিন্ন হাসপাতাল এবং উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালের স্থায়ী কেন্দ্রে টিকা দেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের বাইরে সারাদেশে ১ লাখ ২০ হাজার টিকাদান কেন্দ্র রয়েছে। কেন্দ্রগুলো অস্থায়ী এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ব্যক্তিবিশেষের বাসাবাড়িতে অবস্থিত। ওইসব বাড়ির লোকজনের বহিরাগতদের সমাগমে বিব্রত বোধ করা এবং করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি থাকায় কেন্দ্রগুলো বন্ধ রয়েছে। গত ১৮ মার্চ থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ৯ মাস থেকে ১০ বছরের নিচের প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ শিশুকে এক ডোজ করে ‘এমআর টিকা’ দেওয়ার ক্যাম্পেইন পরিচালিত হওয়ার কথা ছিল। করোনা ভাইরাসের কারণে সব রকম টিকাদান কর্মসূচিই স্থগিত করা হয়। তবে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে টিকাদান কর্মসূচি চালু আছে। কিন্তু প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ নবজাতক শিশুদের নিয়ে সেখানে যেতে পারছে না।

উপকূলীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জেবুন নেসা বলেন, লকডাউন এলাকাগুলোতে টিকা দেওয়া বন্ধ রয়েছে। আগের মতো গ্রামে কিংবা বাড়িতে বাড়িতে টিকাকেন্দ্র আর পরিচালিত হচ্ছে না। কারণ, নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে টিকাদান কার্যক্রম চালানো সম্ভব নয়। এদিকে, সময়মতো টিকা না দিলে সমস্যা হতে পারে—এই আশঙ্কা থেকে শহরের সচেতন অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন টিকা দিতে। রাজধানীর উইমেন্স চিলড্রেনস অ্যান্ড জেনারেল হসপিটালের চিকিত্সক ডা. তালহা তালুকদার বলেন, শিশুদের নিরাপত্তার জন্যই টিকাদান বন্ধ রয়েছে। তবে দীর্ঘদিন টিকা নেওয়া বন্ধ থাকা শিশুদের পক্ষে ভালো নয়।

 

Manual4 Ad Code

 

Manual1 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code