শিশুর সঙ্গে আপনার আচরণ, কোথাও ভুল হচ্ছে না তো?

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual2 Ad Code

দীর্ঘ সময় পার করা এই মানব সভ্যতায় অনেক প্রশ্নের সঠিক উত্তর খুঁজে পেলেও এখনো নিজ সন্তানের লালন-পালন নিয়ে সংশয়ে ভোগেন বাবা-মা। বাংলাদেশে এক সময় কঠোর শাসনে সন্তান লালন-পালনের নিয়ম প্রচলিত থাকলেও ধীরে ধীরে সেই ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন আধুনিক বাবা-মা। কিন্তু নতুন লালন-পালনের এই নিয়মগুলো নিয়ে রয়ে গেছে অনেক সংশয়।

ইদানীং পরিবারগুলো ছোট হয়ে আসায় শিশুর দেখাশুনার মূল দায়িত্ব একাই পালন করে যান মা। আর বাবা-মা উভয় কর্মজীবী হলে এর ফল আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠে। সারাদিন শেষে বাবা-মাকে পেয়ে শিশুরা বাড়তি উচ্ছ্বাস দেখাবার পাশাপাশি কখনো কখনো খিটখিটে মেজাজের হয়ে ওঠে। বিষয়টিকে সামলাতে মাঝে মধ্যে মা-বাবা বকা দেন শিশুদের। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের শিশু বিষয়ক সংস্থা আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়েট্রিকস জানায়, এটি করলে শিশু আরো বেশি খিটখিটে মেজাজের হয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের ব্যক্তি ও মানসিক গঠনে বড় ধরণের পরিবর্তন নিয়ে আসে বাবা-মার এমন আচরণ।

Manual8 Ad Code

তাহলে বকা না দিয়ে কিভাবে আপনার শিশুর আচরণকে পরিবর্তন করবেন?

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে পাঁচটি পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। সেখানে প্রথমে বলা হয়েছে, শিশুকে রক্ষা করতে বকা দেয়া এবং শিশুর ওপর রাগ দেখিয়ে বকা দেয়ার মধ্যে পার্থক্যটা বাবা-মাকে আগে বুঝতে হবে। শিশুর ওপর কখনই রাগ প্রকাশ করা যাবে না। সেটা আপনার যতই কষ্ট হউক। সেই সঙ্গে শিশুকে বকা দেয়ার পর বোঝানো, কেনো বকা দেয়া হয়েছে।

Manual6 Ad Code

দ্বিতীয়ত, যখন আপনি নিজের রাগ সামলাতে পারবেন না, তখন নিজের কপাল চেপে ধরুন। সমাধানটি আপাতত দৃষ্টিতে হাস্যকর মনে হলেও এটি পরীক্ষিত একটি বিষয়। কেননা আমাদের ‘লিম্বিক সিস্টেম’ থেকে রাগের জন্ম। আর সে কারণেই কপাল চেপে ধরলে আপনার রাগ কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে। আপনার রাগ কিছুটা কমলে ভেবে দেখুন, আসলে আপনি কী করতে চান? তারপর সেই সিদ্ধান্ত অনুসারে কাজ করুন।

Manual3 Ad Code

তৃতীয়ত, ‘মুরগীর মত’ নিজেকে আটকে রাখুন। এটি আসলে নিজের রাগকে সামলানোর সবচাইতে সফল পদ্ধতি। কার্লা নামবার্গ জানান, আপনি রেগে গেলে তখন ভিন্ন কিছু করুন। যে বিষয় নিয়ে আপনি রেগে আছেন তা মন থেকে ঝেড়ে ফেলে আপনি চুপ করে বসে পড়ুন। বেশি রাগ হলে হাত উপরে তুলে আত্মসমর্পণের মত করে ধরে রাখুন। বড় করে নিঃশ্বাস নিন। অথবা অদ্ভুত ও হাস্যকর কিছু করুন। এতে করে আপনার রাগত কমবেই। সঙ্গে সঙ্গে হয়ত আপনার শিশুও তার বিরক্তিকর কাজ বন্ধ করে আপনার দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে থাকবে।

চতুর্থ পরামর্শ হলো, শান্ত গলায় কঠিন কথাটি বলুন। আপনার শিশুর কোন আচরণ পছন্দ না হলে বা তা ঠিক না হলে বাবা-মার কর্তব্য তাকে সাবধান করা। কিন্তু সেটি চিৎকার করে না বলে শীতল গলায় বলুন। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, প্লেন খারাপ আবহাওয়ার মধ্য দিয়ে গেলে পাইলটকে বিষয়টি ঘোষণা করতে হয়। কিন্তু সে খুব উচ্ছ্বাস নিয়ে ঘোষণা করলে যাত্রীরা বিভ্রান্ত হয়ে যাবে। আবার চিৎকার করে বললে সবাই ভয় পাবে। তাই শীতল কণ্ঠে বুঝিয়ে দেয়া বিষয়টি পছন্দ করছেন না আপনি এবং এর জন্য ভবিষ্যতে শাস্তি পেতে হবে।

Manual3 Ad Code

সর্বশেষ পরামর্শ হিসেবে বলা হয়েছে, বারবার আপনার সন্তানকে বলে যাওয়া এবং শিখিয়ে যাওয়া। শিশুকে কিছু বললেই সে শিখে নিবে এমন নয়। তাই আপনাকে বারবার বলে যেতে হবে, চেষ্টা করে যেতে হবে। আর বারবার চেষ্টা করার পরও শিশু আপনার কথা না শোনার অর্থ এই নয়, যে মা-বাবা হিসেবে আপনি ব্যর্থ। বরং ভিন্ন ভাবে, নতুন করে আপনাকে চেষ্টা করে যেতে হবে। ধৈর্য হারাবেন না।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code