শিশু-কিশোরদের হাইপার থায়রয়েডিজম

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual1 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট: থাইরয়েড গ্রন্থিতে সাধারণত দু‘ধরনের সমস্যা দেখা যায়-গঠনগত ও কার্যগত। গঠনগত সমস্যায় থাইরয়েড গ্রন্থি ফুলে যায়, যেটাকে গয়টার বলা হয়। কার্যগত সমস্যা দু‘রকমের হয়- হাইপারথাইরয়ডিজম ও হাইপোথাইরয়ডিজম। হাইপারথাইরয়ডিজমে থাইরয়েড গ্রন্থি বেশি মাত্রায় সক্রিয় হয়ে পড়ে এবং শরীরে থায়রয়েড হরমোনের আধিক্যের লক্ষণ দেখা দেয়। প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষেদের এ সমস্যায় বেশি ভুগতে দেখা যায়। কিন্তু কম বয়সিরাও হাইপারথায়রয়েডিজমে আক্রান্ত হতে পারে।

Manual6 Ad Code

কারণ ঃ
বিভিন্ন কারণেই শিশু-কিশোরদের হাইপারথায়রয়েডিজম হতে পারে। গ্রেভ্স ডিজিজ এর প্রধানতম কারণ। থায়রয়েড নডিউল, অতিরিক্ত আয়োডিন ইত্যাদিও হাইপারথায়রয়েডিজম করতে পারে। আবার থায়রয়েড গ্রন্থির প্রদাহ সাময়িকভাবে হাইপারথায়রয়েডিজম করে থাকে।
হাইপারথাইরয়ডিজমে যে লক্ষণগুলো দেখা যায়, সেগুলো হল ঃ
বাচ্চাদের অস্থিরতা দেখা দেয়। মেজাজ খিটখিটে থাকে।
বুক ধড়ফড় করে ।
হৃদস্পন্দন হার বেড়ে যায়।
দূর্বল লাগে, যে কোন কাজে অনিহা দেখা দেয়। শিশুরা খেলা-ধুলা করতে চায় না।
শরীরের তাপমাত্রা বেড়ে যায়, তা সত্বেও হাত ঘামে।
খিদে বেড়ে গেলেও ওজন কমতে থাকে।
মেয়েদের মাসিকের সমস্যা হয়।
ত্বক কালো হয়ে যায়।
রক্তচাপ বেড়ে যায়।
হাড়ের ক্ষয় শুরু হয়। বেশি বয়সে অস্টিওপোরোসিস হতে পারে।
চোখ কোটর থেকে ঠেলে বেরিয়ে আসে।
বন্ধ্যাত্ব হতে পারে।
ঘন ঘন পায়খানা হতে পারে।
দ্রুত চিকিৎসা না করলে মারাত্মক স্বাস্থ্য সমস্যা হতে পারে, এমনকি মৃত্যুও হতে পারে।

রোগ শনাক্তকরণ ঃ
হাইপারথায়রয়েডিজম শনাক্তকরণের জন্য প্রথমেই রোগীর শারীরিক লক্ষণগুলোকে সঠিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে। শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে নি¤œলিখিত ল্যাবরেটরি পরীক্ষাগুলোর সাহায্য নেওয়া হয়।

Manual1 Ad Code

ক) থায়রয়েড হরমোন পরীক্ষা (এফটি৪, টিএসএইচ, এফটি৩)।
খ) থায়রয়েড এন্টিবডি (টিআর-এবি, এন্টিথাইরয়েড এন্টিবডিস)।
গ) থায়রয়েড আল্ট্রাসনোগ্রাম ঃ এটি ক্রমশ: খুব গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে জায়গা করে নিচ্ছে।
ঘ) থায়রয়েড রেডিও আপটেক ও স্ক্যান ঃ নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্রগুলো এ পরীক্ষাটি করতে সহায়তা করে। হাইপারথায়রয়েডিজমে এটি একটি আদর্শ পরীক্ষা। ফাইন নিডেল এস্পিরেশনঃ কোন কোন সময় এ পরীক্ষাটি প্রয়োজন হতে পারে।

Manual1 Ad Code

চিকিৎসা ঃ

হাইপোথাইরয়ডিজমের চিকিৎসা প্রদানের ক্ষেত্রে শিশুটির বয়স, হাইপারথায়রয়েডিজমের কারণ এবং বিদ্যমান চিকিৎসা প্রতুলতাকে বিবেচনায় এনে নি¤œলিখিত তিনটির যে কোন একটি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
এন্টিথায়রয়েড ওষুধ।
রেডিওএবলাশন।
অপারেশন করে নডিউল দূর করা।

বাংলাদেশে সাধারণভাবে শিশু-কিশোরদেরে মুখে খাবার ওষুধ দিয়েয় হাইপারথায়রয়েডিজমের চিকিৎসা করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে সফলতার হার প্রায় ৫০ শতাংশ। হৃদস্পন্দন কমাবার ওষুধও একই সঙ্গে দেওয়া হয়। নিউক্লিয়ার মেডিসিন কেন্দ্রগুলোর সংখ্যা বাংলাদেশে মোট চাহিদার তূলনায় মারাত্মভাবে কম হবার কারণে হাইপারথায়রয়েডিজমের চিকিৎসায় রেডিওএবলাশনকে বাংলাদেশে প্রধানতম চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহার করা যাচ্ছে না। যদিও বিশে^র অধিকাংশ দেশেই এটিকে মূলধারার চিকিৎসা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এক্ষেত্রে সফলতার হার ৮০ শতাংশের বেশি। থায়রয়েড নডিউল যদি থাকে, বিশেষ করে ৪ সেন্টিমিটারের বেশি ব্যাসের হলে, থায়রয়েড গ্রন্থির অপারেশন করে তা দূর করা সবচেয়ে কার্যকরি চিকিৎসা।

সুত্র: দৈনিক ইনকিলাব

Manual7 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code