শীতে সর্দিজ্বর ও রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুঁকিতে শিশু

লেখক:
প্রকাশ: ৭ years ago

Manual6 Ad Code

শীতে মানুষ বেশি আক্রান্ত হয় সাধারণ সর্দিজ্বরে। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সাধারণ সর্দিজ্বর, রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের ঝুিঁক থাকে বেশি। এ বিষয়ে জনগণকে সচেতন হতে এবং শিশুদের খাবার খাওয়ানোর আগে ভালো করে হাত ধোয়ার মাধ্যমে রোটা ভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

Manual1 Ad Code

বিশেষজ্ঞরা জানান, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি এই চার মাসে রোটা ভাইরাসে আক্রান্তের হার বেশি থাকে। যা মোট আক্রান্তের প্রায় ৮০ ভাগই এই সময়ে হয়। ৬ থেকে ২৪ মাস বয়সি শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় রোটা ভাইরাসে। আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এস এম আলমগীর বলেন, শীত মৌসুম নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত। এই সময়টা ‘কমন কোল্ড’ বা সাধারণ সর্দিজ্বরের মৌসুম। তবে এই সময়ের জ্বরকে অনেকে ইনফ্লুয়েঞ্জা ভেবে ভুল করে থাকেন। সাধারণ সর্দিজ্বরে অ্যান্টিবায়োটিক অকার্যকর হলেও অনেকে তা না জেনেই সেবন করে থাকেন।

 

আইইডিসিআরের পরিচালক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, শীতে ভাইরাসজনিত কারণে তিনটি সংক্রামক রোগ হয়ে থাকে। মানুষ সচেতন হলে এই তিন সংক্রামক রোগ থেকে প্রতিরোধ পাওয়া সম্ভব। রোগ তিনটি হলো—সাধারণ সর্দিজ্বর, রোটা ভাইরাস এবং নিপাহ ভাইরাস।

Manual1 Ad Code

 

আইইডিসিআর এর ভাইরোলজি বিভাগের সহকারী পরিচালক ড. মনজুর হোসেন খান বলেন, যেসব শিশু বস্তি এলাকায়, ডে কেয়ার সেন্টার, এতিমখানায় থাকে তাদের রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তিনি জানান, ২০১২ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে ১০ হাজার ৮১৬ জন শিশু ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়। এরমধ্যে ৬ হাজার ৫২৮ জন শিশু অর্থাৎ ৬০ ভাগ শিশুর রোটা ভাইরাস পজিটিভ পাওয়া গেছে। এই সময়ের মধ্যে পাঁচ জন শিশুর রোটা ভাইরাসে মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। হাসপাতালগুলোতে পরীক্ষা করে দেখা গেছে, ডায়রিয়া আক্রান্ত প্রতি চার জন শিশুর একজন রোটা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়।

শীতকালীন মৌসুমে শিশুরা এই ভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। বিশ্বে শিশু মৃত্যুর চতুর্থ কারণ ডায়রিয়া। রোটা ভাইরাস পাঁচ বছরের কম বয়সি শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। নবজাতক এবং শিশুরা এই ভাইরাসে বেশি আক্রান্ত হয়। শীত যত বেশি পড়ে, রোটা ভাইরাসে শিশুর আক্রান্তের হারও তত বেড়ে যায়।

Manual7 Ad Code

মনজুর হোসেন খান বলেন, তিন মাস থেকে দুই বছরের শিশুরা বেশি এই রোগে আক্রান্ত হয়। ৬ থেকে ১২ মাসের শিশুরা সবচেয়ে বেশি এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকে। বড়োরাও এই রোগে আক্রান্ত হতে পারে। তবে, সেটার পরিমাণ খুবই কম। শরীরে ভাইরাস যাওয়ার পর দুই-তিন দিনের মধ্যে রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায়। জ্বর, বমি, তলপেটে ব্যথা, পানির মতো পায়খানা হতে পারে। বারবার এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়।

শিশুরা ডায়রিয়া নিয়ে হাসপাতালে আসে। এসময় তাদের একজনের থেকে অন্যজনের মধ্যে এই ভাইরাস ছড়ায়। এমনকি ডায়রিয়া হওয়ার আগেই এই রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। খাবার আগে এবং পরে হাত না ধুয়ে খেলে, হাতে এই ভাইরাস থাকা অবস্থায় হাত মুখে দেওয়ার মধ্য দিয়ে এই রোগ ছড়ায়।

Manual5 Ad Code

অধ্যাপক মীরজাদী সাব্রিনা ফ্লোরা বলেন, যেহেতু শিশুরা নিজেদের সুরক্ষা নিজেরা নিতে পারে না, তাই তাদের মা-বাবা বা অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে। তারা শিশুর খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকলে, খাওয়ার আগে শিশুর হাতটা ধুয়ে দিলে, অনেকাংশে এই রোগ প্রতিরোধ হবে। বিশেষ করে এতিমখানায় অনেক শিশু একসঙ্গে থাকে। তাদের কারো একজনার ডায়রিয়া হলে সেটি অন্যদের মধ্যেও ছড়ায়। বাড়িতে যতটা না এই ভাইরাস ছড়ায়। তার চেয়েও বেশি ছড়ায়, শিশু যখন বাইরে খেলতে যায় তখন। এক্ষেত্রে শিশুর পরিচ্ছন্নতার বিষয়টি অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।

প্রতিরোধে করণীয় হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, পানি, খাবার এবং হাতের স্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায় এবং এটি দীর্ঘদিন ধরে বাতাসে থাকতে পারে। রোটা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোনো চিকিৎসা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ডায়রিয়ার চিকিত্সাই এ ক্ষেত্রে দেয়া হয়। হাত ধুয়ে খাবার খাওয়া এবং খাবার গরম করে খাওয়ার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code