শেখ হাসিনার কারণে উত্তরবঙ্গে ‘মঙ্গা’ শব্দটি নিশ্চিহ্ন: শেখ পরশ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কারণে উত্তরবঙ্গে ‘মঙ্গা’ শব্দটি বর্তমানে নিশ্চিহ্ন বলে মন্তব্য করেছেন যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ। শুক্রবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানী মডেল স্কুল মাঠে অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, ‘কোন অজানা কারণে কখনোই উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন ও মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের ব্যাপারে অতীতের কোনো সরকার আগ্রহ দেখায়নি। শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সরকারই উত্তরবঙ্গের মানুষের কথা চিন্তা করেন। তাদের সুখ-শান্তি ও জীবনমান উন্নয়নের কথা ভাবেন।’

এ সময় রংপুর বিভাগের ৯টি জেলা শাখার নেতৃবৃন্দের কাছে রংপুর অঞ্চলের শীতার্ত মানুষের জন্য কম্বল হস্তান্তর করা হয়। একইসঙ্গে বনানী মডেল স্কুল মাঠে প্রায় ১ হাজার অসহায় শীতার্ত মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করে যুবলীগ।

যুবলীগ চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘সোনার বাংলা কায়েম করার লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের এই জানুয়ারি মাসেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনী এনেছিলেন। যেটা দ্বিতীয় বিপ্লব হিসেবে পরিচিত, অনেকে বাকশাল হিসাবেও জানে। কিন্তু আমরা ভুলে যাই, এই দ্বিতীয় বিপ্লবের অন্তর্মূলের তাৎপর্য। এর মূলে ছিল মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় করা, ন্যায়পরায়ণ সমাজব্যবস্থা কায়েম ও মানবিকতা।’

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, ‘আমরা চতুর্থ সংশোধনী বা বাকশাল নিয়ে কেউ কেউ বিব্রত বোধ করি, কেউ কেউ এড়িয়ে যেতে চাই। কিন্তু বিষয়টি পাশ কাটিয়ে যাওয়ার বিষয় না। আমি এই বিষয়টা নিয়ে আজকে কিছু কথা বলবো। দ্বিতীয় বিপ্লব আমাদের ইতিহাসের একটা গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু বাকশাল বা তার দ্বিতীয় বিপ্লবের কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন জাতীয় সংসদের বিপুল ভোটে পাশ করে। সামরিক ফরমান জারি করেও করেন নাই বা হ্যাঁ-না ভোটের মাধ্যমেও করেন নাই। বঙ্গবন্ধু বাকশাল গঠন করার কারণও ব্যাখ্যা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন-ভাগ্যের নিষ্ঠুর পরিহাস, সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন করলাম, কত জেল খাটলাম, আর এখন এক পার্টি করতে যাচ্ছি। আমি এটা চাইনি। বাধ্য হয়ে করতে হচ্ছে। অন্য কোন পথ খোলা না দেখে আমি স্বাধীনতার পক্ষের লোকদের নিয়ে সমমনাদের একটি রাজনৈতিক মঞ্চ হিসেবে বাকশাল গঠন করেছি। আমি সমাজতন্ত্রবিরোধী, ধর্মনিরপেক্ষতাবিরোধী ও সর্বোপরি মুক্তিযুদ্ধবিরোধী কোন দল বা ব্যক্তিকে বাকশালে নেব না। আরও একটি কথা, আমার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য নয়, দেশকে বাঁচানোর জন্য এই পদক্ষেপ। আমি ক্ষমতা অনেক পেয়েছি, এমন আর কেউ পায়নি। সেই ক্ষমতা হলো জনগণের ভালোবাসা ও নজিরবিহীন সমর্থন। আমার এই একদলীয় ব্যবস্থা হবে সাময়িক। দেশটাকে প্রতি বিপ্লবের হাত থেতে রক্ষা করে আমি আবার গণতন্ত্রে ফিরে যাব। মনে রাখতে হবে, বিশ্ব এখন দুই ভাগে বিভক্ত; শোষক আর শোষিত। চেষ্টা করব আমার গণতন্ত্র যেন শোষকের গণতন্ত্র না হয়। আমার দুঃখী মানুষ যেন গণতন্ত্রের স্বাদ পায়। আমার গণতন্ত্র পশ্চিমা গণতন্ত্রের মতো বৈষম্যমূলক এবং শোষণের হাতিয়ার হবে না।’

শোষিতের গণতন্ত্রই ছিল বঙ্গবন্ধুর লক্ষ্য-এ কথা বঙ্গবন্ধু নিজেই বলেছেন উল্লেখ করে শেখ ফজলে শামস্ পরশ বলেন, ‘শোষিতের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এটা ছিল বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব। তাকে হত্যা করার পর বিবিসি এক সংবাদ ভাষ্যে বলেছিল-পৌনে দুইশ বছরের ইংরেজ ঔপনিবেশিক শাসনের পর এই প্রথম শেখ মুজিব এক নতুন ধরনের স্থানীয় সরকারভিত্তিক শাসনকাঠামো গড়ার উদ্যোগ নিয়েছিলেন।’

যুবলীগ চেয়ারম্যান বলেন, ‘শেখ মুজিব কী কখনো রাজনৈতিক মিথ্যাচার, শঠতা ও চাণক্যনীতির আশ্রয় নিয়েছেন? না, কেউ তা বলতে পারবে না। তাহলে গুরুতর অন্তর্ঘাতমূলক অবস্থার প্রেক্ষাপটে তার নেওয়া একটা দুঃসহ অবস্থা মোকাবিলার সাময়িক ব্যবস্থা নিয়ে যারা তাকে সন্দেহ করে এবং ভুল বোঝে, দেশের স্বাধীনতা অর্জনে তাদের ত্যাগ কতটুকু? আজীবন সংগ্রামী শেখ মুজিবের চেয়েও বেশি? এছাড়া ঐ সময়ে বিশ্ব পরিস্থিতিতে এ ধরনের নিয়ন্ত্রণমূলক ও স্থিতিশীল পরিবেশে অর্থনৈতিক বিকাশের ব্যবস্থা তো অনেক দেশেই ছিল। অতএব, বঙ্গবন্ধু যদি ঐসব দেশের অনুকরণে বাকশাল গঠন করে দ্রুত আর্থিক বিকাশ ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক সমাধান সৃষ্টি করতে চেয়ে থাকেন, তাহলে তো তাকে দোষ দেওয়া যায় না। তিনি যা করেছিলেন, তা সাংবিধানিকভাবেই করেছিলেন। তিনি যেটা করেছিলেন সেটা মানুষের ন্যায্য অধিকার আদায় করার জন্য করেছিলেন, ন্যায়পরায়ণ সমাজ ব্যবস্থা সৃষ্টির জন্য করেছিলেন এবং মানবিকাতার জন্য করেছিলেন।’

Manual5 Ad Code

বঙ্গবন্ধুর মানবিকতা প্রতিষ্ঠার অন্যতম সহযোগী ছিলেন শেখ ফজলুল হক মণি। তিনি তার অজস্র লেখায় যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশের সুবিধা বঞ্চিত শ্রেণির মানুষের দুঃখ-কষ্টের কথা তুলে ধরেছিলেন ও মানবিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সচেষ্ট হয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর গৃহীত নতুন পদক্ষেপ বা দ্বিতীয় বিপ্লব বাস্তবায়িত হওয়ার পূর্বেই একদল খুনি, ঘাতকচক্র বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শেখ ফজলুল হক মণিকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে সমগ্র বাংলাদেশে অমানবিক, সন্ত্রাসী ও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে। সদ্য স্বাধীন রাষ্ট্রে প্রতিবিপ্লবীদের উত্থান এবং ষড়যন্ত্র সম্পর্কে শেখ মণি আঁচ করতে পেরেছিলেন এবং বঙ্গবন্ধুকে সতর্ক করেছিলেন।’

Manual1 Ad Code

তিনি যুবলীগ নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিয়ে অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি জনকল্যাণমূলক কর্মসূচিকে গুরুত্ব দিয়ে মানবিক বাংলাদেশের চেতনাকে পুনরোজ্জীবিত করেন। বিশ্বের অন্যতম সৎ, দক্ষ ও সেরা প্রধানমন্ত্রীর স্বীকৃতিসহ তিনি অর্জন করেন ‘মাদার অব হিউম্যানিটি’, ‘বিশ্বমানবতার নেতৃত্ব’, ‘সর্বশ্রেষ্ঠ মানবিক নেতা’, ‘মানবতার চ্যাম্পিয়ন’ ও অনেক মর্যাদাপূর্ণ বিশেষণ। তার উন্নয়ন তত্ত্ব এবং সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে প্রিয় বাংলাদেশও অর্জন করেছে সমৃদ্ধ ও মানবিক রাষ্ট্রের স্বীকৃতি।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান যুবলীগের অন্যতম লক্ষ্য রাষ্ট্রের মানবিক ধারাকে গতিশীল করতে নেতৃত্ব দেওয়া এবং ষড়যন্ত্রকারী ও প্রতিবিপ্লবীদের প্রতিহত করে মানুষের সুখে-দুঃখে সহমর্মী হওয়া।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code