

কানাডা অফিস: অটোয়া ও নয়াদিল্লিতে কূটনীতিক বহিষ্কার, বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত, ভারতের কানাডায় ভ্রমণ সতর্কতা জারি এবং কানাডার নাগরিকদের ভারতীয় ভিসা দেওয়া সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে। আগামীতে দেশ দুটি কী পদক্ষেপ নিতে পারে? কানাডার সংবাদমাধ্যম টরন্টো স্টার-এর এক প্রতিবেদনে এই বিষয়ে আলোকপাত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোনও দেশ থেকে বিদেশি কূটনীতিকদের বহিষ্কার করা অপর দেশটির প্রতি সরকারের অসন্তুষ্টি প্রকাশের প্রথম ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কিন্তু উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব শেষ পর্যন্ত দুই দেশের জনগণের ওপর পড়তে পারে।
ইন্দো-কানাডা সম্পর্কের এই বিরোধ ‘আশ্চর্যজনক’ উল্লেখ করে সাবেক কানাডীয় কূটনীতিক প্যাট্রিসিয়া ফর্টিয়ের বলেছেন, বিদেশি কর্মকর্তাকে কোনও দেশ থেকে বহিষ্কারকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। এমন পদক্ষেপ কেবল তখন নেওয়া হয়, যখন কর্তৃপক্ষ একান্ত আলোচনায় কোনও ইস্যু সমাধানে ব্যর্থ হন।
ওয়াশিংটনে কানাডা দূতাবাসে কাউন্সেলর হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ফর্টিয়ের বলেছেন, কূটনীতিক বিশ্বে এটি খুব কঠোর পদক্ষেপ। এটি দেশ অপর দেশকে অসন্তুষ্টির তীব্রতা জানান দেয় এমন পদক্ষেপের মাধ্যমে। বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা একটি বড় পদক্ষেপ। কোনও ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ বড় পদক্ষেপ। এসব পদক্ষেপ শত্রুতাপূর্ণ। কানাডা ও ভারত এমন পদক্ষেপ এখনও নেয়নি। আমি আশা করি এমনটি ঘটবে না।
কানাডায় খালিস্তানপন্থি হারদীপ সিং নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে সোমবার ভারতকে কাঠগড়ায় তোলেন কানাডীয় প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। তিনি বলেছিলেন, কানাডার নাগরিক নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারত সরকারের গুপ্তচরদের হাত থাকতে পারে। ট্রুডোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই অভিযোগ অযৌক্তিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
কানাডার নাগরিক ও ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন কেটিএফ প্রধান নিজ্জারকে গত ১৮ জুন গুলি করে হত্যা করা হয়। ব্রিটিশ কলাম্বিয়া প্রদেশের পাঞ্জাবি অধ্যুষিত শিখদের ধর্মীয় উপাসনালয়ের পার্কিংয়ে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায় তাকে। দীর্ঘদিন ধরে তাকে খুঁজছিল ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী। তার মাথার দাম ১০ লাখ রুপি ঘোষণা করেছিল নয়াদিল্লি।
বলিভিয়া, ডোমিনিকান রিপাবলিক ও পেরুতে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী সাবেক এই কূটনীতিক বলেছেন, যদি নিজ্জার হত্যাকাণ্ডে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার জড়িত থাকে তাহলে তা ‘বড় ঘটনা’।
তবে সতর্কতার সঙ্গে তিনি বলছেন, গোয়েন্দা তথ্য-প্রমাণ নয়। প্রকাশ্যে এমন অভিযোগ করা দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।