

সংগ্রাম দত্ত
মানুষের বসতবাড়ি, মুরগির খাঁচা কিংবা কবুতরের ঘরে হঠাৎ অচেনা অতিথি—প্রকৃতির এক নিশাচর প্রাণী গন্ধগোকুল। সাধারণত রাতের আঁধারেই এর বিচরণ। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গলের এক বাড়িতে এমনই এক গন্ধগোকুল ধরা পড়ে, যা গ্রামীণ জনজীবনে বেশ সাড়া ফেলে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের কাইয়ুম মিয়ার বাড়ি থেকে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে প্রাণীটি আটক করেন স্থানীয়রা। অভিযোগ রয়েছে, প্রায় এক মাস ধরে বাড়ির আশেপাশে অবস্থান করে ওই গন্ধগোকুলটি প্রায় ৩০ থেকে ৩৫টি মুরগি ও কবুতর শিকার করেছে। বারবার চেষ্টা করেও প্রাণীটিকে ধরতে ব্যর্থ হন এলাকাবাসী। অবশেষে সেদিন সকালে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এটি আটকে ফেলা সম্ভব হয়।
আটকের পর বাড়ির মালিক কাইয়ুম মিয়া বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে অবহিত করেন। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। পরে সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।
পরবর্তীতে বন বিভাগের তত্ত্বাবধানে গন্ধগোকুলটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থল—জানকীছড়ায় অবমুক্ত করা হয়।
প্রকৃতির ভারসাম্যের অংশ-
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গন্ধগোকুল একটি নিরীহ বন্যপ্রাণী। এরা মূলত ফল, ফুল ও ছোট প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। গ্রামাঞ্চলে হঠাৎ এদের উপস্থিতি মানুষকে আতঙ্কিত করলেও প্রকৃতপক্ষে জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় এর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
শ্রীমঙ্গলে বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় কাজ করা সংগঠনগুলো মনে করছে, মানুষের সচেতনতা বাড়লেই এমন প্রাণী অযথা ক্ষতির শিকার হবে না। বরং তাদের বাঁচিয়ে রাখলেই প্রকৃতির ভারসাম্য অটুট থাকবে।