

সংগ্রাম দত্ত
মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলায় কৃষিক্ষেত্রে এক নতুন আশার আলো জ্বলছে—বস্তায় আদা চাষ। খরচ কম, পরিশ্রমও সীমিত, আর লাভের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো হওয়ায় এই চাষ পদ্ধতি কৃষকদের কাছে হয়ে উঠেছে আস্থার নাম।
উপজেলার কালাপুর, মাজদিহি, টিকরিয়া, সুনগইড়, মোহাজেরাবাদসহ প্রায় ১৬টি গ্রামে এ বছর প্রায় ১৫ হাজার বস্তায় আদা চাষ হয়েছে। এর মধ্যে উপজেলা কৃষি অফিস ৭ হাজার ৫ শত বস্তা দিয়েছে প্রদর্শনী প্লট হিসেবে, বাকিগুলো করেছেন কৃষকরা নিজেদের উদ্যোগে।
২০২৩ সালে মাত্র ৬ হাজার বস্তা দিয়ে শুরু হওয়া এই চাষ ২০২৫ সালে এসে পৌঁছেছে ১৫ হাজার বস্তায়। কৃষি বিভাগের প্রত্যাশা, এ বছর আদা উৎপাদন হবে প্রায় ১২ হাজার কেজি, যার বাজার মূল্য প্রায় ১৩ লাখ টাকা।
সহজ পদ্ধতি, কম খরচ-
বস্তায় আদা চাষের জন্য রোপণের সময় এপ্রিল-মে মাস। আগে থেকে মাটি প্রস্তুত করে বস্তায় ভরা হয়। মিশ্রিত হয় গ্যাসমুক্ত গোবর, ছাই, ভার্মি কম্পোস্ট, রাসায়নিক সার ও কীটনাশক।
সঠিক সময়ে ইউরিয়া ও পটাশ সারের প্রয়োগ (৫০, ৮০ ও ১১০ দিনে) এবং ছত্রাকনাশক স্প্রে গাছকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
প্রতি বস্তায় খরচ পড়ে মাত্র ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, আর এক বস্তা থেকেই পাওয়া যায় প্রায় ১ কেজি আদা। বাজারে প্রতি কেজি আদার দাম ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, যা থেকে প্রতি বস্তায় লাভ হচ্ছে প্রায় ২০০ টাকার মতো।
কৃষকদের কণ্ঠে আশাবাদ-
শ্রীমঙ্গলের কৃষক মুক্তার হোসেন জানান, এ বছর তিনি ৫০০ বস্তায় আদা চাষ করছেন। গত বছর ১,২০০ বস্তা থেকে ৭০০ কেজি আদা পেয়েছিলেন। কৃষি অফিস ৩০০ কেজি আদা কিনে নেয় বীজ সংগ্রহের জন্য, আর বাকিটা বাজারে বিক্রি করে পেয়েছেন সন্তোষজনক মুনাফা।
কৃষি বিভাগের সহযোগিতা
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন,
“বস্তায় আদা চাষ একটি লাভজনক পদ্ধতি। যেকোনো খালি জায়গা যেমন উঠান, ছাদ বা পতিত জমি ব্যবহার করে এটি করা যায়। রোগবালাই কম, পরিশ্রম কম, লাভ বেশি—সব মিলিয়ে এটি একটি কার্যকর উদ্যোগ।”
উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুকুর রহমান জানান,
“চাষিদের জন্য আমরা প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, বীজ, বস্তা ও রাসায়নিক দিচ্ছি। আমাদের নিয়মিত মনিটরিং ও পরামর্শে কৃষকরা ভালো ফল পাচ্ছেন।”
উপসংহার-
বস্তায় আদা চাষ এখন আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয় নয়, বরং শ্রীমঙ্গলের কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক বাস্তবতা। সরকারি সহায়তা, প্রযুক্তি জ্ঞান এবং কৃষকদের উৎসাহ একত্রে এনে দিয়েছে একটি নতুন কৃষি বিপ্লব। এই ধারা অব্যাহত থাকলে শ্রীমঙ্গল ভবিষ্যতে আদা উৎপাদনে দেশকে দেখাতে পারে নতুন দিশা।