

সংগ্রাম দত্ত
শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভাড়াউড়া এলাকায় সরকারি ইজারা বাতিলের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের পর শ্রীমঙ্গল থানার সদর ইউনিয়নের মৌলভীবাজার সড়কের ৫ নং ব্রীজের পাশে উত্তর ভাড়াউড়ার শতাধিক মানুষ এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
মানববন্ধনে বক্তারা জানান, জাইনকা ছড়ায় গত দুই বছর ধরে সরকারি ইজারা প্রদান করা হলেও এর আগে প্রায় দুই যুগ কোনো ইজারা ছিল না। ইজারা প্রদানের পর থেকেই ছড়া থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়, যা স্থানীয় অবকাঠামোর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইতিমধ্যে বালু উত্তোলনের কারণে সড়কের গাইডওয়াল ও বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে পড়েছে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল-মৌলভীবাজার আঞ্চলিক মহাসড়কের ৫ নং ব্রীজটি এখন গুরুতর ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অংশগ্রহণকারীরা আরও অভিযোগ করেন, ছড়ার পাশেই মসজিদ ও আবাসিক বাড়িঘর রয়েছে। বালু তোলার ফলে এসব স্থাপনাও হুমকির মুখে পড়ছে। তাই তারা স্থায়ীভাবে ছড়া থেকে বালু উত্তোলন বন্ধ এবং ইজারা বাতিলের জোর দাবি জানান। এলাকাবাসী এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে ইতিমধ্যেই লিখিত আবেদনও করেছেন।
ভাড়াউড়ার প্রবীণ ব্যক্তি ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর সাঈদ মিয়া বলেন, “ইজারা দেওয়ার পর থেকে বালু উত্তোলন শুরু হয়েছে। এতে রাস্তা ও গাইডওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। মসজিদ ও ব্রীজ পর্যন্ত হুমকির মুখে। তাই অবিলম্বে ইজারা বাতিল করা অত্যন্ত জরুরি।” তিনি খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “আমি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। ইতোমধ্যে এসি ল্যান্ড ও সার্ভেয়ারকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মূল্যায়ন প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, শ্রীমঙ্গল থানার বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের খবর প্রায়ই প্রকাশিত হচ্ছে। এ কারণে অতীতে একাধিক প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। ভুনবীর ইউনিয়নে মালবাহী ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে দুইজন এবং সিন্দুরখান ইউনিয়নে ট্রাকের ধাক্কায় আরও একজন নিহত হন। এসব ঘটনার সঙ্গে স্থানীয় প্রভাবশালী গোষ্ঠী ও কিছু সাংবাদিক জড়িত থাকার অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়াসহ বিভিন্ন মাধ্যমে আলোচিত হয়েছে। স্থানীয় জনসাধারণ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়ে আসছেন।