

সংগ্রাম দত্ত
শারদীয় দুর্গোৎসবকে সামনে রেখে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সদর ইউনিয়নের সবুজবাগ ও লালবাগ এলাকার কাদা-গর্তে ভরা রাস্তা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন।
মঙ্গলবার (১৬ সেপ্টেম্বর ) দুপুরে তিনি ৫নং ওয়ার্ডের বিভিন্ন সড়ক, পার্শ্ববর্তী এলাকার চলাচলজনিত সমস্যার সঙ্গে সরাসরি পরিচিত হন এবং দ্রুত সংস্কার-রেখা নির্ধারণের আশ্বাস দেন।
সবুজবাগ—লালবাগ দু’পাশে গ্রামটির জীবজন্তু; কিন্তু বৃষ্টির দিনে সেখানকার রাস্তা যেন উদ্বাস্তুর পথ। স্থানীয়রা জানান, বর্ষাকালে কাদা ও গভীর গর্তে নিত্য চলাচল কষ্টকর হয়ে ওঠে; সদ্য বিবাহিত মায়েরা পূজার আনাগোনা নিয়ে বাজারে গেলে হাতে ব্যাগ, পায়ে কাদা—এগুলো তাদের দৈনন্দিন বিরক্তি। পরিদর্শনকালে উপজেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা মৃনাল কান্তি দাশ এবং ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য পিয়াস দাশও উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. ইসলাম উদ্দিন বলেন, “সরকার জনগণের কল্যাণে কাজ করছে। পূজা উপলক্ষে যাতে কেউ ভোগান্তিতে না পড়ে, সেজন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি আশ্বাস দেন যে প্রয়োজনীয় মেরামত ও সাময়িক ফিলিং-ওয়ার্ক দ্রুতভাবে করা হবে যাতে উৎসব মূলত নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। প্রশাসনিক কর্মীরা পরিদর্শনের সময়ে রাস্তার আকৃতি, পয়েন্ট-নোড এবং প্রয়োজনীয় মাটি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্ণয় করেন।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা স্পষ্ট: দুর্গোৎসব শুরুর আগেই যদি রাস্তা সংস্কার ও মেরামত করা হয়, তবে তাদের ভোগান্তি অনেকটাই কমবে এবং উৎসব হবে আরও আনন্দমুখর। একাধিক গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ট্রাক ও সকল ধরনের যানবাহন চলাচলে বড় সমস্যা দেখা দেয়—ফলশ্রুতিতে দোকান–পাটে আগাম পণ্য আনাতেও অস্বস্তি হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও রোগীরাও এই অব্যবস্থার প্রভাব বহন করে যায়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি পিয়াস দাশ বলেন, দ্রুত কাজ হলে পূজার সময় স্থানীয় বাজারে মানুষের উপচে পড়া ভিড় স্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে এবং ছোট ব্যবসায়ী-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোও উপকৃত হবে। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন পয়েন্টে সাময়িক সভেলাইন বসানো, খাল পরিষ্কারকরণ এবং মাটি ভরাটের মতো উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান জেলা-স্তরের সূত্র।
সড়ক সংস্কার কার্য সফল হলে তা কেবল কাদা-গর্ত নয়, বরঞ্চ জনগণের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও উৎসব-আয়োজনে প্রত্যক্ষ প্রভাব ফেলবে—এই আশায় আশপাশের বাসিন্দারা এখন প্রশাসনের ঘোষিত দ্রুত ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায়।