

সম্পাদকীয়: নজিরবিহীন অর্থনৈতিক সংকট। নিত্যপণ্যের দাম নিয়ে বেহাল সাধারণ মানুষ। গণরোষ রূপ নেয় গণবিক্ষোভে। সাধারণের জীবন ও জীবিকার এমন সংকটই শেষ পর্যন্ত প্রবল পরাক্রমশালী গোতাবায়া রাজাপাকসেকে ক্ষমতাচ্যুত করে ছাড়ল।
অবস্থা এমন দাঁড়াল—দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। বুধবার কলম্বোয় ভোর হওয়ার আগেই সামরিক বিমানে চড়ে দেশ ছেড়ে পার্শ্ববর্তী মালদ্বীপে পালিয়ে যান গোতাবায়া। সেখান থেকে সিঙ্গাপুরে যাওয়ার কথা রয়েছে তার।
গত তিন দশকের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ার আর কোনো দেশ শ্রীলঙ্কার মতো একত্রে এমন অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক সংকটে পড়েনি। যে সংকটে নিষ্পেষিত লঙ্কাবাসীদের সামনে ত্রাতা হয়ে আসবেন কে— সেই প্রশ্নও আসছে সামনে। সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন আসছে—ভারত মহাসাগরের এই দ্বীপ দেশের সামনে কী? কোন পথে যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা?
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা শ্রীলঙ্কার এমন দুর্দশার জন্য দায় দিচ্ছেন দীর্ঘকাল দেশটির ক্ষমতায় থাকা রাজাপাকসে পরিবারের অদমনীয় দুর্নীতিকে। তামিল যুদ্ধের সমাপনে ভূমিকা রাখা এই পরিবারটির দুর্নীতির কারণেই আজকের অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হয়েছে।
গোতাবায়া পালালেও এখনো বুধবার পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট পদ ত্যাগ করেননি। বুধবার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী রনিল বিক্রমাসিংহে। অন্তবর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাকে নিয়োগ দেন পার্লামেন্টের স্পিকার মাহিন্দা ইয়াপা আবেবর্ধনে।
বিবিসি বলেছে, রাজাপাকসে মালদ্বীপে অবস্থান করবেন না। তিনি তৃতীয় কোনো দেশে চলে যাবেন বলে জানা গেছে। তার ভাই সাবেক অর্থমন্ত্রী বাসিল রাজাপাকসে ইতিমধ্যেই শ্রীলঙ্কা ত্যাগ করেছেন এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রয়েছেন।
এমন অবস্থার মধ্যে দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশে জারি হয়েছে কারফিউ। এর মধ্যে বাণিজ্যিক রাজধানী কলম্বোয় বিক্ষোভকারীরা জরুরি অবস্থা ভঙ্গ করে বিক্রমাসিংহের অফিসে ঢুকে পড়ে। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। উত্তপ্ত এই পরিস্থিতির মাঝেই গুজব রটেছিল শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্টকে দেশ ছেড়ে পালাতে সাহায্য করেছে প্রতিবেশি দেশ ভারত। তবে ভারত সরকার এমন খবরকে ভিত্তিহীন বলে তা নাকচ করেছে। শ্রীলঙ্কায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনের তরফে জানানো হলো, এই অভিযোগ সম্পূর্ণরূপে গুজব ও ভিত্তিহীন।
এক টুইটে কলম্বোয় ভারতীয় হাই কমিশন বলেছে, ‘গোতাবায়া রাজাপাকসেকে শ্রীলঙ্কা থেকে পালাতে সাহায্য করার যাবতীয় ভিত্তিহীন গুজব নসাৎ করছে হাই কমিশন। শ্রীলঙ্কাবাসী গণতান্ত্রিক উপায় ও মূল্যবোধের উপর ভিত্তি করে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান এবং সাংবিধানিক কাঠামোর মাধ্যমে সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির জন্য লড়াই করছে, ভারত সর্বদা শ্রীলঙ্কার মানুষের পাশেই রয়েছে’।