চা-শ্রমিকদের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করতে হবে

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual3 Ad Code

উপ-সম্পাদকীয় : প্রধানমন্ত্রী চা-শ্রমিকদের বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার যে ঘোষণা দিয়েছেন, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক এবং এর ফলে চা-শ্রমিকদের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে, তা বলাই বাহুল্য। উল্লেখ্য, সম্প্রতি দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে চা-শ্রমিকরা আন্দোলন শুরু করলে মালিকপক্ষ বর্তমান মজুরির সঙ্গে ১৪ টাকা যোগ করে মোট ১৩৪ টাকা করার প্রস্তাব দেন। কিন্তু সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে চা-শ্রমিকরা দৈনিক ৩০০ টাকা মজুরির দাবিতে অনড় থাকেন। দাবির পক্ষে শ্রমিক নেতাদের ভাষ্য ছিল-দীর্ঘদিন ধরে চা-শ্রমিকরা তাদের ন্যায্য অধিকার যেমন: মজুরি, চিকিৎসা, শিক্ষা, বাসস্থানসহ বিভিন্ন দিক থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। এ অবস্থায় তারা ন্যায়সংগত দাবিতে আন্দোলন করছেন, যা অত্যন্ত যৌক্তিক।
শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে প্রশাসন থেকে শুরু করে চা-শ্রমিক সংগঠনের নেতারা কয়েক দফা চেষ্টা করেও শ্রমিকদের কাজে ফেরাতে না পারার প্রেক্ষাপটে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেন প্রধানমন্ত্রী। এরই ধারাবাহিকতায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেশের বৃহৎ ১৩টি চা-বাগানের মালিক বৈঠকে বসেন। বৈঠক শেষে দৈনিক মজুরি ১৭০ টাকা নির্ধারণ এবং চা-শ্রমিকদের সঙ্গে শিগগিরই ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে আলোচনার ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তাদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানান। এর পরপরই প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে শ্রমিকরা কাজে যোগ দেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শনিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে বাসস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দেন, যা মানবিক ও সময়োচিত পদক্ষেপ বলে মনে করি আমরা।
এতদঞ্চলে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে চা উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৮৫৪ সালে, সিলেটের মালনীছড়ায়। সেসময় চা-শিল্পকে বিকশিত করতে ব্রিটিশ সরকার ভারতের ওড়িশা, ঝাড়খণ্ড, উত্তর প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে দরিদ্র আদিবাসীদের ট্রেনে সিলেট অঞ্চলে নিয়ে আসে। ভূমিসহ নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাদের নিয়ে আসা হলেও বাস্তবে এর কিছুই জোটেনি বলা চলে। দেশের ১৬২টি চা-বাগানের মধ্যে ১৩৭টিই রয়েছে সিলেট বিভাগে এবং এখানে কর্মরত চা-জনগোষ্ঠীর সংখ্যা প্রায় ৭ লাখ। স্বল্পমজুরি এবং সব ধরনের নাগরিক সুবিধাবঞ্চিত থাকায় জীবনমানের সব সূচকেই পিছিয়ে রয়েছেন চা-শ্রমিকরা। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিবছর নতুন মজুরি বাস্তবায়নের কথা থাকলেও বিগত ১৯ মাসেও নতুন মজুরি নির্ধারণ হয়নি চা-শ্রমিকদের।
সরকার ও বাগান কর্তৃপক্ষ শুধু আশ্বাস দিয়ে এতদিন পার করেছে। অবশেষে প্রধানমন্ত্রী নিজে এদিকটায় মনোযোগ দেওয়ায় ইতোমধ্যে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরির পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্ধিত মজুরির পাশাপাশি চা-শ্রমিকদের প্রাপ্য ন্যায়সংগত ও যৌক্তিক অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার ব্যাপারে এ সরকারের প্রধানমন্ত্রী যে যথেষ্ট আন্তরিক, বাসস্থানের ব্যবস্থা করে দেওয়ার ঘোষণায় তা স্পষ্ট হয়েছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code