

সম্পাদকীয়: বেপরোয়া অর্থ পাচারের কারণে দেশের অর্থনীতি কতটা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে তা বহুল আলোচিত। অর্থ পাচারের কৌশলগুলোও বারবার আলোচনায় আসে। কাজেই অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করতে হলে কর্তৃপক্ষকে জোরালো পদক্ষেপ নিতে হবে। রপ্তানির আড়ালেও অর্থ পাচার হয়ে থাকে। এ ধরনের তৎপরতা প্রতিরোধে কাজ করছে কাস্টমস। সরকারি প্রণোদনা হাতিয়ে নিতে রপ্তানিবিষয়ক তথ্যে জালিয়াতির আশ্রয়ও নেওয়া হচ্ছে। এসব অপকর্ম সম্পন্ন করতে অসাধু ব্যবসায়ীরা মূলত সাতটি পন্থা অনুসরণ করছে, যা চিহ্নিত করেছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের তথ্য-প্রমাণসহ বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সম্প্রতি জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) একটি প্রতিবেদন দিয়েছে শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। ওই প্রতিবেদনে অর্থ পাচার রোধে জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কী করণীয়, এ বিষয়েও বেশকিছু সুপারিশ করা হয়েছে। শুল্ক গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ রপ্তানির আড়ালে অর্থ পাচারের পদ্ধতিগুলো শনাক্ত করতে পেরেছে, এজন্য তারা সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য। এসব তথ্য কাজে লাগিয়ে অর্থ পাচারকারীদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হলে এ প্রবণতা কমবে, এটা আশা করা যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, অসাধু ব্যবসায়ী, কাস্টমস কর্মকর্তা ও ব্যাংক কর্মকর্তা-ত্রিপক্ষীয় যোগসাজশ ছাড়া কোনোভাবেই অর্থ পাচার সম্ভব নয়। এ সম্পর্কিত তথ্য সংগ্রহ করে অপরাধীদের চিহ্নিত করতে কর্তৃপক্ষকে পদক্ষেপ নিতে হবে।
জানা যায়, রপ্তানিবিষয়ক তথ্য জালিয়াতি করা হচ্ছে মূলত সরকারি প্রণোদনা হাতিয়ে নিতে। ওভার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে পণ্যের মূল্য ও ওজনবিষয়ক তথ্য জালিয়াতি করে প্রণোদনার অর্থ আত্মসাৎ করা হচ্ছে। আবার আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমেও অর্থ পাচার হচ্ছে। যেসব পণ্যের রপ্তানি প্রণোদনা নেই বা কম, সেসব পণ্যে আন্ডার ইনভয়েসিং করা হয়। এছাড়া কম ঘোষণায় বেশি পণ্য রপ্তানির ঘটনাও ঘটছে। ক্ষেত্রবিশেষে বেশি ঘোষণা দিয়ে কম পণ্য পাঠানোর ঘটনাও ঘটছে। পণ্য বিদেশে রপ্তানি না করে শুধু কাগজ জাল-জালিয়াতির মাধ্যমেও সরকারি প্রণোদনার অর্থ আত্মসাতের ঘটনা ঘটেছে। একটি প্রতিষ্ঠান জানায়, ১১১টি চালান বিদেশে রপ্তানি করে এর বিপরীতে ৩১ কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যাংকিং চ্যানেলে বাংলাদেশে এসেছে।