উপকূলীয় প্লাবনরোধে এলাকায় টেকসই বাঁধ নির্মাণ জরুরি

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

সম্পাদকীয়: দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় অনেক জেলাতেই উপকূলের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। পানের বরজ, আমন ধানের বীজতলা তিন-চার ফুট পানির নিচে চলে গেছে এবং পানির তোড়ে ভেঙে গেছে অনেক রাস্তা। নদীমাতৃক ও ভাটির দেশ হওয়ায় আমাদের দেশে বন্যা, বানের পানি ও জোয়ারের পানির কারণে প্রতি বছর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি স্বাভাবিক বিষয়ে পরিণত হলেও এ ব্যাপারে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় কার্যকর ও টেকসই বাঁধ নির্মাণসহ জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলায় আরও যেসব পদক্ষেপ দরকার, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তা নিতে হবে। প্লাবনে বাঁধ ভেঙে ক্ষয়ক্ষতি নতুন কোনো বিষয় নয়। বাঁধ ভাঙার পেছনে প্রাকৃতিক কারণের চেয়ে মনুষ্যসৃষ্ট কারণ আমাদের দেশে অনেক বেশি। প্রথমত, দৃঢ় ও মজবুত বাঁধ তৈরি করা হয় না এবং ঠিকাদাররা পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন পক্ষের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজশে মানসম্মত কাজ না করে পার পেয়ে যায়। দরপত্রের শর্ত মোতাবেক দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতা অনুযায়ী বাঁধ তৈরি করা হয় না, এমনকি ব্যবহার করা হয় নিম্নমানের সামগ্রী। বাঁধে রডের স্থলে বাঁশ ব্যবহারের খবর অনেকবার এসেছে। ২০১৭ সালে সুনামগঞ্জের হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষতি ও চালের দাম অস্বাভাবিক বৃদ্ধির পেছনেও ঠিকাদারদের ভালোভাবে বাঁধ তৈরি না করা অন্যতম কারণ ছিল। হাওরের মতো উপকূলীয় এলাকাগুলোর বাঁধের ক্ষেত্রেও একই ধরনের সমস্যা বিদ্যমান। এছাড়া বাঁধ তৈরির পর রক্ষণাবেক্ষণ ভালোভাবে না করা, বাঁধের ওপর মানুষের বসবাস, গবাদিপশু লালন-পালন এবং শস্য তোলা-শুকানোর কারণে ইঁদুরের গর্ত করা ইত্যাদি বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। সর্বোপরি বরিশালে জোয়ারের পানির প্রাবল্যের পেছনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব দায়ী কিনা, তাও খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেয়া দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের অনেক বেশি ভোগান্তির শিকার হতে হবে- এ খবর নতুন নয়। উপকূলীয় এলাকাগুলো এ ক্ষতির বেশি শিকার হবে এবং অনেক অঞ্চল তলিয়ে যাবে, এমন আশঙ্কার খবরও আমাদের অজানা নয়। এ অবস্থায় উপকূলীয় এলাকা বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কী কী সমস্যা তাতে প্রভাব ফেলছে, সেগুলো বিবেচনায় নিয়ে অগ্রসর হওয়া দরকার।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code