ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের আশায় আনচেলত্তির ওপর ভরসা ব্রাজিলের

লেখক: বাংলানিউজ ইউএস.কম
প্রকাশ: ৪ মাস আগে

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:ইউরোপীয় প্রতিদ্বন্দ্বীদের কাছ থেকে আবারও বিশ্বকাপের শ্রেষ্ঠত্ব ফিরে পাওয়ার লক্ষ্যে ব্রাজিল এবার দায়িত্ব তুলে দিয়েছে একজন ইউরোপীয় কোচের হাতে। ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তির ওপর ন্যস্ত হয়েছে ব্রাজিলের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ জয়ের অপেক্ষার অবসান ঘটানোর দায়িত্ব।সেলেসাওরা সর্বশেষ বিশ্বকাপ জিতেছিল ২৪ বছর আগে। ১৯৭০ সালে কিংবদন্তী ব্রাজিলিয়ান পেলে পুরোনো জুল রিমে ট্রফি জয়ের পর ১৯৯৪ সালে আবার বিশ্বকাপ জিততে ঠিক এত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছিল।
৬৬ বছর বয়সী আনচেলত্তির বিশ্বকাপে এখনো অপূর্ণতা রয়ে গেছে, আর ব্রাজিলও যেন পুনর্জাগরণের জন্য প্রস্তুত।

সম্প্রতি আনচেলত্তি দ্য গার্ডিয়ানকে বলেছেন, “বিশ্বকাপ জয় নিযয়ে আমি আচ্ছন্ন নই, তবে আমি যে মুহূর্তে আছি তা উপভোগ করছি এবং বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার আনন্দ ও আবেগ অনুভব করছি।”ডাগআউটে শান্ত স্বভাব এবং কৌশলগত বাস্তববাদী দৃষ্টিভঙ্গির কারণে আনচেলত্তিকে তার প্রজন্মের সবচেয়ে সফল কোচদের একজন ধরা হয়। তিনি পাঁচবার উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জিতেছেন- দুইবার এসি মিলান এবং তিনবার রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে। এছাড়া ইতালি, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনে লিগ শিরোপাও জিতেছেন।

গত বছর রিয়াল মাদ্রিদ ছাড়ার পর আনচেলত্তি ব্রাজিলের সর্বশেষ বিশ্বকাপ-পরবর্তী তৃতীয় স্থায়ী কোচ হিসেবে নিয়োগ পান। ২০০২ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর পাঁচটি বিশ্বকাপে ব্রাজিল চারবার কোয়ার্টার ফাইনালে হেরেছে এবং একবার সেমিফাইনালে উঠেছে। ২০১৪ সালে স্বাগতিক হিসেবে জার্মানীর কাছে ৭-১ গোলের ভয়াবহ হারের সেই স্মৃতি এখনো তাদেরকে তাড়া করে বেড়ায়।২০২২ সালে কাতারে ক্রোয়েশিয়ার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেওয়ার পর কোচ তিতের অধ্যায় শেষ হয়।২০২৬ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের শুরুতে দায়িত্ব নেন ফার্নান্দো দিনিজ। তিনি মাত্র ছয় ম্যাচ টিকেছিলেন।

এরপর আসেন ডোরিভাল জুনিয়র। তবে তার অধীনে ২০২৪ কোপা আমেরিকায় কোয়ার্টার ফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয় ব্রাজিলকে। গত বছরের মার্চে আর্জেন্টিনার কাছে বিশ্বকাপ বাছাইয়ে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারের পর তাকেও বরখাস্ত করা হয়।আনচেলত্তি শেষ পর্যন্ত ব্রাজিলকে বিশ্বকাপে তুলতে সক্ষম হন। তবে ১০ দলের দক্ষিণ আমেরিকান বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা আর্জেন্টিনার চেয়ে ১০ পযয়েন্ট পিছিয়ে তারা পঞ্চম স্থানে শেষ করে।

এরপর নতুন কোচ বিভিন্ন ফরমেশন পরীক্ষা করতে গিয়ে প্রীতি ম্যাচে তিন জয়, এক ড্র ও দুটি হারের স্বাদ পেয়েছেন। হার দুটি এসেছে জাপান ও ফ্রান্সের বিপক্ষে।তবে তিনি পুরো দল বদলে ফেলেননি। ২০২২ সালে ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে যারা শুরুর একাদশে ছিলেন, তাদের মধ্যে আটজন এখনো তার দলে রয়েছেন।সেন্টার-ব্যাক এডার মিলিটাও এবং ফরোয়ার্ড রডরিগো ও এস্তেভাও ইনজুরিতে আাছেন। আর চেলসির হুয়াও পেড্রোকে দলে রাখা হয়নি।

Manual3 Ad Code

আনচেলত্তির ২৬ সদস্যের স্কোয়াডে ১০ জনের বয়স ত্রিশের বেশি, গড় বয়স প্রায় ২৯ বছর।দলে নেইমারকে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত বেশ আলোড়ন তুলেছে। সাবেক বার্সেলোনা ও পিএসজির এই ৩৪ বছর বয়সী ফরোয়ার্ড ২০২৩ সালের পর ইনজুরির কারণে জাতীয় দলের হয়ে খেলেননি। তবুও তিনি নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছেন।

বর্তমানে সান্তোসে খেলা নেইমারের ভূমিকা সম্ভবত সীমিতই থাকবে। আক্রমণের মূল দায়িত্বে থাকবেন ভিনিসিয়াস জুনিয়র।এছাড়া ম্যাথুস কুনহা ও রাফিনিয়া বড় ভূমিকা রাখতে পারেন। মিডফিল্ডে আছেন ক্যাসেমিরো ও ব্রুনো গুইমারায়েস। ডিফেন্সে আর্সেনালের গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, পিএসজির মারকুইনহোস সরাসরি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফাইনাল খেলে বিশ্বকাপে যোগ দেবেন।

Manual6 Ad Code

আনচেলত্তি জানেন, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০, ১৯৯৪ ও ২০০২ সালের পর আরেকটি শিরোপার জন্য ব্রাজিলিয়ানদের প্রত্যাশা বিশাল। খেলোয়াড় হিসেবে ১৯৮২ সালে ইনজুরির কারণে ইতালির বিশ্বকাপজয়ী দলে থাকতে পারেননি তিনি। ১৯৮৬ সালে দলে থাকলেও মাঠে নামেননি। ১৯৯০ সালে খেলেছিলেন, যখন স্বাগতিক ইতালি সেমিফাইনালে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনার কাছে হেরে যায়।আনচেলত্তি বলেন, “অন্যান্য দেশে জাতীয় দল ব্রাজিলের মতো এত গুরুত্বপূর্ণ নয়… ইউরোপিয়ানদের জাতীয় দলের জার্সির প্রতি একই রকম ভালোবাসা নেই।”ব্রাজিলের গ্রুপে রয়েছে রয়েছে হাইতি, মরক্কো ও স্কটল্যান্ড। ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ^কাপ মিশন শুরু করবে তারা।

Manual3 Ad Code

যদি গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হতে পারে, তাহলে পরবর্তী পথ তুলনামূলক সহজ হতে পারে। যদিও ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে কোনো ইউরোপীয় দলকে হারাতে পারেনি ব্রাজিল।
তবুও ব্রাজিলিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ) ইতোমধ্যে আনচেলত্তির ওপর এতটাই সন্তুষ্ট যে তাকে ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত নতুন চুক্তি দিয়েছে।সিবিএফ সভাপতি নসামির জাওদ বলেন, “আমাদের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে সফল কোচ আছেন। তাকে এখানে পাওয়ার সুযোগকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে হবে, যাতে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের জন্য ইতিবাচক একটি উত্তরাধিকার রেখে যেতে পারি।”

Manual2 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code