

সম্পাদকীয়: ক্ষুদ্রঋণ দারিদ্র্য বিমোচনে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। এ উদ্যোক্তারা জিডিপিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তারপরও তাদের অনেকে হতাশায় ভোগেন।
কারণ, তাদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখে টিকে থাকতে হচ্ছে। ব্যাংক ঋণ না পেয়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের অনেকে হতাশায় ভুগছেন। পুঁজির সংকটে দেশের ক্ষুদ্র পোলট্রি খামারিদের কী ধরনের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে, তা গতকাল যুগান্তরের এক প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে।
জানা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এ খাতে ঋণ দিচ্ছে না ব্যাংকগুলো। এ সুযোগ নিয়ে করপোরেট ডিলাররা খামারিদের হাতে বেশি মূল্যে বাকিতে তুলে দিচ্ছে একদিনের মুরগির বাচ্চা, পোলট্রি খাদ্য ও খামারসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ধরনের ওষুধ। এ ছাড়া বাজারমূল্য থেকে বেশি দামে উপকরণ কেনায় উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে খামারিদের। অন্যদিকে উৎপাদন শেষে ডিলারদের বকেয়া শোধ করতে গিয়ে লোকসানের মুখে পড়ছেন অনেকে। খামারিদের জিম্মি করে এ খাতে চলছে এক ধরনের দাদন ব্যবসা। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে বাজারে ডিম ও মুরগির মাংস চড়া মূল্যে বিক্রি হওয়ার এটিও একটি কারণ।
বস্তুত পুঁজির সংকটে খামারিদের অনেকেরই টিকে থাকার বিষয়টি হুমকির মুখ পড়েছে। করোনাসহ বিভিন্ন পরিস্থিতি বিবেচনা করে পোলট্রি ও ডিম উৎপাদনে প্রান্তিক খামারিদের সরকারের পক্ষ থেকে নানাভাবে সহায়তা করার বিষয়টি প্রশংসনীয়। তবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের দাবি, তারা চাহিদা অনুযায়ী ঋণ না পাওয়ায় নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
ভারত ও চীনের জিডিপিতে অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অবদান ঈর্ষণীয়। দেশে জিডিপিতে এসএমই খাতের অবদান বাড়াতে হলে এ খাতের উদ্যোক্তাদের ঋণপ্রাপ্তি সহজ করার পাশাপাশি তাদের দক্ষতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া দরকার।