সংক্রমণ রোধে ৯০ ভাগ সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক

লেখক:
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ

করোনাভাইরাস সংক্রমণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে মাস্কের বিকল্প নেই বলে সরকারের পক্ষ থেকে বারবারই বলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংক্রমণ রোধে শতকরা ৯০ ভাগ সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক। সাম্প্রতিক সময়ে মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে বলে সতর্ক করেছেন তারা।

এদিকে করোনার মধ্যেই নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে মিউকরমাইকোসিস বা ব্ল্যাক ফাঙ্গাস। দেশে ব্ল্যাক ফাঙ্গাসের সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এছাড়া নতুন করে করোনা সংক্রমণ বাড়ায় দেশের ৭টি জেলায় ৮ দিনের সর্বাত্মক লকডাউন চলেছে। সংক্রমণরোধে এরই মধ্যে রাজধানী ঢাকাতে সব ধরনের গণপরিবহন প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।

Manual3 Ad Code

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গতকাল বুধবার জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি যদি নাজুক হয় এবং প্রতিটি জেলায় যদি সংক্রমণ ২০ শতাংশের ওপরে চলে যায়, তাহলে দেশব্যাপী লকডাউনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আপাতত ঢাকার পার্শ্ববর্তী সাত জেলার সংক্রমণ পরিস্থিতি দেখার ওপর নির্ভর করবে সারাদেশে লকডাউন দেওয়া হবে কী না। যদি করেনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা না যায় এবং ঢাকার পরিস্থিতি খারাপ হয়, তাহলে শুরুতে ঢাকাকে লকডাউনের আওতায় নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

 

Manual6 Ad Code

সংক্রমণ রোধে ৯০ ভাগ সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক

 

এ অবস্থায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে কোনও অবহেলা চলবে না। টিকা সংকট থাকায় শতভাগ মাস্ক পরিধানের ব্যাপারে জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা । মাস্ক পরার সার্বিক বিষয়ে সবাইকে পরামর্শ দিয়ে জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শ কমিটির সদস্যসচিব সাবেক রোগতত্ত্ব, রোগ-নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা দৈনিক ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে মাস্ক সরাসরি ভূমিকা পালন করলেও এটি আমাদের জন্য স্থায়ী সমাধান না। তবে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নাই।’

আইইডিসিআর এর পরামর্শ কমিটির এ সদস্যসচিব আরও বলেন, ‘গবেষণায় দেখা গেছে, যদি কোন ব্যক্তি মাস্ক পরেন তবে কমপক্ষে ৩০ ভাগ করোনা প্রতিরোধ হয়। আর যদি শুধু করোনা রোগী পরে তাহলে ৬০ ভাগ করোনা প্রতিরোধ হয়। এখন যদি উভয়, মানে দুইজনই মাস্ক পরেন তাহলে ৯০ ভাগ প্রতিরোধ হয়। তাহলে মাস্ক পরাটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। মাস্ক একজন পরলে আরেকজন পরলো না তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। এজন্য আমাদের সবাইকে শতভাগ মাস্ক পরতে হবে।’

মাস্ক পরার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষ নানা অজুহাত দেখান। স্বাভাবিকভাবেই মাস্ক পরলে নিঃশ্বাস নিতে একটু কষ্ট হয়। করোনার প্রথম সমস্যা হলো শ্বাসকষ্ট ও নিঃশ্বাস না নিতে পারা। মাস্কে পরে যদি একটু নিঃশ্বাস নিতে কষ্টও হয় তারপরও মাস্ক পরা উচিত।

 

Manual4 Ad Code

সংক্রমণ রোধে ৯০ ভাগ সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক

 

বিশেষজ্ঞরা বলেন, ‘মাস্ক পরিধানের ক্ষেত্রে অবশ্যই মাস্কের গুণগত মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে। এক্ষেত্রে মেডিকেল গ্রেডেড মাস্ক পরা গেলে সবচেয়ে ভালো। মেডিকেল গ্রেডেড মাস্ক অন্য যেকোনো মাস্কের চেয়ে বেশি কার্যকরী।’

ইউরোপ-আমেরিকায় মানুষ সাধারণত মেডিকেল মাস্ক পরে। এর ফলে অনেক বেশি নিরাপত্তা পাওয়া যায়। সংক্রমণের আশঙ্কা বেশি হলে সতর্কতার মাত্রা বাড়ানো দরকার। পরিষ্কার-পরিছন্ন মাস্ক ব্যবহারের প্রতিও গুরুত্বারোপ করেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা জানান, অপরিষ্কার মাস্ক ব্যবহার করলে ব্লাক ফাঙ্গাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

Manual1 Ad Code

 

সংক্রমণ রোধে ৯০ ভাগ সুরক্ষা দিতে পারে মাস্ক

 

হেলথ অ্যান্ড হোপ স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী ইত্তেফাক অনলাইনকে বলেন, ‘করোনা প্রতিরোধে আমাদের প্রথম অস্ত্র হচ্ছে মাস্ক এবং চূড়ান্ত অস্ত্র হচ্ছে ভ্যাক্সিন। যেহেতু ভ্যাক্সিন আমরা সহজে পাচ্ছি না, তাই মাস্কের ওপরেই আমাদের সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দেখা গেছে অনেকেই মাস্ক পরতে চান না বা পরতে আগ্রহী না। এ কারণে আমাদের দুই ধরনের প্রয়াস চালাতে হবে। একটি হলো জনগণকে সম্পৃক্ত করতে হবে। তারা কমিটির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে, পাড়া, মহল্লায়, এলাকায় মাস্ক পরার বিষয়টি তদারকি করবে এবং যারা মাস্ক না পরে বের হবেন তাদেরকে বাড়ি ফেরত পাঠাবে। আরেকটি হলো পাবলিক স্থানগুলোতে একইসঙ্গে পুলিশ, বিট পুলিশ, আনসার ও স্বেচ্ছাসেবকরাও গণতদারকি কমিটিতে সম্পৃক্ত হয়ে কাজ করবেন।’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code