সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান এর দায়িত্ব পেলেন ড. শাহদীন মালিক

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট:  সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

Manual2 Ad Code

এ ছাড়া আরো পাঁচটি বিষয়ে সংস্কারে কমিশন করা হয়েছে। পাঁচজনকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এসব তথ্য জানান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বিটিভি ও বিটিভি ওয়ার্ল্ড ভাষণটি সরাসরি সম্প্রচার করে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে কাজ করবেন সফররাজ হোসেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বিচারপতি শাহ আবু নাঈম মমিনুর রহমান, দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ড. ইফতেখারুজ্জামান, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে আবদুল মুয়ীদ চৌধুরী, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান হিসেবে ড. শাহদীন মালিক দায়িত্ব পালন করবেন।’

Manual3 Ad Code

তিনি বলেন, ‘এসব কমিশনের অন্য সদস্যদের নাম কমিশনপ্রধানদের সঙ্গে আলোচনা করে ঠিক করা হবে। কমিশনগুলোর আলোচনা ও পরামর্শ সভায় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য, ছাত্র, শ্রমিক, জনতা আন্দোলনের প্রতিনিধি,  নাগরিক সমাজ ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।’

Manual6 Ad Code

পূর্ণাঙ্গভাবে গঠিত হওয়ার পর কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাজ আগামী ১ অক্টোবর থেকে শুরু করতে পারবে বলে আশা ব্যক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা। এটি পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে ধারণা সরকারের। ড. ইউনূস বলেন, কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সরকার পরবর্তী পর্যায়ে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ সভার আয়োজন করবে।

চূড়ান্ত পর্যায়ে ছাত্রসমাজ, নাগরিক সমাজ, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, সরকারের প্রতিনিধি নিয়ে ব্যাপকভিত্তিক তিন থেকে সাত দিনব্যাপী একটি পরামর্শ সভার ভিত্তিতে সংস্কার ভাবনার রূপরেখা চূড়ান্ত করা হবে। এতে এই রূপরেখা কীভাবে বাস্তবায়ন হবে তার একটি ধারণাও দেওয়া হবে।

তিনি আরো বলেন, ‘সমাজের সব স্তরের মানুষের প্রতিনিধিত্ব ও স্বার্থ নিশ্চিত করার জন্য এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বার্তাকে প্রতিফলিত করার জন্য সাংবিধানিক সংস্কারের প্রয়োজন আমরা অনুভব করছি। এসব বিষয়ে সংস্কার করার প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে আমরা প্রাথমিকভাবে ছয়টি কমিশন গঠন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এসব কমিশনের কাজ পরিচালনার জন্য বিষয়ভিত্তিক অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে ছয়জন বিশিষ্ট নাগরিককে এই কমিশনগুলি পরিচালনা করার দায়িত্ব দিয়েছি। এরপর আরো বিভিন্ন বিষয়ে কমিশন গঠন প্রক্রিয়া আমরা অব্যাহত রাখব।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর জাতির উদ্দেশে এটি ড. ইউনূসের দ্বিতীয় ভাষণ।

শাহদীন মালিক: 

 তিনি পেশায় একজন আইনজীবী। বিশিষ্ট আইনজ্ঞ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞ। তার বাবা আব্দুল মালিক চৌধুরী ছিলেন বন বিভাগের প্রধান সংরক্ষক কর্মকর্তা। তিনি ১৯৭৯ সালে রাশিয়ার প্যাট্রিস লুমুম্বা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। তিনি ১৯৮৪ সালে ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া ল স্কুল থেকে আইন বিষয়ে আরেকটি স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। এরপর ১৯৯৪ সালে স্কুল অব ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ থেকে পিএইচডি করেন। তিনি ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন।

Manual8 Ad Code

শাহদীন মালিক ১৯৯০ সালে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টে যোগদান করেন। ২০০৩ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টে তার আইন পেশা শুরু করেন। মালিক ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও শিক্ষক ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের সম্মানিত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বাংলাদেশের সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর সমালোচনা করেন, যা পরে তত্ত্বাবধায়ক সরকার বাতিল করে। ২০১৩ সালে তিনি বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের আইনজীবী ছিলেন। মালিক সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্য।

তিনি অ্যাকশনএইড বাংলাদেশ এবং রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিটের গভর্নিং বডির সদস্য এবং একইসঙ্গে তিনি পূবালী ব্যাংক লিমিটেডের স্বতন্ত্র পরিচালক। তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাডজাঙ্কট প্রফেসর। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনারের বিবেচনা থেকে তার নাম প্রত্যাহার করে নেন। নির্বাচন কমিশন গঠনে তৈরি করা সার্চ কমিটি তার নাম প্রস্তাব করেছিল।

 

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code