

সম্পাদকীয়: আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক হিসাবে কারা থাকবেন, তা নির্ধারণে কাজ করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কারা এই দায়িত্ব পালন করবেন, তার একটি খসড়া তালিকা আজ প্রকাশ করবে কমিশন। তবে এ কাজে স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার চেয়ারম্যান, নির্বাহী প্রধান বা পরিচালকদের অনেকের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার তথ্য জানার পরও ইসি তা আমলে নিচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
রাজনীতি সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের নাম বহাল রেখেই খসড়া তালিকা প্রকাশে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। এ তালিকায় কমবেশি ৮০টি সংস্থার নাম ঠাঁই পেতে যাচ্ছে। আর এ খসড়া তালিকা প্রকাশের মধ্য দিয়ে এসব পর্যবেক্ষক সংস্থা নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
নির্বাচন কমিশনের ‘স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের নীতিমালা’ অনুযায়ী রাজনীতি সম্পৃক্ত সংস্থাকে পর্যবেক্ষক হিসাবে নিবন্ধন দেওয়া যায় না। তবে পর্যবেক্ষক হিসাবে রাজনীতি সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিদের তালিকায় রাখার সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা হিসাবে ইসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এবারের নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করতে আগ্রহী সংস্থার সংখ্যা কম হওয়ায় এসব সংস্থা ও ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করেই খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হচ্ছে। জানা গেছে, নির্বাচন পর্যবেক্ষণের জন্য ২০৬টি বেসরকারি সংস্থা আবেদন করলে ৯৪টি সংস্থাকে প্রাথমিক বাছাইয়ে রাখে ইসি। ওই ৯৪টি সংস্থার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে সরকারের দুটি গোয়েন্দা সংস্থা প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। একটি সংস্থা ১১টি এবং আরেকটি সংস্থা ৩৬টির বিষয়ে তাদের পর্যবেক্ষণ জানিয়েছে।
সেখানে মোট ১৮-২০টি পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধান ও পরিচালকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার সরাসরি তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার কমিশনের অনির্ধারিত সভায় ওই প্রতিবেদন দুটি উপস্থাপনও করা হয়। নির্বাচন কমিশন অবশ্য বলছে, ওই তালিকার ওপর অভিযোগ বা আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগ দিয়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হবে। কোনো সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ জমা পড়লে সেগুলো শুনানি করে নিবন্ধন চূড়ান্ত করা হবে। এ প্রক্রিয়ায় কয়েকটি সংস্থার নাম বাদ পড়তে পারে বলেও ইসির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।