সব নৃশংসতার বিচার কাম্য

লেখক: Nopur
প্রকাশ: ১ বছর আগে

Manual8 Ad Code

সম্পাদকীয়:

Manual1 Ad Code

আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে রাষ্ট্রক্ষমতায় আসার পর সাড়ে ১৫ বছরের শাসনামলে রাজনৈতিক আন্দোলন দমন এবং ভিন্নমতাবলম্বীদের কণ্ঠ রোধ করে জোর করে ক্ষমতায় থাকার জন্য গুম-খুনকে রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসাবে ব্যবহার করে দেশে ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল। বিরোধী মত দমনে তারা যে কতটা নৃশংস ছিল, একে একে সেসব তথ্য বের হয়ে আসছে। মঙ্গলবার যুগান্তরের খবরে প্রকাশ-মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’-এর ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, সে বছরের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনে শেখ হাসিনার নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তার নেতাকর্মীদের বুলেটে ১ হাজার ৫৮১ জন শহিদ হয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছিল শিশু। এছাড়া গত বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আরও ছয়জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে হত্যা করা হয়। পাশাপাশি জানুয়ারি থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় কমপক্ষে ১৯৯ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৯৭৯ জন আহত হয়। এমনকি হাসিনার ক্ষমতার শেষ পাঁচ মাসেও অন্তত ২০ জনকে গুম করা হয়েছিল।

Manual6 Ad Code

সোমবার সংগঠনটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তিনটি ভাগে ভাগ করা ৫৪ পৃষ্ঠার এই প্রতিবেদনে এসব তথ্য ছাড়াও বিদ্যমান সমস্যার সমাধানে ১০ দফা সুপারিশ করা হয়েছে। বলার অপেক্ষা রাখে না, বিগত সরকার জোর করে ক্ষমতায় থাকতে সব রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানকে পরিণত করেছিল আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে। এ সময়ে আওয়ামী সরকার নির্বাচনি ব্যবস্থাকেও সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দিয়ে কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েম করে। এর মাধ্যমে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অস্বচ্ছ, বিতর্কিত ও প্রহসনমূলক করে কেড়ে নেয় জনগণের ভোটাধিকার পর্যন্ত। এ সময়ে নাগরিকদের বাক, চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ব্যাপকভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে। ৫ আগস্ট পর্যন্ত নিবর্তনমূলক সাইবার নিরাপত্তা আইন ব্যবহার করে বাক্ ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এবং নাগরিক স্বাধীনতাকেও ক্ষুণ্ন করা হয়েছে পদে পদে। পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক এবং দুর্বৃত্তদের হামলা ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে অনেক সাংবাদিককে। এসব তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

জুলাই বিপ্লবসহ বিগত সরকারের আমলে গুম-খুনের শুধু নির্দেশদাতাই নয়, যারা তা কার্যকর করতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে, তাদের সবাইকে আইনের আওতায় আনা জরুরি বলে মনে করি আমরা। একই সঙ্গে প্রত্যেকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code