সভাপতি পদে দায়িত্ব গ্রহণ থেকে মাহবুব উদ্দিন খোকনকে বিরত থাকতে বলেছে ফোরাম

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ২ years ago

Manual6 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি (২০২৪-২৫) নির্বাচনে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে বিজয়ী এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনসহ চারজনকে দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। বিএনপির আইনজীবীদের সংগঠন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আজ বুধবার খোকন ও সদস্য প্রার্থী অপর তিনজনকে সমিতির দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে ওই চিঠি দেয়।

যে চারজনের প্রতি চিঠি পাঠানো হয়, তাঁরা হলেন সভাপতি পদপ্রার্থী মাহবুব উদ্দিন খোকন, সদস্য পদপ্রার্থী মো. শফিকুল ইসলাম, ফাতিমা আক্তার ও সৈয়দ ফজলে এলাহী।

Manual8 Ad Code

ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এ জে মোহাম্মদ আলী ও মহাসচিব কায়সার কামালের সই করা চিঠিটির অনুলিপি বিএনপির মহাসচিব ও দলটির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব (দপ্তরের দায়িত্বে নিয়োজিত) বরাবরে পাঠানোর কথাও উল্লেখ রয়েছে।

জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মাহবুব উদ্দিন খোকন বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহসভাপতি। চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে মাহবুব উদ্দিন খোকন প্রথম আলোকে বলেন, ‘চিঠি সম্পর্কে শুনেছি। সুষ্ঠু নির্বাচন ও ভোট গণনা হলে সভাপতিসহ সংখ্যাগরিষ্ঠ পদ আমরা পেতাম। নির্বাচনের পরও পুনর্নির্বাচন চেয়েছি, সভাপতিপদসহ। এই দাবিতে এখনো অটল। ফলাফল আগামী ২ এপ্রিল আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হবে। পুনর্নির্বাচন দিলে স্বাগত জানাব ও নির্বাচনে অংশ নেব। আর পুনর্নির্বাচন না দিলে এখানে শপথের কিছু নেই। ফলাফল ঘোষণা করলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পদে থাকব।’

চিঠির শেষাংশে বলা হয়, ২৪ মার্চ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের জ্যেষ্ঠ কেন্দ্রীয় নেতা, উপদেষ্টামণ্ডলী ও সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং সম্পাদকদের এক যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় ১০ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ঘোষিত ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনর্নির্বাচনের দাবিতে ন্যায়সংগত যৌক্তিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে আপনাদের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ২০২৪-২৫–এর মেয়াদকালের দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বলা হচ্ছে। দল আশা করছে, আপনি বা আপনারা দলের দায়িত্বশীল নেতা হিসবে দলীয় এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করবেন।

Manual3 Ad Code

সমিতির নির্বাচনে ৬ ও ৭ মার্চ ভোট গ্রহণ হয়। ভোট গ্রহণ শেষে ৭ মার্চ দিবাগত ভোরে ভোট গণনা কখন হবে, তা নিয়ে বাদানুবাদ, হট্টগোল ও মারধরের ঘটনা ঘটে। ভোট গণনা নিয়ে মারধরের এ ঘটনায় ২০ জনের নাম উল্লেখ করে আরও ৩০ থেকে ৪০ জন অজ্ঞাতনামার বিরুদ্ধে ৮ মার্চ রাজধানীর শাহবাগ থানায় মামলা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল এস আর সিদ্দিকী সাইফ। মামলায় তাঁকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনেন তিনি। সেখানে আইনজীবী নাহিদ সুলতানাকে যুথীকে প্রধান আসামি এবং মো. রুহুল কুদ্দুসকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। যুথী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে নির্বাচনে অংশ নেন। যুথী সমিতির নির্বাচনে সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামসের (পরশ) স্ত্রী। মামলায় মো. রুহুল কুদ্দুসকে (কাজল) দ্বিতীয় আসামি করা হয়, যিনি বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ঐক্য প্যানেল (নীল প্যানেল) থেকে সম্পাদক পদে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

Manual4 Ad Code

মামলার পর বিএনপিপন্থী আইনজীবী মো. রুহুল কুদ্দুস, ওসমান চৌধুরীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। রিমান্ড শেষে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়। এদিকে এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে ২০ মার্চ নাহিদ সুলতানা যুথীসহ আওয়ামী লীগপন্থী চার আইনজীবী আগাম জামিন পান। একই দিন উচ্চ আদালত থেকে রুহুল কুদ্দুস ও ওসমান চৌধুরী অন্তর্বর্তীকালীন জামিন পান। পরে তাঁরা কারামুক্ত হন। এর আগে ৯ মার্চ রাতে ভোট গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা উপকমিটির আহ্বায়ক জ্যেষ্ঠ আইনজীবী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল খায়ের।

ঘোষিত ফলাফল অনুসারে, ১৪ পদের মধ্যে সভাপতি, সদস্যের ৩টি পদসহ ৪টি পদে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা (নীল প্যানেল প্রার্থীরা) জয়ী হয়েছেন। সহসভাপতির ২টি পদ; সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহসম্পাদকের ২টি পদ; সদস্যের ৪টিসহ মোট ১০টি পদে আওয়ামী লীগপন্থী আইনজীবীরা (সাদা প্যানেলের প্রার্থীরা) জয়ী হন। সভাপতি, সহসভাপতি (দুটি), সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ, সহসম্পাদক (২টি), সদস্যের ৭টি পদসহ মোট ১৪টি পদে ১ বছর মেয়াদের জন্য ওই নির্বাচন হয়ে থাকে।

Manual6 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code