সরিষাবাড়ী মেয়রের বিরুদ্ধে অনাস্থা

লেখক:
প্রকাশ: ৬ years ago

Manual8 Ad Code

সরিষাবাড়ী (জামালপুর) ঃ
জামালপুরের সরিষাবাড়ী পৌরসভার মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলররা অনাস্থা দিয়েছে। এ ঘটনার পরপরই পৌর মেয়র সংবাদ সম্মেলন করেন। শুক্রবার (১ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় সরিষাবাড়ী স্পোর্ট’স এসোসিয়েশন কার্যালয়ে এক সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন পৌরসভার ১২জন কাউন্সিলর। তারা পৌর মেয়র রুকনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রানালয়ের সচিব বরারর লিখিত অনাস্থা প্রস্তাব প্রেরণের বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন। সাংবাদিক সম্মেলনে পৌর কাউন্সিলর কালা চান পাল লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন। পৌর সভার মেয়র রুকুনুজ্জামান রোকনের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও ক্ষমতার অপব্যাবহার করে পৌর কর্মকর্তা কর্মচারীদের ১৩-১৬ মাসের বেতন বকেয়া, কাউন্সিলরদের ১৩-১৪ মাসের সম্মানী বকেয়া রেখে মেয়র তার নিজের সম্মানী উত্তোলন, নিয়োগ বানিজ্য, বিভিন্ন ভূয়া ভাউচারের মাধ্যমে দূর্নীতিও অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আতœসাৎ, অসদাচরন, ক্ষমতার অপব্যাবহার, ত্রাণ বিতরনে অনিয়ম দূর্নীতি, এডিপি হতে অর্থ আতœসাৎ, কেন্দ্রীয় বাসষ্ট্যান্ডের ৫০ লক্ষ টাকার তহবিল আতœসাৎ করার অভিযোগ উপস্থাপিত করা হয়। মেয়রের অপসারণের দাবী তুলে বক্তব্য রাখেন, পৌরসভার প্যানেল মেয়র-১ মোহাম্মদ আলী, প্যানেল মেয়র-২ জহুরুল ইসলাম, ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কালা চান পাল, ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আফছার উদ্দিন, ২ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সোহেল রানা, ১,২,৩ সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর চায়না আক্তার। এসময় পৌরসভার সকল সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরগন উপস্থিত ছিলেন।
অপরদিকে মেয়রের বিরুদ্ধে কাউন্সিলরদের অনাস্থা প্রস্তাবের প্রতিবাদ জানিয়েছেন পৌরমেয়র রুকুনুজ্জামান রোকন। তিনি তার বিরুদ্ধে আনীত সকল অভিযোগ মিথ্যা, বানোয়াট, ভিত্তিহীন ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে দাবী করেন। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৩টায় তার বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মেয়র রোকন নিজেকে নির্দোষ দাবী করেন। তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর মনোনীত মেয়র দাবী করে বলেন, ২৫ বছর পর পৌরসভার অভূতপূর্ব উন্নয়ন আমিই করেছি। পৌরসভার অর্থ আতœসাৎ করিনি বরং পৌরসভার স্বার্থে কাজ করতে গিয়ে পিতার রেখে যাওয়া ৪ বিঘা জমি বিক্রি করেছি। নিজের ব্যাংকের একাউন্টে টাকা নেই। জনগনের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার ২ বছর পর একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের একটি মিথ্যা অভিযোগ করে আমাকে ৩ মাস পৌরসভায় যেতে দেয়নি। দায়ের করা অভিযোগের তদন্তে কোন প্রমান মেলেনি। শেষ পর্যায়ে এসে ওই চক্রটি আবারো এ ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। তারা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে। মেয়র আবেগ তাড়িত হয়ে বলেন, আমাকে মামলা দিয়ে তাড়াতে হবে না, বলে দিলেই চলে যাবো। আমি উন্নয়ন করতে চেয়েছিলাম, পারলাম না। আমি পৌরবাসীর কাছে ক্ষমা চাই। আমি দলের নেতা বা আইনের কাছে বিচার চাইনা। তিনি মহান আল্লাহর দরবারে বিচার প্রার্থী হয়ে কান্না বিজড়িত কন্ঠে তার বক্তব্য সমাপ্ত করেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code