সাফল্যের মূলমন্ত্র আল-কুরআন

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

ধর্ম ডেস্কঃ 

আল কুরআনুল কারিম। মানবজাতির জন্য আল্লাহতায়ালার পক্ষ থেকে শ্রেষ্ঠ উপহার। কুরআনের স্পর্শ ছাড়া মানবজনম অর্থহীন। কুরআন বিমল সফলতার মৌলিক পাথেয়।

Manual8 Ad Code

 

 

কুরআন সঠিক পথের দিশারি। কুরআনের স্নিগ্ধ অফুরন্ত ঝরনা ধারা সবার জন্যই অবারিত। কুরআন সফলতার দিকে পথ প্রদর্শন করতে থাকবে মহাপ্রলয়কাল পর্যন্ত।

কুরআনের পরিচয় কুরআনের ভাষায়

কুরআন নিজেই নিজের পরিচয় পেশ করেছে। নিজের পরিচয় উল্লেখ করতে গিয়ে কুরআন বলে-‘নিশ্চয় এটা সম্মানিত কুরআন, যা আছে এক সংরক্ষিত কিতাবে, যারা পাক-পবিত্র, তারা ব্যতীত অন্য কেউ একে স্পর্শ করবে না’। (সূরাতুল ওয়াকিয়া : ৭৭, ৭৮, ৭৯)। অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে-‘বরং এটা সম্মানিত কুরআন। লওহে মাহফুজে লিপিবদ্ধ।’ (সূরাতুল বুরুজ : ২১, ২২)।

কুরআন মানবজাতির জন্য পথপ্রদর্শক

Manual1 Ad Code

কুরআন নির্দিষ্ট কোনো গোত্র, সম্প্রদায় বা দলকে সঠিক পথ দেখায়-এমন নয় । বরং কুরআন কিয়ামতের আগ পর্যন্ত আগত প্রতিটি মানুষকেই সফলতার পথে অগ্রগামী হওয়ার নির্দেশনা দেয়। ইরশাদ হয়েছে ‘রমজান মাসই হলো সে মাস, যাতে নাজিল করা হয়েছে কুরআন, যে কুরআন মানুষের জন্য হেদায়েত এবং সত্যপথ যাত্রীদের জন্য সুস্পষ্ট পথ নির্দেশ আর ন্যায় ও অন্যায়ের মাঝে পার্থক্য বিধানকারী’। (সূরাতুল বাকারা : ১৮৫)।

কুরআন সরল সঠিক পথ দেখায়

কুরআনের পথপ্রদর্শনে কোনো ভুল নেই। ইরশাদ হয়েছে-‘এই কুরআন এমন পথ প্রদর্শন করে, যা সর্বাধিক সরল এবং সৎকর্ম পরায়ণ মুমিনদের সুসংবাদ দেয় যে, তাদের জন্য মহাপুরস্কার রয়েছে’। (সূরা বনি ইসরাইল : ৯)। কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো রজ্জু বা রশি। এ রশি যারাই মজবুতভাবে ধরে রাখবে তারাই সফলতার পথে অগ্রগামী হতে পারবে। ইরশাদ হয়েছে-‘আর তোমরা সকলে আল্লাহর রজ্জুকে মজবুতভাবে আঁকড়ে ধর। কখনো বিচ্ছিন্ন হয়ো না’। (সূরা আলে ইমরান : ১০৩)।

Manual8 Ad Code

এ আয়াতের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইমাদুদ্দীন আবুল ফিদা ইসমাইল ইবনে উমর ইবনে কাসির (রহ.) তার তাফসির গ্রন্থে উল্লেখ করেন-হজরত আবু সাঈদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, ‘কিতাবুল্লাহ তথা কুরআন হচ্ছে আকাশ থেকে জমিনে পাঠানো আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি রজ্জু বা রশি’।

এমনিভাবে আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-‘নিঃসন্দেহে এ কুরআন আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো সুদৃঢ় রশি। এটি একটি বিমল আলোকরেখা। একটি উপকারী প্রতিষেধক। যারা এ কুরআনকে আঁকড়ে ধরবে তারা সব বিভ্রান্তি পথভ্রষ্টতা থেকে বেঁচে থাকবে। যারা কুরআনের নির্দেশনা মেনে চলবে তারা চিরকালীন (জাহান্নাম থেকে) মুক্তি লাভ করবে’। (তাফসিরুল কুরআনিল আজীম ১/৪৭৮ দারুল হাদিস কায়রো মিসরের সংস্করণ)।

পাঠকের জন্য সুপারিশ করবে কুরআন

হজরত আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন-‘তোমরা কুরআন পাঠে আত্মনিয়োগ কর। কারণ, কুরআন কিয়ামতের কঠিন মুহূর্তে তার পাঠকের জন্য আল্লাহতায়ালার কাছে সুপারিশ করবে’। (সহিহ মুসলিম)।

হজরত জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, কুরআন সুপারিশকারী। আর তার সুপারিশ কবুল করা হবে। যে কুরআনকে তার সামনে রাখবে অর্থাৎ কুরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন গড়বে কুরআন তাকে পথ দেখিয়ে দেখিয়ে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে। আর যে কুরআনকে উপেক্ষা করে পেছনে রাখবে কুরআন তাকে হাঁকিয়ে হাঁকিয়ে জাহান্নামে পৌঁছে দেবে। (সহিহ ইবনে হিব্বান)।

সার কথা কুরআন মানবজাতির সফলতার মৌলিক পাথেয়। হাজার বছর ধরে কুরআন অসংখ্য বনি আদমকে সঠিক পথের দিশা দিয়ে যাচ্ছে। তাই আসুন, আমরাও কুরআন স্নিগ্ধ আলোয় নিজেদের জীবনকে আলোকিত করি। কুরআনের আলো ছড়িয়ে দেই যুগ থেকে যুগান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে।

লেখক : আব্দুল্লাহ আল মামুন আশরাফী,

Manual7 Ad Code

খতিব, আউচপাড়া জামে মসজিদ টঙ্গী গাজীপুর

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual8 Ad Code