সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট কেনেডি হত্যা: ৬০ বছরে কতটুকু সত্য উন্মোচিত হলো

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual2 Ad Code

নিউজ ডেস্ক: অলিভার স্টোনের ‘জেএফকে’ থেকে শুরু করে মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ‘অ্যাসাসিনেশন’, লেখক এবং চলচিত্র নির্মাতা সবাই চেষ্টা করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন করতে৷

১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে রাজনৈতিক সফর চলাকালীন মোটর শোভাযাত্রার সময় তার উপর গুলি চালায় আততায়ী৷ গলায় গুলিবিদ্ধ হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই হাসপাতালে মারা যান তিনি৷

আততায়ীর গুলিতে কেনেডির গুপ্তহত্যার ঘটনাটি আব্রাহাম জাপ্রুডার নামের এক শৌখিন চলচিত্র নির্মাতার ৮ মিলিমিটার এর রঙিন ফিল্মে ধারণ করা হয়৷ যেই ভিডিও ফুটেজটিতে দেখা যায় কেনেডিকে দুইবার গুলি করা হয়৷ একই ফুটেজ দেখে অনুমান করা হয়, ২৪ বছর বয়সী প্রাক্তন মেরিন সদস্য লি হারভে অসওয়াল্ড একা হত্যাকাণ্ডে অংশ নেননি৷ কেনেডির মৃত্যুর আশেপাশের পরিস্থিতির তদন্তকারী সংস্থা ওয়ারেন কমিশন জানায়, লি হারভে অসওয়াল্ড কাছাকাছি টেক্সাস স্কুল বুক ডিপোজিটরি থেকে তিনটি গুলি চালিয়েছিল৷

Manual6 Ad Code

কিন্তু সমগ্র বিশ্বকে নাড়িয়ে দেয়া এই ঘটনার ৬০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো অনেকের মনে নানা প্রশ্ন উকি দিচ্ছে৷ উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মুক্তির অপেক্ষায় থাকা অস্কার জয়ী নির্মাতা ব্যারি লেভিন্সন এর সিনেমা ‘অ্যাসাসিনেশন’ এর কথা৷ যেখানে অভিনয় করছেন আল পাচিনো, জন ট্রাভোল্টা, ভিগো মরটেন্সেন, শিয়া লাবোফ ও কোর্টনি লাভ এর মতো তারকার৷ সিনেমটিতে কেনেডি হত্যার সাথে অন্য কোন যোগসাজশ আছে কিনা দেখতে ‘শিকাগোর জনগণের তত্ত্বের’ প্রয়োগ করে দেখা হবে৷

গুপ্তহত্যার বিচিত্র তত্ত্ব

Manual8 Ad Code

দুইবারের অস্কার মনোনীত এবং পুলিৎজার পুরস্কার বিজয়ী ডেভিড ম্যামেটের চিত্রনাট্যে ‘অ্যাসাসিনেশন’ সিনেমায় দেখানো হয়েছে, কীভাবে শিকাগোর মবস্টার স্যাম জিয়ানকানা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করায় প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডিকে আক্রমণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন৷

সবচেয়ে সুপরিচিত তত্ত্বটি অলিভার স্টোনের ১৯৯১ সালের ‘জেএফকে’-তে খোজা হয়েছিল৷ কেভিন কস্টনার নিউ অরলিন্স জেলা অ্যাটর্নি জিম গ্যারিসনের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন, যিনি আবিষ্কার করেছিলেন কেনেডি হত্যাকাণ্ডে ওয়ারেন কমিশনের সিদ্ধান্তের চেয়ে আরও বেশি কিছু ছিল৷ গ্যারিসন এবং তার দল তাত্ত্বিকভাবে অসওয়াল্ডকে সিআইএ-এর একজন এজেন্ট ও হত্যার জন্য দায়ী করেছিলো৷

অসওয়াল্ড তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নে কিছুদিন ছিলেন, যার ফলে এ হত্যাকাণ্ডে মস্কোর প্রভাব নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন অনেকে৷ কেনেডি কিউবার কমিউনিস্ট বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলেন বলে কিছু বই কিউবার প্রভাবের কথাও অনুমান করেছে৷ এফবিআই এবং কেনেডির স্থলাভিষিক্ত লিন্ডন বেইনস জনসনও তাদের দিকে সন্দেহের আঙুল তুলেছিলেন৷

Manual6 Ad Code

প্রত্যক্ষদর্শীর স্বীকারোক্তি

পল ল্যান্ডিসে, একজন গোয়েন্দা যিনি কেনেডি থেকে মাত্র ফুট দূরে ছিলেন যখন তাকে গুলি করা হয়েছিল। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এ এক অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করতে যেয়ে ওয়ারেন কমিশনের দেয়া ‘একক-বুলেট তত্ত্ব’ কে চ্যালেঞ্জ করেন তিনি৷

তিনি বলেন প্রথম বুলেটটি কেনেডির ঘাড়ে আঘাত করেছিল৷ পরে আরও তিনটি বুলেট তার বুক, কব্জি এবং উরুতে লাগে৷ তবে হত্যাকাণ্ডের তদন্তে থাকা ওয়ারেন কমিশন কখনই ল্যান্ডিসের সাক্ষাৎকার নেয়নি৷

Manual2 Ad Code

৮৮ বছর বয়সী পল ল্যান্ডিস ৬০ বছর ধরে এই বিষয়ে চুপ ছিলেন৷ অক্টোবরে প্রকাশিত তার বই ‘দ্য ফাইনাল উইটনেস’ এ তিনি কেনেডির মৃত্যু সংক্রান্ত ষড়যন্ত্র তত্ত্ব প্রচার করতে চান না লিখেছেন৷

যে গল্পের শেষ নেই

মনে হতে পারে কেনেডির পরিবারের দুর্ভাগ্য এটি৷ জন এফ কেনেডির ছোট ভাই ববি কেনেডিও ১৯৬৮ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় খুন হন৷ গাড়ি দুর্ঘটনায় একজন যাত্রীর মৃত্যুর দায়ে তার ছোট ভাই এডওয়ার্ড কেনেডির রাজনৈতিক জীবনেরও সমাপ্তি ঘটে৷ পরবর্তীতে ১৯৯৯ সালে এক বিমান দুর্ঘটনায় নিহত হন কেনেডির ছেলে জন এফ কেনেডি জুনিয়র৷

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একজন প্রেসিডেন্ট তার ছাদখোলা লিমুজিনে আততায়ীর গুলিতে নিহত হয়েছিলেন, ৬০ বছর আগে৷ কিন্তু সে বিষয়ে নানা প্রশ্ন জনগণের মনে চলতে থাকতে পারে আরও দশকের পর দশক৷ ‘জেএফকে’ সিনেমার পরিচালক অলিভার স্টোন একবার বলেছিলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ কখনোই বিশ্বাস করবে না কেনেডি হত্যায় অসওয়াল্ড একা জড়িত ছিল৷ তারা সেখানে ষড়যন্ত্রের গন্ধ খুঁজে পান৷’

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code