দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর সারাদেশে শুক্রবার (১৪ মে) উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। বৈশ্বিক মহামারি করোনার কারণে গতবারের মত এবারও মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছে মুসল্লিরা। নামাজ শেষে করোনা থেকে মুক্তি ও ফিলিস্তিন মুসলমানদের রক্ষায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। করোনার কারণে এবার কোলাকুলি-করমর্দনে নিষেধাজ্ঞা ছিলো সরকারের পক্ষ থেকে; তবে কিছু জায়গা ব্যতীত সারাদেশেই সেটা মানতে দেখা গেছে। বেশিরভাগ জেলাতেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করতে দেখা গেছে। এছাড়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য দায়িত্ব পালন করছে।
দেশের বিভিন্ন জেলার খবরঃ
সিলেটঃ দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর বাঙালী মুসলমানদের ঘরে ঘরে আজ ঈদ আনন্দ। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ বিলানো হচ্ছে আসমানী তাগিদের পরশে।
দুই রাকাআত ওয়াজিব নামাজের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ঈদুল ফিতরের উদ্যাপন। তবে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী এবার উন্মুক্ত স্থানে বা ঈদগাহে ঈদুল ফিতরের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় আজ সিলেটেও শাহী ঈদগাহ সহ নগর ও শহরতলির কোনো ঈদগাহেই অনুষ্ঠিত হয়নি ঈদুল ফিতরের জামাত। তার বদলে মসজিদ কেন্দ্রিক নামায আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসলমান।
ঈদের জামাত ও খোতবা শেষে মুনাজাতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য আকুতি জানিয়ে আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করেন মুসল্লীরা। পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা এবং সবধরনের বালা-মুসিবত থেকে দেশের সুরক্ষায় প্রার্থনা করা হয় মহান আল্লাহর দরবারে।
স্বাস্থ্যবিধি মেনে সিলেট শাহজালাল দরগাহ মাজার মসজিদ ও বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ১টি করে, হাজী কুদরত উল্লাহ জামে মসজিদে ৩টি এবং বন্দরবাজারস্থ কালেক্টরেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়েছে ৪টি জামাআত। এদিকে, সিলেটের শাহজালাল দরগাহ মাজার মসজিদে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল সাড়ে ৮টায়। এবার সিলেটের সবচেয়ে বড় ঈদ জামাত ছিল শাহজালাল দরগাহ মাজার মসজিদের জামাত। সিলেটের বন্দরবাজারস্থ হাজী কুতরত উল্লাহ জামে মসজিদে ঈদের নামাজের জামাআত ৩টি অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ৭টা, সাড়ে ৮টায় আর সাড়ে ৯টায় আরেকটি।
অপরদিকে, বন্দরবাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় একটি। এদিকে, বন্দরবাজার এলাকার সিলেট কালেক্টরেট মসজিদে ৪টি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা ও ১০টায় এই জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া সিলেট নগরীর বিভিন্ন এলাকার মসজিদগুলোতে ঈদের নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা। সকাল থেকে মেঘাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে সিলেটে আকাশে। সকাল ৯ টায় ঈদ জামাতের পর হালকা বৃষ্টি বর্ষণ হয়। অপরদিকে শহর ও উপজেলা, ইউনিয়ন, গ্রাম মহল্লায়ও মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্টিত হয়েছে। সেখানে নামাজ শেষে করোনা মুক্তি সহ বিশে^র সকল মানুষের শান্তির জন্য দোয়া কামনা করা হয়।
তবে দেশ ও দেশের সকল মানুষের কল্যাণ ও মহামারি করোনার হাত হতে রক্ষা পাক পুরো বিশ্ববাসী – এই মোনাজাত প্রতিধ্বনিত হয়েছে খাগড়াছড়ির সকল ঈদ জামাতে।
বরিশাল: মহামারি করোনার সংক্রমণের কারণে এবারেও বরিশালে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত বাতিল করে কালেক্টরেট মসজিদে অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া নগরীর মসজিদগুলোতে একাধিক ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
কালেক্টরেট মসজিদে সকাল ৮টা, ৯টা ও ১০টায়- ৩টি ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৮টার জামাতে বিভাগীয় কমিশনার সাইফুল ইসলাম বাদল ও জেলা প্রশাসক জসীম উদ্দীন হায়দারসহ বিভাগীয় এবং জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা নামাজ আদায় করেন।
নামাজ শেষে বিভাগীয় কমিশনার বলেন, আমাদের সকলকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। এই করোনাকালীন সময়ে নিজেদেরকে সুরক্ষার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যসহ সকল নাগরিকদের রক্ষার করার দায়িত্ব আমাদের সকলের।
জেলা প্রশাসক বলেন, গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নগরীর সকল বিনোদন কেন্দ্রগুলো পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। করোনাকালীন সময়ে সুস্থভাবে ঈদের নামাজ আদায় করতে পেরে আল্লাহ’র দরবারে শুকরিয়া আদায় করেন জেলা প্রশাসক।
জাতীয় ইমাম সমিতি বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি আলহাজ মাওলানা কাজী আবদুল মান্নান বলেন, বরিশাল নগরীর ৫শ’ মসজিদ আছে। যার প্রতিটিতেই সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ঈদের সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই দরবার শরীফ মাঠে সকাল ৯টায়। পীর সাহেব চরমোনাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম জামাতে ইমামতি করেন। হিলিতে মসজিদে মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত
হিলি: দিনাজপুরের হিলিতে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক বিভিন্ন মসজিদে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। দু’একটি মসজিদে মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে ও মাস্ক ব্যবহার করে নামাজ আদায় করতে দেখা গেলেও অনেক মসজিদেই মুসল্লিদের স্বাস্থ্যবিধি ও মুখে মাস্ক ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। ঈদের নামাজ শেষে অনেককেই কোলাকুলি করতেও দেখা গেছে।
শুক্রবার সকাল ৮টায় ও সাড়ে ৮টায় বাংলাহিলি কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মাওলানা রুহুল আমিন ও হাফেজ মাসুদ ঈমামতি করেন।
একইভাবে পৌরসদরের সর্বমোট ৩৯টি জামে মসজিদে সকাল ৭টা থেকে শুরু করে সকাল ৯টা পর্যন্ত পৃথক পৃথক সময়ে ঈদের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজের নির্ধারিত সময়ের আগেই মুসল্লিরা নিজ নিজ জায়নামাজ নিয়ে মসজিদের ভেতরে প্রবেশ করেন ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে নামাজ আদায় করেন। নামাজ শেষে বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের মানুষকে করোনা নামক মহামারি ভাইরাস থেকে মুক্তির লক্ষ্যে, দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় এবং সারা বিশ্বের মুসলিম সম্প্রদায়কে হেফাজতে বিশেষ দোয়া করা হয়।
মোংলা: করোনা মহামারিতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেছেন মুসল্লিরা। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টায় বাগেরহাটের বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে ঈদের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এই মসজিদের বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক খোন্দকার মোহাম্মদ রিজাউল করিম, প্রশাসনের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করেন। জামাতে ইমামতি করেন বাগেরহাট কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল কালাম আযাদ।
এর পরে সকাল ৮টায় ষাটগম্বুজ মসজিদের ইমাম ও খতিব মাওলানা মো. হেলাল উদ্দিনের দ্বিতীয় জামাতের ইমামতি করেন। তৃতীয় ও শেষ জামাতে ইমামতি করেন ষাটগম্বুজ মসজিদের মুয়াজ্জিন ক্বারি মো. মুজিবুর রহমান।
প্রত্যেকটি জামায়াতেই মুসল্লিদের আধিক্য ছিল। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাই নামাজ আদায়ের চেষ্টা করেছেন। ঈদের জামায়াতে অংশ নেওয়া মুসল্লিদের নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য নিয়োজিত ছিলেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: করোনা মহামারির প্রভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে আনন্দঘন পরিবেশে শুক্রবার সকালে সারাদেশের ন্যায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদে মসজিদে স্বাস্থ্যবিধি মেনে পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করছেন জেলাবাসী।
ইতোপূর্বে খোলা আকাশের নিচে ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হলেও গতবছর এবং এবছর বৈশ্বিক করোনা মহামারির প্রভাবের কারণে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী মসজিদে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের নামাজ আদায় করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে পরপর তিনটি ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে সকাল সাড়ে ৭ টায়, সাড়ে ৮টা ও সকাল সাড়ে ৯টায় এই জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হয়। প্রধান জামাতে ইমামতি করেন সিদবাতুল্লাহ নূর খতিব জেলা জামে মসজিদ। প্রধান জামাতে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে ঈদের নামাজ আদায় করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়ত-উদ-দৌলা খানসহ জেলা প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ বিশিষ্ট জনেরা। ঈদের নামাজ আদায়কালে মুসল্লিরা মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনার পাশাপাশি বৈশ্বিক করোনা মহামারি থেকে মুক্তি লাভের জন্যে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
ঈদের নামাজ আদায় শেষে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খান বলেন, পবিত্র ক্ষণে সর্বস্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী’কে আমি পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। এবারের ঈদ করোনাভাইরাস মহামারি প্রেক্ষিতে একটু ভিন্নভাবে উদযাপিত হচ্ছে। আমরা সবাইকে ঘরে থেকে ঈদের আনন্দ উপভোগ করার জন্য এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য বলেছি। একই সঙ্গে আমরা দেশ ও জাতির জন্য দোয়া করেছি। পাশাপাশি সুস্থ সুন্দর পরিবেশে মাহে রমজানের শিক্ষা ধৈর্য এবং সংযমকে পাথেয় করে সামনের দিনগুলো যাতে আমরা দেশ গড়ার কাজে এগিয়ে যেতে পারি আজকে ঈদের এই পবিত্র প্রতিটি প্রত্যাশা করছি।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমামুন সরকার বলেন, ৩০ দিন রোজার পরে আজকে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় হয়েছে। করোনাভাইরাস সংক্রমণ থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহ রাব্বুল আল-আমীনের কাছে মোনাজাত করা হয়েছে। পাশাপাশি ফিলিস্তিন মুসলমানদের রক্ষায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়। এছাড়া ইসলামের নামে যারা এদেশে বিভিন্ন সময় অশান্তি সৃষ্টি করে এই অশান্তি থেকে দেশকে যাতে আল্লাহ মুক্ত করে সেজন্য দোয়া করা হয়েছে।
এদিকে শহরের জামিয়া ইউনুছিয়া জামে মসজিদ, ভাদুঘর শাহি জামে মসজিদ, কুমারশীল মোড় মদিনা মসজিদ, শেরপুর জামে মসজিদ, পুলিশ লাইস জামে মসজিদ, মেড্ডা বাসস্ট্যান্ড জামে মসজিদসহ বিভিন্ন মসজিদে কয়েক ধাপে ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।
বিগত বছর ঈদের নামাজ আদায় শেষে প্রথাগত কোলাকুলি ও হ্যান্ডশেক করলেও এবার সেটা লক্ষ্য করা যায়নি।

ময়মনসিংহ: ‘করোনামুক্ত বাংলাদেশ হউক’- এই দোয়ার মধ্য দিয়ে ময়মনসিংহে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা মেনে সকাল ৮টায় কেন্দ্রীয় আঞ্জুমান ঈদগাহ মসজিদে প্রথম ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। পরে একে একে মহানগরীর বিভিন্ন মসজিদে মসজিদে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হতে দেখা গেছে। সামাজিক দূরত্ব মেনে, মাস্ক পরে ও জায়নামাজ নিয়ে মুসল্লিরা মসজিদে এসেছেন। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করাসহ করোনামুক্ত বাংলাদেশ প্রত্যাশায় দোয়া করা হয়েছে। করোনা সংক্রমণ রোধে ঈদের নামাজ শেষে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের কোলাকুলি ও মুসাহা করতে দেখা যায়নি।
কক্সবাজার: ভাসানচরে এবার প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উদযাপন করছেন প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা। গত ডিসেম্বরে রোহিঙ্গাদের কক্সবাজার থেকে ভাসানচর স্থানান্তর শুরু হওয়ার পর এপ্রিল পর্যন্ত কয়েক দফায় প্রায় ১৯ হাজার রোহিঙ্গা সেখানে পৌঁছান। সরকারি কর্মকর্তাদের মতে সব রোহিঙ্গাই সেখানে স্বেচ্ছায় গেছেন।
শুক্রবার (১৪ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ভাসানচরস্থল নৌ-বাহিনীর আয়োজনে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ওয়ার হাউজে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। তবে তিন ভাগে ঈদের জামাত ভাগ করা হয়েছে। শারীরিক দূরত্ব এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে এসব জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ চরে শরণার্থী শিশু-কিশোররা সেজেগুজে, নতুন জামা-কাপড় পরে ভাসানচরে আনন্দে মেতে উঠেছে। ধর্মীয় এই উৎসব উপলক্ষে তাদের জন্য বিনোদন দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়ার হয়েছে।
যশোর: সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্যবিধি মেনে যশোরের বিভিন্ন মসজিদে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার সকাল ৮টায় যশোরে প্রধান ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় যশোর কালেক্টরেট মসজিদে। করোনা পরিস্থিতির কারণে একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শহরের অন্যান্য মসজিদগুলোতে একইভাবে নামাজ আদায় হয়েছে। অন্য বছরের মতো ঈদের জামাতে বৃদ্ধ ও শিশুদের উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। ছিল না নামাজ শেষে অতি পরিচিত কোলাকুলির দৃশ্য।
নামাজ শেষে করোনাভাইরাস থেকে আল্লাহর কাছে মুক্তি কামনা করে বিশেষ দোয়া করা হয়। প্রথম জামাতের পর দ্বিতীয় জামাতের জন্য জীবাণুনাশক ছিটিয়ে মসজিদ জীবাণুমুক্ত করা হয়।
দিনাজপুর: করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দেশের তথা উপমহাদেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহ ময়দান গোর-এ-শহীদ ঈদগাহ মাঠের পরিবর্তে এবার মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেছেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা। এবারে দিনাজপুর জেলার ১৩টি উপজেলার ৬ হাজার ৮০৮টি মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে। ঈদের নামাজ শেষে বর্তমান বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস থেকে দেশ, জাতিকে হেফাজত রাখতে ও মুসলিম উম্মাহ’র শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মুনাজাত করা হয়।
শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে সকাল সাড়ে ৯টা পর্যন্ত মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। মানুষের সংকুলান না হওয়ায় অনেক মসজিদে দুই থেকে তিনবার জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সকাল ৮টায় দিনাজপুর জেনারেল হাসপাতাল জামে মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় করেন সুপ্রিম কোর্ট হাইকোর্টের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম, জাতীয় সংসদের হুইপ ইকবালুর রহিম এমপি, দিনাজপুর জেলা ও দায়রা জজ আজিজ আহমেদ ভুইঞাসহ অন্যান্য মুসল্লিবৃদ। এখানে ইমামতি করেন মাওলানা শামসুল হক কাসেমী।
এদিকে দিনাজপুর জেলা শহরের দক্ষিণ লালবাগ জামে মসজিদ, কোতোয়ালি থানা জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং সকাল ৯টায় পশ্চিম পাটুয়াপাড়া জামে মসজিদে ঈদের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়া দিনাজপুর শহরর পশ্চিম বালুয়াডাঙ্গা, চাউলিয়াপট্টি খানকাহ রহমানিয়া জামে মসজিদ, কাঞ্চন কলোনি শাহী জামে মসজিদ, চাউলিয়াপট্টি মাটির মসজিদ, লালবাগ ১নং আহলে হাদিস জামে মসজিদ, ২নং আহলে হাদিস জামে মসজিদ, পাটুয়াপাড়া জামে মসজিদ, ঘাষিপাড়া ডাবগাছ জামে মসজিদ, বালুয়াডাঙ্গা কাঞ্চন ব্রিজ সংলগ্ন জামে মসজিদ, স্টেশন রোড জামে মসজিদ, জেল রোড কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, গোর এ শহীদ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, পুলিশ লাইন্স জামে মসজিদ, বালুবাড়ী শাহী জামে মসজিদ, দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ জামে মসজিদসহ জেলা শহরের শতাধিক মসজিদ ও জেলার ১৩টি উপজেলার ৬ হাজার ৮০৮টি মসজিদে ঈদুল ফিতরের নামাজের জামায়াত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজ শেষে খুৎবার পর আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের নিকট মহামারি করোনাভাইরাস থেকে দেশের মানুষকে হেফাজত করতে, করোনায় মৃত ব্যক্তিদের রুহের মাগফিরাত কামনা, আক্রান্তদের সুস্থতা কামনা এবং নিজ পরিবার, দেশ ও জাতিকে হেফাজত করার আকুতি জানিয়ে মুনাজাত করা হয়।
কিশোরগঞ্জ: করোনার কারণে এ বছরও সম্পূর্ণ ভিন্ন আবহে কিশোরগঞ্জে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সরকারের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে প্রায় ২০০ বছরের প্রাচীন দেশের সবচেয়ে বড় ঈদগাহ ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে এ বছরও জামাত অনুষ্ঠিত হয়নি।
শুধু শোলাকিয়ায় নয় এবার জেলার কোনও খোলা জায়গায় বা ঈদগাহে ঈদের জামাতের আয়োজন করা হয়নি। তবে জেলার ১৩টি উপজেলায় প্রায় সাড়ে ৫ হাজার মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এসব মসজিদে ঈদুল ফিতরের জামাত আয়োজন করেছে নিজ নিজ মসজিদ কমিটি।
শোলাকিয়ায় ঈদের জামাত না হলেও জেলা শহরে ঐতিহাসিক শহীদী মসজিদে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার সকাল ৮টা ও ৯টায় এ মসজিদে দুটি জামাত অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ বিপুল সংখ্যক মুসুল্লি স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে নামাজ আদায় করেন। তবে সাধারণ মুসল্লিদের মাঝে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব মানার প্রবণতা কম ছিল।
নামাজে শেষে করোনা দুর্যোগ থেকে মানবজাতিকে উদ্ধারের জন্য মহান আল্লাহর রহমত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। তাছাড়া মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয় মোনাজাতে।
একই সঙ্গে জেলা শহরের প্রাচীন পাগলা মসজিদে অনুষ্ঠিত তিনটি ঈদ জামাতেও বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন। এছাড়াও জেলার সকল মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রত্যেকটি মসজিদে একাধিক জামাতের আয়োজন করা হয়।
শোলাকিয়া ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. শামীম আলম বলেন, ঈদের দিন লাখো মানুষ শোলাকিয়ায় নামাজ আদায় করেন। এখানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে নামাজ আদায় করা কঠিন বিষয়। মুসল্লিদের জীবনের ঝুঁকি ও নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে শোলাকিয়ার ঈদের জামাত বন্ধ রাখা রয়েছে।








