সিরিজ ভাগাভাগি করে বছর শেষ বাংলাদেশের

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৩ years ago

Manual5 Ad Code

ক্রীড়া ডেস্ক :

চক্রপূরণ বাংলাদেশ করেছে আগেই। নিউজিল্যান্ডের মাঠে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো সিরিজ জয়ের সুবর্ণ সুযোগ আজ ছিল বাংলাদেশের। বছরের শেষ দিনে মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে অল্প পুঁজিতেও বাংলাদেশ চোখে চোখ রেখে লড়ছিল কিউইদের সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত সিরিজ ভাগাভাগি করেই বছর শেষ করতে হয়েছে বাংলাদেশের। বৃষ্টি আইনে ১৭ রানে জিতেছে নিউজিল্যান্ড।

Manual2 Ad Code

১১১ রানের লক্ষ্যে প্রথম ওভারেই ১২ রান নিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম ওভার করতে আসা বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনার তানভীর ইসলামকে ১টি করে চার ও ছক্কা মারেন ফিন অ্যালেন। তবে দুর্দান্ত শুরু করা কিউইদের উদ্বোধনী জুটি ভেঙে যায় ১৬ রানেই। দ্বিতীয় ওভারের চতুর্থ বলে টিম সাইফার্টকে স্টাম্পিংয়ের ফাঁদে ফেলেন শেখ মেহেদি হাসান। দুর্দান্ত সেই স্টাম্পিং করেন আজ বাংলাদেশের উইকেটরক্ষকের দায়িত্বে থাকা রনি তালুকদার।

সাইফার্টের বিদায়ের পর ব্যাটিংয়ে নামেন ড্যারিল মিচেল। সেই মিচেলকে এবারও আউট করেছেন মেহেদী। চতুর্থ ওভারের চতুর্থ বলে মেহেদীকে তুলে মারতে যান মিচেল। ঠিকমতো সংযোগ না হওয়ায় মিড অফে সহজে তালুবন্দী করেন নাজমুল হোসেন শান্ত। ঠিক তার পরের ওভারে আবারও উইকেটের দেখা পায় বাংলাদেশ। পঞ্চম ওভারের শেষ বলে গ্লেন ফিলিপসকে অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন শরীফুল ইসলাম।

এক ওভার বিরতিতে আরও এক উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। সপ্তম ওভারের পঞ্চম বলে মোস্তাফিজুর রহমানকে ডিপ কাভারে ঠেলে দুই রান নিতে যান ফিন অ্যালেন। রান নেওয়ার পথে কিউই দুই ব্যাটার অ্যালেন ও মার্ক চ্যাপম্যান দুজনে ধাক্কা খেয়েছেন। এই সময় নষ্টের সুযোগে নন স্ট্রাইক প্রান্তে চ্যাপম্যানকে রান আউট করেন মোস্তাফিজুর রহমান। ছন্দে থাকা অ্যালেনকে নিরাপদে স্ট্রাইক প্রান্তে ফিরতে দিয়ে নন স্ট্রাইক প্রান্তে গিয়েছেন চ্যাপম্যান। সাইফার্ট, মিচেল, ফিলিপস, চ্যাপম্যান প্রত্যেকেই আউট হয়েছেন ১ রান করে। তখনো পর্যন্ত একমাত্র দুই অঙ্ক পেরোনো অ্যালেনকে বোল্ড করে কিউইদের বিপদ আরও বাড়িয়েছেন শরীফুল। ৩১ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৩৮ রান করেন অ্যালেন। তাতে নিউজিল্যান্ডের স্কোর হয়েছে ৮.৩ ওভারে ৫ উইকেটে ৪৯ রান।

৫০-এর আগে ৫ উইকেট হারানো নিউজিল্যান্ডের ইনিংসের হাল ধরেন জিমি নিশাম ও মিচেল স্যান্টনার। বেশ সাবলীলভাবেই তাঁরা এগিয়েছেন। স্ট্রাইক রোটেট করেছেন। আবার বাজে বলে বাউন্ডারি মেরেছেন। ষষ্ঠ উইকেটে ৩৭ বলে ৪৬ রানের জুটি গড়েন নিশাম ও স্যান্টনার। নিউজিল্যান্ডের স্কোর ১৪.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৯৫ রান হওয়ার পরই বাগড়া দেয় বেরসিক বৃষ্টি। তখনই বৃষ্টি আইনে নিউজিল্যান্ড এগিয়ে ছিল ১৭ রানে। এরপর আর খেলা না হওয়ায় জিতে যায় কিউইরা। তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ শেষ হয় ১-১ সমতায়।

ম্যাচসেরা হয়েছেন নিউজিল্যান্ড অধিনায়ক স্যান্টনার। ৪ ওভার বোলিংয়ে ১৬ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন তিনি। আফিফ হোসেন ধ্রুব, তাওহীদ হৃদয়, মেহেদী, শামীম পাটোয়ারী-দ্রুত চার ব্যাটারকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ গুঁড়িয়ে দিয়েছেন। ব্যাটিংয়ে ২০ বলে ১ চারে ১৮ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন স্যান্টনার।

Manual4 Ad Code

এর আগে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিং পাওয়া বাংলাদেশ ১৯.২ ওভারে ১১০ রানে অলআউট হয়েছে। ইনিংস সর্বোচ্চ ১৭ রান করেন অধিনায়ক শান্ত। নিউজিল্যান্ডের বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নিয়েছেন স্যান্টনার।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে সিরিজসেরা হয়েছেন শরীফুল। ৬.১০ ইকোনমিতে সিরিজে সর্বোচ্চ ৬ উইকেট নিয়েছেন। নেপিয়ারে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ২৬ রানে নিয়েছেন ৩ উইকেট। এরপর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে পরিত্যক্ত দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ১ উইকেট নিয়েছেন। একই মাঠে আজ ৩.৪ ওভার বোলিং করে ১৭ রানে নিয়েছেন ২ উইকেট।

আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের বছরটা শুরু হয়েছে দুর্দান্ত। ঘরের মাঠে বাংলাদেশ ২০২২ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ডকে ৩-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করেছে। এরপর ঘরের মাঠেই আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতে বাংলাদেশ। সিলেটে আফগানিস্তানকে ২-০ ব্যবধানে ধবলধোলাই করে বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে তিন সিরিজেই বাংলাদেশের অধিনায়ক ছিলেন সাকিব আল হাসান। সাইফ হাসানের নেতৃত্বে এরপর বাংলাদেশ ব্রোঞ্জ জেতে এশিয়ান গেমসে। আর শান্তর নেতৃত্বে নিউজিল্যান্ডের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-১ সমতায় বছর শেষ করে বাংলাদেশ। যার মধ্যে নেপিয়ারের ম্যাকলিন পার্কে ২৭ ডিসেম্বর নিউজিল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়ে প্রথমবারের মতো তাদের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে জয় পায় বাংলাদেশ।

Manual5 Ad Code

সম্পাদনা : রুমি

Manual8 Ad Code

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code