

নিউজ ডেস্ক: সিলেটে একদিনের ব্যবধানে পেঁয়াজের দাম কেজিতে ২০০ টাকা ছাড়িয়েছে। গতকাল শুক্রবার ভারত সরকার ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত বর্হিবিশ্বে পেঁয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে এক আদেশ জারি করে। এরপরই সিলেটে পেঁয়াজের দাম বাড়তে থাকে। শুক্রবার পেঁয়াজ পাইকারিতে ১০০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও শনিবার তা বেড়ে দাঁড়ায় ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। এ ছাড়া খুচরা বাজারে পেঁয়াজ ২১০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের ক্রয়ের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যটি।
সিলেটের প্রধান পাইকারি আড়ৎ নগরের কালীঘাটে গিয়ে দেখা যায়, সকাল ১০টার দিকে ১০০ টাকা পাইকারি দরে পেঁয়াজ বিক্রি হলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকে পেঁয়াজের দাম। অনেকেই আবার পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দেন। এদিকে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বাড়ার খবরে খুচরা দোকানেও হু হু করে বাড়তে শুরু করে পেঁয়াজের দাম। খুচরা বাজারের কোথাও কোথাও ভারতীয় পেঁয়াজের কেজি বিক্রি হচ্ছে ২১০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে।
পেঁয়াজ কিনতে আসা ক্রেতারা জানান, খুচরা দোকানে শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১০০ টাকার পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকা কেজি দরে। এমন অবস্থায় কালীঘাটে পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলেন আড়তদাররা। তবে শনিবার সকাল থেকে কালীঘাট আড়তে পেঁয়াজের দাম ১৮০ থেকে ২০০ টাকা পাইকারি দরে বিক্রি হয়। নগরে সকাল থেকে খুচরা দোকানগুলোতে পেঁয়াজের দামও অস্বাভাবিক অবস্থায় চলে গেছে।
হঠাৎ করে পেঁয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। সকালের দিকে পেঁয়াজ কিনতে যাওয়া নগরের বাসিন্দা মিনহাজ আবেদীন জানান, ‘এক রাতেই কিভাবে ৬০ থেকে ৮০ টাকা বেড়ে যায়। দোকানিরা মজুত রেখে ১ থেকে ২ কেজির বেশি পেঁয়াজ বিক্রি করছেন না। কিন্তু দাম যখন আরও বাড়বে তাঁরা বিক্রি শুরু করবেন। এতে আড়তদার ও দোকানিরা বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে তাঁরা এসব করছেন। প্রশাসনের কাছে বাজার মনিটরিংয়ের দাবি জানাই।’
ব্যবসায়ী মামুনুল হক বলেন, ‘কালীঘাটে এক রাতে কি পেঁয়াজ শেষ হয়ে গেল? এক রাতেই দাম বেড়ে গেল ৫০ টাকা কেজিপ্রতি।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কালীঘাটের এক ব্যবসায়ী জানান, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর থেকে পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছিল প্রকারভেদে ১০০-১০২ টাকা কেজিতে। পেঁয়াজ রপ্তানি নিয়ে ভারতের একটি সিদ্ধান্ত গতকাল (শুক্রবার) প্রকাশ পাওয়ার পরপরই অনেকেই পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছিলেন। অথচ খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আড়ৎদাররা কিংবা অন্যান্য কালীঘাটের ব্যবসায়ীদের কাছে পেঁয়াজের প্রচুর মজুদ রয়েছে। কিন্তু ভারতের একটি সংবাদ শোনার পরপরই রাতারাতি কাঁচা টাকা উপার্জন করতে তাঁরা পেঁয়াজ বিক্রি বন্ধ রাখেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরুল হাসান জানান, ‘বাজার নিয়ন্ত্রণে সিলেটে দুপুরেও অভিযান চালানো হয়েছে এবং রাতেও হবে। কোথাও অতিরিক্ত দামে পেঁয়াজ বিক্রি হলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’