সিলেটে তাপপ্রবাহ অব্যাহত, তীব্র গরমে অতীষ্ঠ মানুষ

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৪ years ago

Manual2 Ad Code

ডেস্ক রিপোর্ট : সিলেটে শুক্রবারও তাপপ্রবাহ অব্যাহত ছিল। তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করেছে মানুষ। গরমের সাথে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎবিভ্রাট। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, শনিবারও অব্যাহত থাকবে এমন গরম।

আবহাওয়া অধিদপ্তর, সিলেটের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, শুক্রবার সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিলো ৩৬. ৪ ডিগ্রী সেলসিয়াস। যা বৃহস্পতিবার থেকে ২ ডিগ্রী কম।

শনিবারও ৩৬ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, ৩৬ ডিগ্রীর উপরে তাপমাত্রা থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ ধরা হয়। যা শনিবারও অব্যাহত থাকবে। তবে আজ থেকে আগামীকাল শনিবার তাপমাত্রা একটু কমতে পারে।

রোববার থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

টানা বৃষ্টি আর দীর্ঘ বন্যায় এমনিতেই কাহিল অবস্থা সিলেটবাসীর। এবার গরমে ওষ্ঠাগত প্রাণ। কদিন থেকেই তাপদাহ চলছে সিলেটে। তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রির নিচে নামছেই না।

সিলেট নগরের সাগরদীঘির পার এলাকার বাসিন্দা সোহাগ আহমদ বলেন, ‘একদিকে রোদের তীব্রতা অন্যদিকে লোডশেডিং। ঘরে-বাইরে কোথাও একদণ্ড শান্তিতে বসার সুযোগ নেই। গরম বাড়ার সঙ্গেসঙ্গে লোডশেডিংও বেড়ে গেছে।’

বৃহস্পতিবার সিলেটে তাপমাত্রা উঠেছিল ৩৮.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। যা জুলাই মাসে ৬৬ বছরের রেকর্ড বলে জানিয়েছে সিলেট আবহাওয়া অফিস।

সিলেটে জুন মাসে ৬৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের পর এখন তীব্র তাপদাহে অতিষ্ঠ জনজীবন।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী জানান, ১৯৫৬ সালের পর ১৪ জুলাই ২০২২ সিলেটে তাপমাত্রা ৩৮.৯ ডিগ্রীতে পৌঁছলো।

এর আগের দিন বুধবার সিলেটের তাপমাত্রা ছিল ৩৭.৩ ও মঙ্গলবার ৩৬.৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, সিলেট বিভাগের ওপর দিয়ে গত কদিন ধরে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। এই তাপপ্রবাহের কারণেই এমন গরম অনুভূত হচ্ছে।

গরমের এই তীব্রতার কারণে এখন সবাই বৃষ্টির দিকে তাকিয়ে আছে। বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা সহনীয় হয়ে উঠবে বলে সবাই আশা করে আছেন। যদিও আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, বৃষ্টির অপেক্ষা আরও দু-একদিন করতে হতে পারে। চলমান তাপপ্রবাহ থাকতে পারে আরও দুই দিন।

এদিকে তীব্র তাপমাত্রায় হাঁসফাঁস দশায় পড়েছে মানুষ। নগর ছাড়িয়ে গ্রাম, সর্বত্র গরমের তীব্রতায় ভুগছে মানুষ। দিনে-রাতে সমানতালে গরমের দাপট। অস্বাভাবিক তাপদাহের কারণে জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগব্যাধিতে প্রায় ঘরে ঘরে অসুস্থ হচ্ছে মানুষ। হাসপাতাল-ক্লিনিক, ডাক্তারের চেম্বারে বাড়ছে রোগীর ভিড়। বিপাকে পড়েছেন রিকশাচালক, ভ্যানচালক, হকারসহ কর্মজীবীরা। এর মধ্যে কষ্টের তীব্রতা আরো বাড়িয়ে দিয়েছে লোডশেডিং।

শুক্রবার নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ঈদুল আজহার ছুটির আমেজের কারণে সড়ক অনেকটাই ফাঁকা। রাস্তাঘাটে যে চলাচল থাকার কথা, সেই চলাচলও দেখা যায়নি। দুপুরের কড়া রোদ এড়াতে রাস্তাঘাটে মানুষের চলাচল একেবারেই ছিল কম। একান্ত প্রয়োজনে যারা বেরিয়েছেন, তাদের কারও কারও হাতে ছাতাও দেখা গেছে। কমবেশি সবার হাতেই রয়েছে পানির বোতল। মাঝে মাঝে গলা ভিজিয়ে নিচ্ছেন অনেকে। অনেককে দেখা গেছে, ফুটপাতের আখের রস, বেল বা লেবুর শরবতে গলা ভিজিয়ে নিতে।

Manual2 Ad Code

শুক্রবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহীতে, ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এছাড়া দেশের ৮ বিভাগেই বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

শুক্রবার (১৫ জুলাই) বৃষ্টির ঋতু আষাঢ়ের শেষ দিন, ৩১ তারিখ। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে শুক্রবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রংপুর বিভাগ ছাড়া দেশের সব বিভাগেই কম বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এর মাঝে সর্বোচ্চ বৃষ্টি হয়েছে বগুড়ায়, ১৮ মিলিমিটার। এ সময়ে ঢাকায় বৃষ্টি হয়েছে ২ মিলিমিটার।

Manual5 Ad Code

বৃহস্পতিবার ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শুক্রবার সকাল ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।

Manual8 Ad Code

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন জানান, ঢাকা, টাঙ্গাইল, রাঙ্গামাটি, কুমিল্লা, চাঁদপুর, ফেনী ও চূয়াডাঙ্গাসহ রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

তিনি আরও জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী ও খুলনা বিভাগরে দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও বিচ্ছিন্নভাবে মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এছাড়া আগামী তিনদিনের আবহাওয়া পূর্বাভাসে তিনি জানান, আগামী তিনদিনের শেষের দিকে বৃষ্টির প্রবণতা বৃদ্ধি পেতে পারে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ১৬-১৭ জুলাই পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই থাকতে পারে। মাঝে মাঝে কোথাও হালকা বৃষ্টি হলেও গরম খুব একটা কমবে না। গরম কমতে হলে টানা বৃষ্টি হতে হবে। ১৭ বা ১৮ জুলাইয়ের পর বৃষ্টির পরিমাণ কিছুটা বাড়তে পারে।

Manual7 Ad Code

তিনি বলেন, তাপমাত্রা এখন গড়ে ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে আছে। মৌসুমি বায়ুর কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বেশি। গরমে ঘেমে গেলেও ঘাম শুকাচ্ছে না। ফলে ভ্যাপসা একটা ভাব তৈরি হচ্ছে। এ কারণে যতটুকু তাপমাত্রা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি তাপ অনুভূত হচ্ছে।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code