সিলেটে রায়হান হত্যা: এক সাক্ষীর ‘আত্মহত্যা’, আরেকজনকে ‘হুমকি’

লেখক: Shiuly
প্রকাশ: ৫ years ago

Manual5 Ad Code

নিউজ ডেস্কঃ 

সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) বন্দরবাজার ফাঁড়িতে হেফাজতে রায়হান আহমদ হত্যা মামলার ঘটনার অন্যতম সাক্ষী চুলাই লাল ‘আত্মহত্যা’ করেছেন বলে জানিয়েছেন রায়হানের মা সালমা বেগম। এছাড়া আরেক সাক্ষী হাসানকে সাক্ষ্য না দিতে ‘হুমকি’ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

আজ রবিবার রায়হান হত্যা মামলার শুনানিতে আদালতে উপস্থিত হন তা মা সালমা বেগম। সেখানে অপেক্ষামান সাংবাদিকদের কাছে তিনি এমন অভিযোগ করেন।

Manual4 Ad Code

সালমা বেগম বলেন, ‘রায়হানকে কাষ্টঘরের চুলাই লালের ঘর থেকে সুস্থভাবে ধরে আনে পুলিশ। তাকে মারধর করে রায়হানকে ধরে আনা হয়। চুলাই লাল হলো প্রথম সাক্ষী। সে নাকি দুই মাস আগে মারা গেছে। এখন আমি শুনছি, কেউ কেউ বলছে, পুলিশও বলছে, সে নাকি আত্মহত্যা করেছে। আমি সঠিক জানি না সে আত্মহত্যা করেছে কিনা বা সে কিভাবে মারা গেছে।’

Manual6 Ad Code

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘আমার আরেকটা সাক্ষী, যে পাশের কুদরতউল্লাহ মার্কেটের দুতলা থাকে, হাসান (সাক্ষী) নামের একজন বলেছিল, সারারাত আমার রায়হান যে কাঁদছিল, চিৎকার করছিল সে নিজের কানে শুনেছে। সকালে সে আমাদেরকে জানিয়েছিল যে, রায়হান মারা গেছে। সে এখন ঢাকায় আছে। তাকেও এখন হুমকি দেওয়া হচ্ছে। কে বা কারা হুমকি দিচ্ছে?’

বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির একেবারে লাগোয়া হচ্ছে কুদরতউল্লাহ মার্কেট।

Manual1 Ad Code

রায়হানের মা বলেন, ‘(হাসানকে) হুমকি দিয়ে বলা হচ্ছে, তুমি কোথায় আছো? তুমি সাক্ষী দিতে যাবে না। নানান রকম হুমকি দিচ্ছে। কে বা কারা হুমকি দিচ্ছে, সে জানে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই যে দুজন সাক্ষী, প্রথম দুইজন, একজন তো মারাই গেল…কিভাবে মারা গেলে আমি জানি না। আর হাসানকেও হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এখন তো আমি মনে করি, আমারও এখন নিরাপত্তা নাই। আমাদের কারোরই নিরাপত্তা নাই। তারা (আসামিরা) জেলে থেকে থেকে যেভাবে হুমকি দিচ্ছে, আমি তো মনে করি, তারা জেলে থাকলেও তাদের প্রভাব তারা ঠিকই খাটাচ্ছে।’

সালমা বেগম বলেন, ‘এরা যদি জেল থেকে বেরিয়ে যায়, তাহলে আরো কতো রায়হান মারা যাবে! যাতে আর কোনো রায়হান মারা না যায়, সেজন্য এদেরকে ফাঁসির আওতায় আনতে হবে।’

রায়হানের মা সালমা বেগমের অভিযোগ এবং চুলাই লালের আত্মহত্যার বিষয়ে জানতে নগরীর কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আলী মাহমুদকে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

গত বছরের ১১ অক্টোবর ভোরে সিলেট শহরের আখালিয়ার এলাকার বাসিন্দা রায়হান আহমদকে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে নির্যাতন করা হয়। পরে তাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তিনি সেখানে মারা যান। পরদিন তার স্ত্রী তাহমিনা আক্তার তান্নী কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটির তদন্তে প্রথমে পুলিশ ছিল। পরে সে বছরের ১৩ অক্টোবর মামলাটি স্থানান্তর করা হয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) কাছে। চলতি বছরের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১ হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

Manual8 Ad Code

যে ছয়জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেওয়া হয়, তাদের পাঁচজনই পুলিশ সদস্য। তারা হলেন- বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভুঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটুচন্দ্র দাস ও হারুনুর রশিদ। অভিযুক্ত অপরজন আব্দুল্লাহ আল নোমান, যার বাড়ি কোম্পানীগঞ্জে। তার বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযুক্ত পাঁচ পুলিশ সদস্য কারাগারে থাকলেও নোমান এখনও পলাতক রয়েছেন। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ভারতে পালিয়ে গেছেন।

গত ৩০ সেপ্টেম্বর সিলেটের অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর আদালতের বিচারক আবুল মোমেন রায়হান হত্যা মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেন। বাদীপক্ষ চার্জশিটের বিপক্ষে নারাজি দেয়নি। আদালত পলাতক নোমানের বিরুদ্ধে পরোয়ানাও জারি করেন।

এদিকে, পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে তার শরীরে ১১১টি আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।

প্রসঙ্গত, রায়হান হত্যা ঘটনার পর পালিয়ে যান এসআই আকবর। পরে গত বছরের ৯ নভেম্বর দুপুরে সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার লক্ষীপ্রসাদ ইউনিয়নের ডোনা সীমান্ত এলাকা থেকে এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন, ১০ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি চান তদন্ত কর্মকর্তা; আদালত সাত দিনের আবেদনই মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ১৭ নভেম্বর তাকে আদালতে হাজির করা হয়। আদালত আকবরকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন।
Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code