

ডেস্ক নিউজ :: বিশিষ্ট কুটনীতিবিদ ও জাতিসংঘে বাংলাদেশের সাবেক স্থায়ী প্রতিনিধি ড: এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন,এক সময়ের অগ্রসরমান সিলেট এখন নানা ভাবে পিছিয়ে পড়েছে। সরকারের নানা প্রচেষ্ঠার পর ও অবকাঠামো, স্বাস্থ্য, শিক্ষা সহ এসব খাতে প্রায় সকল সূচকে সিলেট এখন নিম্নমুখী। তিনি সিলেটের সার্বিক উন্নয়নে সরকারের পাশাপাশি প্রবাসী সিলেটবাসীদের ও এগিয়ে আসার আহবান জানান।
রবিবার সিলেট সদর এসোসিয়েশন অব মিশিগানের উদ্যোগে পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষ্যে প্রতি বছরের ন্যায় এক বিষেশ ইফতার ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। বাংলাদেশ এভ্যিনুস্থ আলাদিনস রেষ্টুরেন্টে এই ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
জনাব মোমেন তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ডের বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং আগামী দিনে সিলেটকে একটি দৃষ্টি নন্দন,আধুনিক ও ভবিষ্যতের জন্য বসবাসের উপযোগী শহর হিসাবে গড়ে তুলতে তার স্বপ্নের পরিকল্পনার কথা জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কামউনিটি নেতা বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব মিশিগানের সাবেক সভাপতি ও ডেট্রয়েট পাবলিক স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক শাহ আব্দুল খালিশ মিনার,সদর এসোসিয়েশন মিশিগানের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ও উপদেষ্টা মোসাদ্দেক কোরেশী শামীম,উপদেষ্টা হাজী সমজিদ আলম।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেট সদর এসোসিয়েশন মিশিগানের সভাপতি খালেদ আহমদ। অন্যান্যের মধ্যে সিলেট সদর এসোসিয়েশন মিশিগানের সাধারণ সম্পাদক জামিল চৌধুরী,প্রতিষ্ঠাতা কোষাধ্যক্ষ মনোয়ার হোসেন, প্রতিষ্ঠাতা প্রচার সম্পাদক আলমাছ আলী মিন্টু,প্রতিষ্ঠাতা ক্রীড়া সম্পাদক নাজমুল হক ফলিক,সৈয়দ হোসেন রায়হান,সুলতান আলম এনাম,সৈয়দ লোকমান মিয়া গেদন,আলমগীর আলী,জামান রাসেল,নিজাম উদ্দিন,শাহ ছমির উদ্দিন,রফিকুল ইসলাম,মাহফুজুল করিম জেহিন,এডভোকেট মুজিবুর রহমান শাহীন,শাহীনের বড় ভাই মন্জুর রহমান,সুহেল আহমদ,শিবলী আহমদ,ফয়সল আহমদ,মো: সোহেল,রিয়াজ উদ্দিন ও আমেরিকান এম এস সি প্রডাকশন এর ম্যানেজার, ফয়ছল আহমদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়াও কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন মতিন চৌধুরী,খলকুর রহমান, আজাদ খান, নজরুল রহমান, এডভোকেট দিপক চৌধুরী,বাবুল মিয়া সোহেল,নিজাম পিন্টু,নিনা ফ্যাশনের স্বতাধিকারী মোহাম্মদ জামান, খালেদ আহমদ প্রমুখ ।
অনুষ্ঠানের মোনাজাত পরিচালনা করেন হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শাহ আব্দুল খালিশ মিনার তার বক্তব্যে সিলেট সদরের অনুষ্ঠানের ভূয়ষী প্রশংসা করে এর আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান। জনাব মিনার বলেন,সিলেট সদরের সাথে আমার সর্ম্পক অত্যন্ত গভীর। সিলেট সদরের কার্যক্রম সব সময়ই প্রশংসার দাবী রাখে। আগামীতে আরো ব্যাপক পরিসরে সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন অনুষ্ঠান মিশিগানবাসী সিলেট সদরের কাছে
প্রত্যাশা করে।তিনি প্রধান অতিথিকে মিশিগানে আগমনের জন্যে সকলের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানান।
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি শাহ আব্দুল খালিশ মিনারের নাগরিকত্ব আইনে প্রবাসীদের অধিকার ক্ষুন্ন ও খর্ব হয়েছে এ সম্পকিত এক প্রশ্ন ও জোরালো দাবীর প্রেক্ষিতে এর জবাবে ড: মোমেন একমত পোষন করেন এবং এই আইনের প্রায় ৫টি ক্লজের উল্লেখ করেন, যেগুলো প্রবাসীদের স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক। জনাব মোমেন প্রবাসীদের আস্ব্যস্থ করে বলেন, এবিষয়ে তার প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা হয়েছে এবং
প্রধানমন্ত্রী এব্যাপারে খুবই আন্তরিক।তিনি নিজে আইনমন্ত্রীকে এবিষয়ে কার্যকর ও সঠিক পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ড: আব্দুল মোমেন সিলেট বাদাঘাট বাইপাস,সিলেটে একটি পূণাঙ্গ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গিকার ও সিলেট-ঢাকা ছয়লেনের মহাসড়ক এবং সিলেট এমএজি ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমান বন্দরকে পূণাঙ্গ আর্ন্তজাতিককরন সহ সিলেট অঞ্চলে সরকারের চলমান বাস্তবায়নাধীন বেশ কিছু বড় প্রকল্পের বিষয় প্রবাসীদের সামনে তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও সিলেট সদর এসোসিয়েশন মিশিগানের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক ও উপদেষ্টা হেলাল উদ্দীন রানা।
হেলাল উদ্দীন রানা প্রধান অতিথিকে উদ্দেশ্যে করে বলেন,আজকে এখানে উপস্থিত লোকজনের মধ্যে বিভিন্ন মত ও পথের মানুষ আছেন।তবে আপনার ব্যাপারে আমরা সবাই আন্তরিক।আপনি যদি সিলেট-১ আসন থেকে নির্বাচন করেন এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকে মনোনয়ন দেন,অবশ্যই আপনি আমাদের সর্বাত্বক সাহায্য-সহযোগীতা পাবেন।প্রয়োজনে আমরা দেশে গিয়েও আপনার ক্যাম্পেইনের জন্যে কাজ করবো ইনশাল্লাহ। এসময় উপস্থিত কয়েক’শ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেন ও ব্যাপক হাততালি দিয়ে প্রধান অতিথিকে উৎসাহ প্রদান করেন।
পরে প্রধান অতিথিকে সিলেট সদর এসোসিয়েশন মিশিগানের পক্ষ থেকে নেতৃবৃন্দ একটি ক্রেষ্ট প্রধান করা হয়।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী সদরবাসীসহ সর্বস্তরের বাংলাদেশীরা অংশগ্রহন করেন।