

সংগ্রাম দত্ত
বাংলাদেশের মেহেরপুর জেলার আনন্দবাস গ্রামে নেমে এলো গভীর শোকের ছায়া। সীমান্তের ওপারে ভারতের নদীয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামে মৃত্যু হয়েছে জাহানারা বেগমের। মায়ের মৃত্যুসংবাদ শুনে মেহেরপুরে থাকা তাঁর কন্যা অচেতন হয়ে পড়েন। শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার আকাঙ্ক্ষা বুকের ভেতর তীব্র হয়ে ওঠে। কিন্তু ভিসাজনিত জটিলতা ও দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ–ভারত ট্যুরিস্ট ভিসা বন্ধ থাকায় জানাজা বা দাফনে যোগ দেওয়ার কোনো সুযোগ ছিল না তাঁর।
এই অসহায় পরিস্থিতিতে ভরসার হাত বাড়িয়ে দেন সীমান্ত রক্ষী বাহিনী। শোকাহত কন্যার জামাই ও স্বজনরা যোগাযোগ করেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর সঙ্গে। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে বিজিবি দ্রুত যোগাযোগ করে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে।
মানবিক এই আবেদনে বিএসএফ-ও আন্তরিক সাড়া দেয়। অবশেষে ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ সকাল ১১টার দিকে সীমান্তে দেখা যায় এক বিরল দৃশ্য। জাহানারা বেগমের মরদেহ সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় আনা হয়, যেখানে তাঁর কন্যা, জামাই ও নাতি-নাতনিরা শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখতে পান। মুহূর্তেই কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো সীমান্ত এলাকা।
এই হৃদয়স্পর্শী ঘটনার ভিডিও ও তথ্য সাংবাদিক ফাইজার চৌধুরী পাঠান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের “বঙ্গ ভিটা” পেইজে। পেইজ কর্তৃপক্ষ মানবিক ঘটনাটি প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মাঝে। দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এ উদ্যোগকে আন্তরিকভাবে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সবাই।
রাজনীতি, আইন-কানুন কিংবা ভিসার কড়াকড়ি—সবকিছুর ঊর্ধ্বে মানুষে মানুষে সম্পর্ক, ভালোবাসা ও মমতার কোনো সীমানা নেই। জাহানারা বেগমের মৃত্যু ঘিরে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফের এই সহযোগিতা আবারও সেই সত্যকে নতুনভাবে তুলে ধরল।